পুরোনো স্মার্টফোনেই মিলবে ১০ কাজে নতুন সমাধান

Tech World Desk

টেক ওয়ার্ল্ড ডেস্ক

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:৪৮

পুরোনো স্মার্টফোনেই মিলবে ১০ কাজে নতুন সমাধান
ছবি : পিসিম্যাগ

ড্রয়ারে পড়ে থাকা পুরোনো স্মার্টফোনটি অনেকের কাছেই অপ্রয়োজনীয় মনে হতে পারে। নতুন মডেল হাতে আসার পর আগের ডিভাইসটি ধীরে ধীরে ব্যবহারহীন হয়ে পড়ে। কিন্তু এই ছোট্ট ডিভাইসেই লুকিয়ে আছে নানা সম্ভাবনা।

সঠিকভাবে ব্যবহার করলে পুরোনো স্মার্টফোনই হয়ে উঠতে পারে ঘরের নিরাপত্তা, বিনোদন, শেখা কিংবা জরুরি যোগাযোগের নির্ভরযোগ্য সহকারী। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই এটি আবার নতুন জীবন পেতে পারে। নিচে এমন ১০টি ব্যবহার বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

ঘরের নিরাপত্তা ক্যামেরা

পুরোনো স্মার্টফোনকে সহজেই নিরাপত্তা ক্যামেরায় রূপান্তর করা যায়। এর জন্য নির্দিষ্ট অ্যাপ দুইটি ফোনেই ইনস্টল করতে হবে। একটি হবে ক্যামেরা, অন্যটি পর্যবেক্ষণ যন্ত্র। পুরোনো ফোনটি দরজা, বারান্দা বা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করে বিদ্যুৎ সংযোগে রাখুন। এরপর যেকোনো সময় নতুন ফোন থেকে লাইভ ভিডিও দেখা যাবে। বাড়ির বাইরে থাকলেও নজর রাখা সহজ হয়।

শিশুদের জন্য নিরাপদ ডিভাইস

শিশুরা প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হতে চায়। তাদের হাতে সরাসরি নতুন ফোন না দিয়ে পুরোনোটি ব্যবহার করতে দেওয়া ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে। এতে খরচ কমে এবং ঝুঁকিও কম থাকে। ওয়াই-ফাই সংযোগের মাধ্যমে তারা ছবি তুলতে পারে, পড়াশোনার অ্যাপ ব্যবহার করতে পারে, বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলতে পারে বা গেম খেলতে পারে। অভিভাবকরা সহজেই নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন।

গেম খেলার আলাদা ডিভাইস

অনেকেই গেম খেলতে গিয়ে মূল ফোনের স্টোরেজ বা ব্যাটারি নিয়ে সমস্যায় পড়েন। পুরোনো স্মার্টফোনটি এই ক্ষেত্রে আলাদা গেমিং ডিভাইস হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে নতুন গেম ডাউনলোড করা যাবে, আবার ক্লাউড গেমিংয়ের মাধ্যমেও বিভিন্ন গেম খেলা সম্ভব। ফলে মূল ফোন সবসময় স্বাভাবিক কাজে ব্যবহার করা যাবে।

ভিডিও কলের নির্দিষ্ট যন্ত্র

বর্তমানে ভিডিও কলে কথা বলা খুবই সাধারণ বিষয়। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে পুরোনো ফোনটি আলাদা ভিডিও কল ডিভাইস হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে মূল ফোন ব্যস্ত থাকে না। বিশেষ করে অনলাইন ক্লাস বা ভার্চুয়াল মিটিংয়ের সময় এটি বেশ কাজে আসে।

তারবিহীন ওয়েবক্যাম

ডেস্কটপ কম্পিউটারে ক্যামেরা না থাকলে বা ল্যাপটপের ক্যামেরা নষ্ট হলে পুরোনো ফোনই হতে পারে সমাধান। কিছু সফটওয়্যার ব্যবহার করে ফোনটিকে কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত করলে এটি ওয়েবক্যামের কাজ করবে। ভিডিও মিটিং বা অনলাইন ক্লাসের জন্য এটি সহজ ও কার্যকর বিকল্প।

অ্যালার্ম ঘড়ি হিসেবে ব্যবহার

রাতে ঘুমানোর সময় অনেকেই ফোন ব্যবহার করতে করতে দেরি করে ফেলেন। এই অভ্যাস কমাতে পুরোনো ফোনটি অ্যালার্ম ঘড়ি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। বিছানার পাশে এটি রেখে নির্দিষ্ট সময় সেট করুন। এতে মূল ফোন দূরে রাখা যায় এবং ঘুমের মানও ভালো থাকে।

টিভির রিমোটের বিকল্প

স্ট্রিমিং ডিভাইসের ছোট রিমোট প্রায়ই হারিয়ে যায়। তখন নতুন রিমোট কেনার ঝামেলা হয়। পুরোনো স্মার্টফোনে সংশ্লিষ্ট অ্যাপ ব্যবহার করে সহজেই রিমোটের কাজ করা যায়। টিভি চালানো, চ্যানেল বদলানো বা কনটেন্ট নির্বাচন সবই করা সম্ভব।

ই-বুক পড়ার ডিভাইস

যারা বই পড়তে ভালোবাসেন, তাদের জন্য পুরোনো ফোনটি হতে পারে ই-বুক পড়ার চমৎকার মাধ্যম। বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে বই, ম্যাগাজিন বা কমিকস পড়া যায়। এতে আলাদা ই-বুক রিডার কেনার প্রয়োজন পড়ে না। যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায় পড়া সম্ভব হয়।

আলাদা মিডিয়া প্লেয়ার

গান শোনা, সিনেমা দেখা বা পডকাস্ট শোনার জন্য আলাদা ডিভাইস থাকলে মূল ফোনের ওপর চাপ কমে। পুরোনো ফোনটি এই কাজেই ব্যবহার করা যায়। এতে ব্লুটুথ স্পিকার বা ইয়ারফোন যুক্ত করে সহজেই বিনোদন উপভোগ করা যায়। ভ্রমণের সময়ও এটি বেশ কাজে লাগে।

জরুরি যোগাযোগের ফোন

সিম কার্ড না থাকলেও অনেক স্মার্টফোন জরুরি নম্বরে কল করতে পারে। তাই একটি পুরোনো ফোন সবসময় চার্জ দিয়ে রাখা যেতে পারে। গাড়িতে বা বাসায় এটি রাখা থাকলে বিপদের সময় দ্রুত যোগাযোগ করা সম্ভব। বিশেষ করে বয়স্ক সদস্যদের জন্য এটি বাড়তি নিরাপত্তা দেয়।

পুরোনো স্মার্টফোন ফেলে না দিয়ে একটু ভিন্নভাবে ভাবলেই এর ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার জানলে একটি পুরোনো ডিভাইসই হয়ে উঠতে পারে দৈনন্দিন জীবনের কার্যকর সহচর।

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন