স্মার্ট হোমের স্পিকার থেকে থার্মোস্ট্যাটে সেরা যেসব ব্র্যান্ড
স্মার্ট হোম প্রযুক্তির বিভিন্ন পণ্যে ব্যবহারকারীদের আস্থার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সোনোস, অ্যামাজন, রোবোরক, ওয়াইজ, কাসা স্মার্ট ও ইকোবি। স্মার্ট স্পিকার, ডিসপ্লে, রোবট ভ্যাকুয়াম ক্লিনার, স্মার্ট লাইট, প্লাগ ও থার্মোস্ট্যাটের মতো পণ্যের ব্র্যান্ডগুলো নিয়ে করা জরিপে এসব প্রতিষ্ঠান সেরা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ব্যবহারকারীরা প্রতিদিনের কাজে ব্যবহার করা পণ্যগুলোর শব্দের মান, নির্ভরযোগ্যতা, ব্যবহার সহজ হওয়া, দাম ও সামগ্রিক সন্তুষ্টির মতো বিষয় মূল্যায়ন করেছেন।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট পিসিম্যাগের ২০২৬ সালের ‘রিডার্স চয়েস’ জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। পিসিম্যাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষণা প্রতিষ্ঠান সোর্সরেডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ৫৭ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো স্মার্ট হোম প্রযুক্তি ব্যবহার করবেন। ২০২৪ সালে এ হার ছিল ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ। সোর্সরেডির ভাষ্য, স্মার্ট হোম প্রযুক্তি এখন আর বিলাসী পণ্য নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় সুবিধায় পরিণত হয়েছে।
সোর্সরেডি এই পরিবর্তনের পেছনে বিভিন্ন নির্মাতার ইন্টারনেট-সংযুক্ত যন্ত্রের মধ্যে সহজে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করা ‘ম্যাটার’ নামের বৈশ্বিক উন্মুক্ত প্রযুক্তি মানের প্রসারকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে, স্ট্যাটিসটার এক জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ শতাংশ মানুষ জীবনকে সহজ করতে স্মার্ট হোম প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চান। ৩১ শতাংশের লক্ষ্য ঘরের কার্যকারিতা বাড়ানো, আর ২৫ শতাংশ মনে করেন, স্মার্ট হোমে বসবাস করলে নিরাপত্তা বাড়ে।
পিসিম্যাগের স্মার্ট হোম পণ্য পর্যালোচক অ্যান্ড্রু গেবহার্টের মতে, স্মার্ট হোমের ভালো যন্ত্রপাতি খুব বেশি পরিশ্রম ছাড়াই দৈনন্দিন জীবনকে সুবিধাজনক করতে পারে। সঠিকভাবে সেটআপ করা হলে ব্যবহারকারী বাড়ির বাইরে থাকলেও এসব যন্ত্র ঘর পরিষ্কার করতে পারে। পাশাপাশি বাড়ি ফেরার সময় পছন্দ অনুযায়ী তাপমাত্রা ও আলোর ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারে।
স্মার্ট স্পিকার ও ডিসপ্লেতে শীর্ষে সোনোস ও অ্যামাজন
স্মার্ট সহকারী-নির্ভর যন্ত্রের বাজারে অ্যাপল নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করতে চায়। প্রতিষ্ঠানটি নভেম্বর মাসে ২৯৯ মার্কিন ডলারের ‘হোমভিউ’ স্মার্ট ডিসপ্লে বাজারে আনার পরিকল্পনা করেছে। তবে বর্তমানে এ বাজারে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা অ্যামাজন ও গুগলের মধ্যে। প্রতিষ্ঠান দুটি নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সহকারী দিয়ে পরিচালিত স্মার্ট স্পিকার ও ডিসপ্লে বিক্রি করে। অ্যামাজনের ইকো পণ্যে এখন অ্যালেক্সা প্লাস ডিফল্ট সহকারী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যদিকে, গুগল হোম স্পিকারের মতো নতুন স্মার্ট হোম যন্ত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘জেমিনি ফর হোম’।
তবে স্মার্ট স্পিকার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে পিসিম্যাগের পাঠক জরিপে সেরা নির্বাচিত হয়েছে সোনোস। প্রতিষ্ঠানটি এর আগে স্পিকার ও হেডফোনবিষয়ক জরিপেও চারবার শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। শব্দের মান, দামসহ বিভিন্ন বিভাগে সোনোস, অ্যামাজন, অ্যাপল ও গুগলকে পেছনে ফেলেছে। শব্দের মানের জন্য সোনোস ১০-এর মধ্যে ৯ দশমিক ৪ নম্বর পেয়েছে, যা অন্য ব্র্যান্ডগুলোর চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তবে দামের ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে গুগল।
জরিপে অংশ নেওয়া সোনোসের এক ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটির স্পিকারের শব্দ নির্ভরযোগ্য এবং পুরোনো স্পিকারের মতো বারবার পুনর্বিন্যাস করতে হয় না। তবে পণ্যের দামকে তিনি এর প্রধান দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আরেকটি সীমাবদ্ধতা হলো, সোনোসের যন্ত্রে অ্যালেক্সা প্লাস ব্যবহার করা যায় না। এতে কেবল অ্যালেক্সার পুরোনো সংস্করণের সঙ্গে সংযোগের সুবিধা রয়েছে।
পিসিম্যাগের ভোক্তা ইলেকট্রনিকস বিভাগের প্রধান পর্যালোচক উইল গ্রিনওয়াল্ডের মতে, তৃতীয় পক্ষের যন্ত্রে অ্যালেক্সা ও গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের সমর্থন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে সোনোসের স্পিকার কেবল অ্যালেক্সা সমর্থন করে। তবে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আকর্ষণ হলো শব্দের মান এবং পুরো বাড়িতে একসঙ্গে অডিও ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুবিধা।
স্মার্ট ডিসপ্লের বাজারে লেনোভো ও জেবিএলের মতো নির্মাতারা পিছিয়ে পড়ায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মূল প্রতিযোগী অ্যামাজন ও গুগল। অ্যামাজনের ইকো শো এবং গুগলের নেস্ট হাব সিরিজ এ বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সামগ্রিক সন্তুষ্টি ও নির্ভরযোগ্যতায় ভালো ফল করায় এ বিভাগে পিসিম্যাগের পাঠক জরিপের পুরস্কার পেয়েছে অ্যামাজন। পণ্য সেটআপ ও ব্যবহার সহজ হওয়ার ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটি ভালো করেছে।
তবে প্রতিযোগিতাটি বেশ কাছাকাছি। স্মার্ট ডিসপ্লে অন্যদের কাছে সুপারিশ করার আগ্রহ এবং শব্দের মানের ক্ষেত্রে অ্যামাজন ও গুগল সমান নম্বর পেয়েছে। ডিসপ্লের মান ও ভিডিও স্ট্রিমিংয়ে সামান্য এগিয়ে রয়েছে গুগল।
জরিপে অংশ নেওয়া অ্যামাজনের এক ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, আবহাওয়ার খবর দেখা, টাইমার ব্যবহার ও গান শোনার মতো দৈনন্দিন কাজে তার স্মার্ট ডিসপ্লে নির্ভরযোগ্য এবং ব্যবহার করা সহজ। কয়েক বছর ব্যবহারের পরও যন্ত্রটি ভালোভাবে কাজ করছে এবং স্মার্ট হোম ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
গ্রিনওয়াল্ডের মতে, স্মার্ট ডিসপ্লের বাজারে অ্যামাজন তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয়। গুগলের স্মার্ট ডিসপ্লের মডেল কম এবং নতুন মডেল আনতেও প্রতিষ্ঠানটি ধীরগতিতে এগোচ্ছে। বর্তমানে গুগলের তালিকায় রয়েছে পাঁচ বছর আগের দ্বিতীয় প্রজন্মের ৭ ইঞ্চি নেস্ট হাব এবং সাত বছর আগের ১০ ইঞ্চি নেস্ট হাব ম্যাক্স। অন্যদিকে, অ্যামাজনের রয়েছে পাঁচটি ইকো শো মডেল। এর মধ্যে টেবিলে রাখার উপযোগী ৫, ৮ ও ১১ ইঞ্চির তিনটি মডেল এবং দেয়ালে লাগানো যায় এমন ১৫ ও ২১ ইঞ্চির দুটি মডেল রয়েছে। এসব ডিসপ্লে ডিজিটাল ছবির ফ্রেম ও ভিডিও স্ট্রিমিং যন্ত্র হিসেবেও কাজ করে। এতে নিজস্ব রিমোট এবং ফায়ার টিভি ইন্টারফেসও রয়েছে।
গ্রিনওয়াল্ড মনে করেন, অ্যাপল ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্র্যান্ডটির প্রতি আনুগত্যের কারণে হোমভিউ স্মার্ট ডিসপ্লে বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ৭ ইঞ্চি ডিসপ্লের একটি স্মার্ট যন্ত্রের জন্য ২৯৯ মার্কিন ডলার বেশ চড়া দাম। এর নকশা আকর্ষণীয় এবং টেবিলে রাখা বা দেয়ালে লাগানোর সুবিধা রয়েছে।
রোবট ভ্যাকুয়ামে টানা দ্বিতীয়বার সেরা রোবোরক
রোবট ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ও মপের মতো মেঝে পরিষ্কারের যন্ত্রের বিভাগে টানা দ্বিতীয় বছর এবং ২০২২ সালের পর তৃতীয়বারের মতো শীর্ষস্থান অর্জন করেছে রোবোরক। জরিপে পর্যাপ্ত সংখ্যক ব্যবহারকারীর মতামত পাওয়া অন্য প্রতিষ্ঠানটি হলো রুমবা ব্র্যান্ডের নির্মাতা আইরোবট। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালের শেষ দিকে দেউলিয়া সুরক্ষার জন্য আবেদন করেছিল।
অন্যদের কাছে পণ্য সুপারিশ করার আগ্রহের ক্ষেত্রে আইরোবটের চেয়ে প্রায় দুই নম্বর এগিয়ে রয়েছে রোবোরক। ব্যাটারির স্থায়িত্বে প্রতিষ্ঠানটি ১০-এর মধ্যে ৮ দশমিক ৭ এবং ঘরের মানচিত্র তৈরির সক্ষমতায় ৮ দশমিক ৯ নম্বর পেয়েছে। সামগ্রিক সন্তুষ্টিতে আইরোবট রোবোরকের চেয়ে এক নম্বরেরও বেশি পিছিয়ে রয়েছে। শব্দের মাত্রা, পরিষ্কারের গতি ও ব্যাটারির স্থায়িত্বসহ আরও কয়েকটি বিভাগেও প্রতিষ্ঠানটি পিছিয়ে।
জরিপে অংশ নেওয়া রোবোরকের এক ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তার কেনা প্রযুক্তিপণ্যের মধ্যে রোবোরক ভ্যাকুয়াম অন্যতম সেরা। কেনার আগে বিজ্ঞাপনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও যন্ত্রটি প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল দিয়েছে। তার মতে, রোবোরকের ভ্যাকুয়াম করার ক্ষমতা এতটাই ভালো যে এটি ঘরের প্রচলিত ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের চেয়েও বেশি শক্তিশালী বলে মনে হয়েছে।
পিসিম্যাগের পর্যালোচক গেবহার্টের মতে, রোবোরকের ভ্যাকুয়াম ক্লিনারগুলো পরীক্ষায় সাধারণত ভালো ফল করে। উদ্ভাবনী প্রযুক্তি যুক্ত করার ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে। এর একটি মডেলে মেঝে থেকে জিনিসপত্র তুলে নেওয়ার জন্য রোবটের হাত রয়েছে। সারোস রোভার নামের আসন্ন একটি মডেল সিঁড়ি বেয়ে ওঠার পাশাপাশি পরিষ্কার করতে পারবে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে সাম্প্রতিক সমস্যার পর আইরোবটের নতুন ঘোষণা করা রুমবা মডেলগুলোও সম্ভাবনাময় বলে মনে করেন গেবহার্ট।
স্মার্ট লাইটে ওয়াইজ ও কাসা স্মার্টের সমান নম্বর
স্মার্ট লাইটের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম দামের দুই ব্র্যান্ড ওয়াইজ ও কাসা স্মার্ট সামগ্রিক সন্তুষ্টিতে সমান ৮ দশমিক ৪ নম্বর পেয়েছে। তবে অন্য বিভাগগুলোতে ভালো ফল করায় এগিয়ে রয়েছে ওয়াইজ। স্মার্ট লাইটের বিভাগে ২০২০ সালের পর এবারই প্রথম পিসিম্যাগের পাঠক জরিপের পুরস্কার পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
নির্ভরযোগ্যতা ও ব্যবহার সহজ হওয়ার ক্ষেত্রে ওয়াইজ ১০-এর মধ্যে ৮ দশমিক ৮ এবং মোবাইল অ্যাপের মানে ৮ দশমিক ৯ নম্বর পেয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া এক ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তার ব্যবহার করা ওয়াইজের আটটি স্মার্ট বাল্বের মধ্যে একটি নষ্ট হলেও প্রতিষ্ঠানটি বিনা মূল্যে সেটি বদলে দিয়েছে। তার মতে, বাল্বগুলোর দামও যুক্তিসংগত। চার বছরের বেশি সময়ে নতুন বাল্ব কেনার প্রয়োজন হয়নি।

যেসব বিভাগে ওয়াইজের পণ্য মূল্যায়ন করা হয়নি, যেমন ভয়েস কন্ট্রোল, রঙের বৈচিত্র্য ও অবস্থানভিত্তিক সুবিধা, সেসব ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে ফিলিপস হিউ। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১৪ বছর আগে প্রথম বাণিজ্যিক স্মার্ট লাইট বাজারে এনেছিল। তবে এ ব্র্যান্ডের পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি। চলতি বছরের জরিপে দামের ক্ষেত্রে ফিলিপস হিউয়ের নম্বরই একমাত্র ৬-এর নিচে ছিল।
পিসিম্যাগের ভোক্তা ইলেকট্রনিকস বিভাগের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক অ্যাঞ্জেলা মোসকারিটো জানিয়েছেন, তিনি নিজেও ওয়াইজের স্মার্ট লাইট ব্যবহার করেন এবং ভালো অভিজ্ঞতার কারণে তার মা-বাবার জন্যও বাল্ব কিনেছেন। এসব বাল্ব পুরোনো নকশার বাতিতেও ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি ঋতু অনুযায়ী রঙ বদলানো এবং অ্যালেক্সার ভয়েস কমান্ড দিয়ে আলো নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
মোসকারিটোর মতে, ঘরের স্থাপত্যের বিশেষ অংশকে আলোকিত করা বা বিনোদন ব্যবস্থায় পরিবেশ তৈরি করতে ওয়াইজের লাইট স্ট্রিপ তুলনামূলক কম দামে ভালো সুবিধা দেয়। এ ছাড়া ওয়াইজ নাইট লাইট চলাচল শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আলো জ্বালাতে পারে, ফলে রাতে ঘরের ভেতর চলাচল নিরাপদ হয়। এসব লাইট কয়েক মিনিটের মধ্যে স্থাপন করা যায় এবং চার্জ শেষ হলে ইউএসবি-সি সংযোগের মাধ্যমে চার্জ দেওয়া যায়।
স্মার্ট প্লাগে টানা পঞ্চমবার শীর্ষে কাসা স্মার্ট
স্মার্ট প্লাগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার পণ্যের বিভাগে সামগ্রিক সন্তুষ্টিতে ১০-এর মধ্যে ৮ দশমিক ৫ নম্বর পেয়েছে কাসা স্মার্ট। পিসিম্যাগের জরিপে এ বিভাগে প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে এটিই সর্বনিম্ন নম্বর। তারপরও টানা পঞ্চম বছরের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ব্র্যান্ডটি।
এ বিভাগে কাসা স্মার্টের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যামাজন বেসিকস। মোবাইল অ্যাপের মান, দাম, নির্ভরযোগ্যতা ও অন্যদের কাছে পণ্য সুপারিশ করার আগ্রহসহ বেশির ভাগ বিভাগে এগিয়ে রয়েছে কাসা স্মার্ট। তবে অ্যালেক্সার সংযোগের সুবিধার কারণে ভয়েস কন্ট্রোল এবং ব্যবহার সহজ হওয়ার ক্ষেত্রে সামান্য এগিয়ে অ্যামাজন বেসিকস।
জরিপে অংশ নেওয়া এক ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তিনি কয়েক বছর ধরে কাসা স্মার্টের প্লাগ ব্যবহার করছেন। এগুলো নির্ভরযোগ্য, দ্রুত সেটআপ করা যায় এবং অ্যালেক্সার মাধ্যমে সহজে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আরেক ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, দুর্বল ওয়াই-ফাই সংযোগ ছাড়া কাসা স্মার্টের প্লাগ ব্যবহারে তেমন কোনো সমস্যা হয়নি।
গেবহার্টের মতে, স্মার্ট প্লাগ স্মার্ট হোম ব্যবস্থার শুরু করার জন্য ভালো একটি পণ্য। এর মাধ্যমে পুরোনো সাধারণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রকেও সংযুক্ত করে স্মার্টফোন থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তিনি কাসা স্মার্টের প্লাগের নির্ভরযোগ্যতার প্রশংসা করেছেন। তার মতে, এ ধরনের পণ্য বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্যতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
স্মার্ট থার্মোস্ট্যাটে তৃতীয়বার সেরা ইকোবি
২০২০ সাল থেকে স্মার্ট থার্মোস্ট্যাটের পাঠক জরিপে ইকোবি ও এমারসন/সেন্সির মধ্যে পালাক্রমে শীর্ষস্থান ভাগাভাগি হয়েছে। তবে এবারের জরিপে এমারসন/সেন্সি স্থান পায়নি। ফলে গুগল নেস্ট ও হানিওয়েলকে পেছনে ফেলে তৃতীয়বারের মতো সেরা হয়েছে ইকোবি।
ভয়েস কন্ট্রোল ছাড়া সব বিভাগেই প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ভয়েস কন্ট্রোলে ইকোবি ও গুগল নেস্ট সমান ৮ দশমিক ৩ নম্বর পেয়েছে। সময়সূচি নির্ধারণ, মোবাইল অ্যাপের মান ও নির্ভরযোগ্যতায় ইকোবির নম্বর ৮ দশমিক ৯। স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি পেয়েছে ৯ নম্বর। অন্যদিকে, গুগল নেস্ট বেশির ভাগ বিভাগে মাঝামাঝি অবস্থানে থাকলেও দামের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম নম্বর পেয়েছে।
জরিপে অংশ নেওয়া এক ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তার বাড়িতে দুই ধাপে কাজ করা হিটিং ব্যবস্থা থাকায় বেশির ভাগ স্মার্ট থার্মোস্ট্যাট উপযোগী ছিল না। তবে ইকোবির থার্মোস্ট্যাট ভালোভাবে কাজ করেছে। তারের সংযোগ কীভাবে দিতে হবে, সে বিষয়ে কপাইলটের কাছ থেকে বিস্তারিত নির্দেশনা নিয়ে তিনি যন্ত্রটি স্থাপন করেন এবং এরপর কোনো সমস্যায় পড়েননি।
গেবহার্টের মতে, ইকোবি দীর্ঘদিন ধরে ভালো মানের থার্মোস্ট্যাট তৈরি করছে। তার পরামর্শ, রিমোট তাপমাত্রা সেন্সরযুক্ত মডেল বেছে নেওয়া ভালো। এতে থার্মোস্ট্যাটটি শুধু হলওয়ের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর না করে ব্যবহারকারী যে ঘরে আরামদায়ক তাপমাত্রা চান, সেই ঘরের অবস্থা অনুযায়ী তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
পিসিম্যাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্মার্ট হোম পণ্য নিয়ে ২০২৬ সালের পাঠক জরিপটি ২৯ এপ্রিল থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত হয়। এতে স্মার্ট স্পিকার, ডিসপ্লে, রোবট ভ্যাকুয়াম, স্মার্ট লাইট, প্লাগ ও থার্মোস্ট্যাটের ব্যবহারকারীদের মতামত নেওয়া হয়। জরিপের ফলাফলে সামগ্রিক সন্তুষ্টি, নির্ভরযোগ্যতা, ব্যবহার সহজ হওয়া, পণ্যের দাম এবং অন্যদের কাছে পণ্য সুপারিশ করার আগ্রহের মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে।