ভারতে টেলিগ্রামে নিষেধাজ্ঞা, ভিপিএন ও বিকল্প খুঁজছেন ব্যবহারকারীরা

TechWorld Desk

টেকওয়ার্ল্ড ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ২০:০০

ভারতে টেলিগ্রামে নিষেধাজ্ঞা, ভিপিএন ও বিকল্প খুঁজছেন ব্যবহারকারীরা
ছবি : টেকক্রাঞ্চ

ভারতে টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার পরপরই ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ ভিপিএন এবং বিকল্প মেসেজিং অ্যাপের দিকে ঝুঁকেছেন। পরীক্ষাসংক্রান্ত জালিয়াতি ঠেকাতে সরকারের এই পদক্ষেপের পর দেশজুড়ে ভিপিএন ডাউনলোডে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।

অ্যাপ বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাপফিগারস জানিয়েছে, টেলিগ্রাম ব্লকের ঘোষণা দেওয়া দিনই ভারতে ভিপিএন অ্যাপ ডাউনলোড এ বছর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। দৈনিক গড় ১ লাখ ৩৯ হাজার ডাউনলোড থেকে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮ হাজারে, যা প্রায় ৪৯ শতাংশ বেশি।

জনপ্রিয় ভিপিএন সেবাগুলোর মধ্যে প্রোটন ভিপিএন ও টার্বো ভিপিএনের ডাউনলোড সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। অ্যাপ স্টোরে প্রোটন ভিপিএনের ডাউনলোড বেড়েছে ১১৩ শতাংশ এবং টার্বো ভিপিএনের ৮৫ শতাংশ। গুগল প্লেতেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। এছাড়া নর্ডভিপিএন ও এক্সপ্রেসভিপিএনও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এই উল্লম্ফনের ফলে অ্যাপ স্টোরের তালিকায় ভিপিএন অ্যাপগুলোর অবস্থান দ্রুত উপরের দিকে উঠে আসে।

ভারত সরকার জানিয়েছে, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা এনইইটি পুনঃপরীক্ষার আগে ভুয়া প্রশ্নপত্র ও প্রতারণা ছড়াতে টেলিগ্রাম ব্যবহার হচ্ছিল। তাই ২২ জুন পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

তবে টেলিগ্রাম এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করে। তাদের দাবি, পুরো প্ল্যাটফর্ম বন্ধ না করে নির্দিষ্ট ক্ষতিকর কনটেন্ট সরানো উচিত। যদিও আদালত জরুরি পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সরকারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।

টেলিগ্রাম বন্ধ থাকায় অনেক ব্যবহারকারী সিগন্যাল, ভাইবারসহ অন্যান্য মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার শুরু করেছেন। অ্যাপফিগারসের তথ্যমতে, ভারতে সিগন্যালের ডাউনলোড অ্যাপ স্টোরে ৭২ শতাংশ এবং গুগল প্লেতে ৩২২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ভাইবারের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।

টেলিগ্রাম-সংশ্লিষ্ট অ্যাপ আইএমই-এর ডাউনলোডও হঠাৎ বেড়ে যায়, যা একদিনে কয়েকশ থেকে বেড়ে কয়েক হাজারে পৌঁছায়।

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও টেলিগ্রামের দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারী বরং ১৭ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অনেক ব্যবহারকারী ভিপিএন ব্যবহার করে অ্যাপটি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

এছাড়া ক্লাউডফ্লেয়ার জানিয়েছে, টেলিগ্রাম ডোমেইনে ডিএনএস অনুরোধও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা ব্যবহারকারীদের বারবার অ্যাক্সেসের চেষ্টার ইঙ্গিত দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো প্ল্যাটফর্মে নিষেধাজ্ঞা এলেই সাধারণত ভিপিএন ব্যবহারে এমন বৃদ্ধি দেখা যায়। এর আগে বিভিন্ন দেশে একই ধরনের পদক্ষেপের পরও এমন প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

বর্তমানে বিশ্বের অন্তত ১৩টি দেশে টেলিগ্রাম পুরোপুরি বা আংশিকভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে এবং অতীতেও বহু দেশে এ ধরনের বাধার মুখে পড়েছে প্ল্যাটফর্মটি।