ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা নীতি শিথিল, বহাল অর্থদণ্ডের বিধান
ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৬-এর সংশোধনীর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, এখন আর সব ধরনের ব্যবহারকারীর উপাত্ত বাংলাদেশে সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক নয়। একই সঙ্গে প্রযুক্তি কোম্পানির ক্ষেত্রে জেল শাস্তির বিধান বাতিল করা হয়েছে। সরকারের আশা, এতে দেশে তথ্য ও ক্লাউড সেবায় বিনিয়োগ বাড়বে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
নতুন নিয়মে শুধু সরকারের নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামো সংক্রান্ত উপাত্ত দেশেই সংরক্ষণ করতে হবে। সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশে যেসব খাতকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামো হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, এই বিধান কেবল সেগুলোর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
এর আগে গত বছরের নভেম্বর মাসে জারি করা অধ্যাদেশে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে ব্যবহারকারীর সব উপাত্তের অন্তত একটি সমন্বিত তাৎক্ষণিক কপি বাংলাদেশে রাখতে বলা হয়েছিল। সংশোধিত অধ্যাদেশে এই বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে। এখন এই নিয়ম কার্যকর থাকবে শুধু সীমিত ব্যক্তিগত উপাত্তের ক্ষেত্রে। অর্থাৎ ক্লাউডে সংরক্ষিত এমন উপাত্তের একটি সমন্বিত তাৎক্ষণিক কপি দেশে রাখতে হবে, যেগুলোকে সীমিত ব্যক্তিগত উপাত্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

শাস্তির বিধানেও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। আগের অধ্যাদেশ অনুযায়ী ব্যক্তিগত উপাত্ত লঙ্ঘন বা ব্যবহারকারীর অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জেল ও অর্থদণ্ড দুই ধরনের শাস্তির সুযোগ ছিল। সংশোধনের পর জেল শাস্তির বিধান পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে এসব ক্ষেত্রে কেবল আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশে লাখ লাখ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সার্চ সেবা ব্যবহার করেন। এসব সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশের কিছু ধারা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। সেই উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়েই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই সংশোধনের ফলে বাংলাদেশে উপাত্ত ও ক্লাউডভিত্তিক সেবায় বিনিয়োগ বাড়বে বলে সরকার আশা করছে।
সংশোধিত অধ্যাদেশে সীমিত ব্যক্তিগত উপাত্ত বলতে এমন উপাত্তকে বোঝানো হয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো কিংবা কোনো ব্যক্তির মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এর মধ্যে শ্রেণিভুক্ত উপাত্ত, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ উপাত্ত এবং সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সীমিত হিসেবে ঘোষিত অন্য যেকোনো ব্যক্তিগত উপাত্ত অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
এই সংশোধনের মাধ্যমে সরকার একদিকে যেমন ব্যক্তিগত উপাত্তের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চায়, অন্যদিকে প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির বার্তাও দিচ্ছে।