বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হওয়া অ্যাপ চ্যাটজিপিটি
ওপেনএআইয়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত চ্যাটবট বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হওয়া অ্যাপ হিসেবে শীর্ষে উঠেছে। এক সময়ের জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপগুলো পেছনে চলে গেছে। তরুণ ব্যবহারকারীরা এখন সমস্যার দ্রুত সমাধান ও বিনোদনের জন্য এআইকে বেছে নিচ্ছেন।
নতুন তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ২০২৫ সালে চ্যাটজিপিটি ৪৬ মিলিয়ন বার ডাউনলোড হয়েছে। এর মধ্যে আইওএস প্লাটফর্মে ১৩ মিলিয়ন এবং অ্যান্ড্রয়েডে ৩৩ মিলিয়ন ডাউনলোড হয়েছে। একই সময়ে ইনস্টাগ্রামও ৪৬ মিলিয়ন বার ডাউনলোড হয়েছে, তবে আইওএসে মাত্র ৫ মিলিয়ন। টিকটক ছিল তৃতীয়, ৪৫ মিলিয়ন ডাউনলোড নিয়ে।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত চ্যাটজিপিটির ডাউনলোড ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ১৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অ্যাপ অ্যানালাইটিক্স প্রতিষ্ঠান অ্যাপ ফিগারসের সিইও অ্যারিয়েল মাইকেলি বলেন, চ্যাটজিপিটি এখন অনেকের কাছে একটি ক্রিয়াপদ হয়ে উঠেছে। মানুষ এখন এআই বলে ভাবেন না, চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেন।
চ্যাটজিপিটি দ্রুত জনপ্রিয় হয় যখন ওপেনএআই এতে ছবি তৈরি করার ফিচার যোগ করে। ব্যবহারকারীরা স্টুডিও ঘিবলি অনুপ্রাণিত ছবি তৈরি করতে শুরু করেন। তবে চাহিদা এত বেশি হয় যে ওপেনএআই’র সিইও স্যাম অল্টম্যান ব্যবহারকারীদের অনুরোধ করেন বেশি ছবি তৈরি না করতে। তিনি বলেন, “দয়া করে ছবি তৈরি ধীরগতিতে করুন, আমাদের দলও বিশ্রাম চাই।”
নতুন ফিচার চালুর এক সপ্তাহের মধ্যে ১ কোটি ৩০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ এটি ব্যবহার করেছেন এবং ৭০০ মিলিয়নেরও বেশি ছবি তৈরি হয়েছে।
চ্যাটজিপিটি কেবল ডাউনলোডে নয়, আয়ের ক্ষেত্রেও শীর্ষে। ২০২৩ সালের মে মাসে চালুর পর আগস্ট পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ভোক্তাদের কাছ থেকে আয় করেছে ২০০ কোটি ডলার।
বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক অ্যাপের মধ্যে মাত্র ১ শতাংশই ব্যবহারকারীর মনোযোগ কাড়ে। শীর্ষ পর্যায়ের অ্যাপগুলো মোট ডাউনলোডের প্রায় ৮০ শতাংশ দখল করে। অনেক অ্যাপ একবার আপলোডের পর আর আপডেট পায় না। প্রযুক্তি জগতে এ ধরনের অ্যাপকে ‘ঘোস্ট অ্যাপ’ বলা হয়।
চ্যাটজিপিটি তরুণদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয়। দ্রুতগতির ডাটা, কম ল্যাটেন্সি এবং উন্নতমানের অভিজ্ঞতা প্রদানে এটি উদাহরণ স্থাপন করেছে।
সূত্র : এনডিটিভি