চিকিৎসাসংক্রান্ত পরামর্শে চ্যাটজিপিটির ভূমিকা নিয়ে মামলা
চ্যাটজিপিটির পরামর্শে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়াই মৃগীরোগের ওষুধের মাত্রা কমানোর পর তাদের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন চীনের এক দম্পতি। এ ঘটনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তারা। তাদের দাবি, প্রেসক্রিপশনের ওষুধ নিয়ে পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটিতে কঠোর বিধিনিষেধ থাকলে মেয়ের মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব হতো।
টাইমস অব ইন্ডিয়া ও নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩১ বছর বয়সী বোয়েন ওয়ান যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান অ্যামাজনে সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি মৃগীরোগের চিকিৎসায় ল্যামোট্রিজিন নামের ওষুধ সেবন করতেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে চ্যাটজিপিটির কাছে ওষুধের মাত্রা কমানোর বিষয়ে পরামর্শ চান।
মামলার অভিযোগ, চ্যাটজিপিটি তাকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওষুধ বন্ধ করার পরিকল্পনা দিয়েছিল। পাশাপাশি চিকিৎসকদের কাছে বিষয়টি গোপন রাখতে এবং ওষুধের মাত্রা পরিমাপের জন্য রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা এড়িয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছিল। ওষুধ কমানোর সময় বিভ্রান্তি, স্মৃতির ঘাটতি ও অস্বাভাবিক অনুভূতির কথা জানালেও চ্যাটবটটি তাঁকে আশ্বস্ত করেছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোয়েনের সঙ্গে চ্যাটজিপিটির ২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি বার্তা পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ওষুধের মাত্রা কমানো নিয়ে তিনি অন্তত ১৫৮ বার উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ১১ ফেব্রুয়ারি চ্যাটজিপিটির সঙ্গে তার শেষ কথোপকথনের দুই দিন পর তার মৃত্যু হয়। পরে ময়নাতদন্তে তাঁর রক্তে ল্যামোট্রিজিনের মাত্রা চিকিৎসায় কার্যকর মাত্রার নিম্নসীমার প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ পাওয়া যায়।
বোয়েনের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ নিকোলাস পুলস নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, রোগীর চিকিৎসার ইতিহাস বিবেচনায় তিনি কখনোই ওষুধ বন্ধ করার পরামর্শ দিতেন না।
ওপেনএআই ঘটনাটিকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ ঘটনায় ব্যবহৃত জিপিটি-৪ও মডেলটি পুরোনো সংস্করণের। নতুন মডেলগুলো জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে, এমন পরিস্থিতি শনাক্ত করতে আরও সক্ষম। বোয়েনের মৃত্যুর এক দিন পর, ১৩ ফেব্রুয়ারি চ্যাটজিপিটি থেকে জিপিটি-৪ও সরিয়ে নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।