রাজধানীতে চলছে তিন দিনের মোটরগাড়ি ও বাইকের প্রদর্শনী
রাজধানীতে শুরু হয়েছে মোটরগাড়ি ও মোটরবাইকের বড় আয়োজন। আধুনিক প্রযুক্তি ও আকর্ষণীয় নকশার নতুন মডেল নিয়ে গতকাল (বৃহস্পতিবার) কুড়িলের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরাতে উদ্বোধন হয়েছে তিন দিনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘১৯তম ঢাকা অটো সিরিজ অব এক্সিবিশন্স’।
একই ভেন্যুতে একসঙ্গে চলছে ঢাকা মোটর শো, ঢাকা বাইক শো এবং ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল বাংলাদেশ এক্সপো।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম এ কামাল বিল্লাহ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন-এর পরিচালক অনুপম সাহা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এর মহাপরিচালক গাজী এ কে এম ফজলুল হক এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক প্রতিষ্ঠান সেমস-গ্লোবালের ইউএসএ অ্যান্ড এশিয়া প্যাসিফিক বিভাগের সভাপতি ও গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেরুন এন ইসলাম।

উদ্বোধনী বক্তব্যে মেহেরুন এন ইসলাম বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত গুরুত্ব পাচ্ছে। বৈদ্যুতিক যানবাহনের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি সাশ্রয়ী ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ছে। এই প্রদর্শনী একদিকে প্রচলিত অটোমোটিভ খাতকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে, অন্যদিকে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণেও পথ দেখাবে।
এবারের আয়োজনে জাপান, ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যসহ মোট ১০টি দেশের ৭০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। দর্শনার্থীরা মিতসুবিশি, টয়োটা, মার্সিডিজ বেঞ্জ, হুন্ডা, এমজি, প্রোটন, চাঙ্গান, গ্যাক মোটরস ও ডংফেন-এর নতুন মডেলের গাড়ি ঘুরে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।
দুই চাকার বাহনের মধ্যে রয়েছে জিহো বাংলাদেশ, সিএফ মটো বাংলাদেশ, লংজিয়া ও ভিমোটো। বাণিজ্যিক যানবাহনের ক্ষেত্রে অংশ নিয়েছে ফোটন ও ফোরল্যান্ড। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মোটরযন্ত্রাংশ ও আনুষঙ্গিক পণ্যও প্রদর্শন করছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মোটর শো দেশে অটোমোটিভ খাতের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী। এখানে ক্রেতা, উদ্যোক্তা ও সাধারণ দর্শনার্থীরা নতুন মডেলের যানবাহন, যন্ত্রাংশ এবং প্রযুক্তি সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নিতে পারছেন।
ঢাকা বাইক শো অংশে মোটরবাইক, স্কুটার, ইজিবাইক ও হালকা বৈদ্যুতিক যানবাহন প্রদর্শিত হচ্ছে। জ্বালানি সংকটের প্রভাবের কারণে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও বাইকের প্রতি আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে দেখা গেছে। ফলে এসব যানবাহনই দর্শকদের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
প্রদর্শনীর ১ নম্বর হলে বাণিজ্যিক, বৈদ্যুতিক ও ব্যক্তিগত গাড়ি এবং বিক্রয়োত্তর যন্ত্রাংশ সংযোজনের উপকরণ রাখা হয়েছে। ২ ও ৪ নম্বর হলে রয়েছে গাড়ি ও ইলেকট্রিক যানবাহন, আর ৩ নম্বর হলে প্রদর্শিত হচ্ছে মোটরসাইকেল ও বৈদ্যুতিক বাইক। দর্শনার্থীদের জন্য টেস্ট ড্রাইভের সুযোগও রাখা হয়েছে।
২৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।