স্টারলিংকের প্রতিদ্বন্দ্বী স্যাটেলাইট প্রকল্পে ব্যর্থ রাশিয়া
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নিজস্ব স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবস্থা গড়ে তোলার রুশ উদ্যোগে বড় ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টারলিংকের বিকল্প হিসেবে তৈরি করা রাশিয়ার ‘রাসভেত’ স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের প্রথম ব্যাচের একটি উপগ্রহ মাত্র ৭৫ দিন কক্ষপথে থাকার পর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে এসে ধ্বংস হয়ে গেছে।
প্রকল্পটি রাশিয়ার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যার লক্ষ্য সামরিক ও বেসামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। তবে প্রথম ধাপেই এই ধরনের ব্যর্থতায় প্রকল্পটির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ মার্চ ‘রাসভেত’ প্রকল্পের প্রথম ব্যাচের স্যাটেলাইটগুলো উৎক্ষেপণ করা হয়। এর মধ্যে একটি স্যাটেলাইট, যেটি ‘অবজেক্ট ৪’ নামে চিহ্নিত এবং ট্র্যাকিং সিস্টেমে ৬৮৩৬৩ নম্বর হিসেবে নথিভুক্ত। এটি কোনো ধরনের কক্ষপথ সংশোধন বা উচ্চতা বৃদ্ধির কার্যক্রম সম্পন্ন করেনি বা ব্যর্থ হয়েছে।
ধীরে ধীরে উচ্চতা হারাতে হারাতে সেটি প্রায় ৭৫ দিনের মাথায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ধ্বংস হয়ে যায়। পর্যবেক্ষণ তথ্য অনুযায়ী, স্যাটেলাইটটি কোনো অরবিটাল ম্যানুভার করেনি, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে এর প্রপালশন সিস্টেমে ত্রুটি বা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা থাকতে পারে।
রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থা রসকসমস বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এমনকি উৎক্ষেপণ নিয়েও শুরুতে প্রকাশ্য কোনো ঘোষণা ছিল না। পরে বুরো ১৪৪০ নামের একটি রুশ স্যাটেলাইট যোগাযোগ কোম্পানি মহাকাশে স্যাটেলাইট মোতায়েনের ভিডিও প্রকাশ করলে মিশনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
প্রকল্পের অন্যান্য স্যাটেলাইটের কার্যক্রমে মিশ্র চিত্র দেখা যাচ্ছে। কিছু স্যাটেলাইট কক্ষপথের উচ্চতা বাড়াচ্ছে, আবার কিছু নির্দিষ্ট কক্ষপথে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। তবে প্রথম ধাপেই একটি উপগ্রহ হারানোকে বড় প্রযুক্তিগত ধাক্কা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘রাসভেত’ প্রকল্পটি রাশিয়ার নিজস্ব স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক তৈরির একটি উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ, যা বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় স্টারলিংকের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছিল। কিন্তু প্রথম পর্যায়ের এই ব্যর্থতা পুরো প্রকল্পের অগ্রগতিকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
এর আগে রাশিয়া বিদেশি স্যাটেলাইট যোগাযোগের ওপর নির্ভরতা কমাতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে নতুন এই প্রকল্পে প্রথম দিকেই ব্যর্থতা দেশটির মহাকাশ কর্মসূচির জন্য একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র : ইউনাইটেড২৪ মিডিয়া