নতুন ল্যাপটপের বদলে পুরাতন ল্যাপটপ কেনার ৪ সুবিধা

TechWorld Desk

টেকওয়ার্ল্ড ডেস্ক

রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ১৬:২৮

নতুন ল্যাপটপের বদলে পুরাতন ল্যাপটপ কেনার ৪ সুবিধা

নতুন ল্যাপটপ কেনার সময় দাম ও কার্যক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় করা অনেকের জন্য কঠিন। বিশেষ করে ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারের ল্যাপটপে নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব ও উন্নত হার্ডওয়্যার সুবিধাও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে নতুন ল্যাপটপের বিকল্প হতে পারে রিফারবিশড (পুরাতন) ল্যাপটপ। এগুলো সাধারণত প্রস্তুতকারক বা বিক্রেতার মাধ্যমে পরীক্ষা, মেরামত ও পরিষ্কার করে ব্যবহারের উপযোগী করা হয়। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট বিএজিআর-এর এক প্রতিবেদনে রিফারবিশড ব্যবসায়িক ল্যাপটপ কেনার চারটি সুবিধা তুলে ধরা হয়েছে।

তুলনামূলক কম দাম

পুরাতন ল্যাপটপ কেনার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সাশ্রয়ী দাম। নতুন ল্যাপটপের তুলনায় একই ধরনের বৈশিষ্ট্যের রিফারবিশড মডেল ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কম দামে পাওয়া যেতে পারে। কয়েক বছর আগের মডেল হলেও তাতে দৈনন্দিন ও ব্যবসায়িক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় বেশির ভাগ সুবিধা থাকতে পারে।

এ ছাড়া এসব ল্যাপটপে র‍্যাম বাড়ানো, এসএসডি সংরক্ষণক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যাটারি পরিবর্তনের সুযোগ থাকে। ফলে তুলনামূলক কম খরচে ল্যাপটপের কার্যক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে ব্যবসায়িক ল্যাপটপের উন্নত নিরাপত্তাব্যবস্থা ও মজবুত কাঠামোর সুবিধাও পাওয়া যায়।

নির্ভরযোগ্যতা ও ওয়ারেন্টি

ব্যবহৃত ল্যাপটপ কেনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সংশয় থাকে। তবে পুরাতন ল্যাপটপ সাধারণত বিক্রির আগে পরীক্ষা, মেরামত ও পরিষ্কার করা হয়। ত্রুটিপূর্ণ বা অতিরিক্ত ক্ষয়প্রাপ্ত যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করে এগুলো ব্যবহারের উপযোগী করা হয়।

এ ধরনের ল্যাপটপের সঙ্গে সাধারণত ৯০ দিন থেকে এক বছর পর্যন্ত ওয়ারেন্টি পাওয়া যায়। ব্র্যান্ডভেদে ওয়ারেন্টির মেয়াদ ভিন্ন হতে পারে। তবে কেনার আগে বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ওয়ারেন্টি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান দিচ্ছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।

দীর্ঘস্থায়ী কাঠামো

পুরাতন ল্যাপটপের স্থায়িত্ব শুধু যন্ত্রাংশ মেরামতের ওপর নির্ভর করে না, মূল মডেলটির নির্মাণমানও গুরুত্বপূর্ণ। তাই নামকরা ব্র্যান্ডের ব্যবসায়িক ল্যাপটপ বেছে নেওয়া ভালো। যেমন লেনোভোর থিংকপ্যাড টি সিরিজ বা এইচপির এলিটবুক সিরিজের ল্যাপটপগুলো মজবুত কাঠামো ও কঠোর মান যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়।

এসব মডেলের কিছু সামরিক মানদণ্ড এমআইএল-এসটিডি-৮১০জি অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়। ফলে আঘাত, তাপমাত্রার পরিবর্তনসহ বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকার সক্ষমতা থাকে।

পরিবেশের জন্য ভালো

পুরাতন ল্যাপটপ ব্যবহারের মাধ্যমে পুরোনো যন্ত্রের আয়ু বাড়ানো যায়। এতে নতুন যন্ত্রাংশ তৈরির জন্য কাঁচামালের চাহিদা কমে এবং সচল যন্ত্রাংশ ফেলে দেওয়ার পরিবর্তে পুনরায় ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়।

ফলে ইলেকট্রনিক বর্জ্য কমাতেও সহায়তা করে রিফারবিশড ল্যাপটপ। তুলনামূলক কম খরচে ভালো মানের যন্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি পরিবেশের ওপর প্রযুক্তিপণ্যের নেতিবাচক প্রভাব কমানোরও সুযোগ তৈরি হয়।

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন