এআই নিয়ে ভয় নয়, বাস্তব সমস্যায় নজর চান গুগল ব্রেইনের সহপ্রতিষ্ঠাতা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের অস্তিত্বের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠতে পারে, এমন আশঙ্কার সমালোচনা করেছেন গুগল ব্রেইনের সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যান্ড্রু এনজি। তার অভিযোগ, কয়েকটি বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থে এআইয়ের নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে অতিরঞ্জিত যুক্তি তুলে ধরছে। এসব যুক্তি ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে উন্মুক্ত এআই মডেলের প্রতিযোগিতা সীমিত করার চেষ্টা চলছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্য ইকোনমিস্টের ‘ইনসাইড টেক’ পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এনজি এআইয়ের কারণে মানবজাতির অস্তিত্ব বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা নাকচ করেন। তার ভাষ্য, এআই থেকে মানুষের অস্তিত্বের জন্য উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি হওয়ার বাস্তব ভিত্তি নেই। তাই এ ধরনের ঝুঁকি ঠেকানোর নামে নেওয়া উদ্যোগও অপ্রয়োজনীয়।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক এনজি অনলাইন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোর্সেরারও সহপ্রতিষ্ঠাতা। তিনি বলেন, ২০২৩ সালে এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা জোরালো হওয়ার সময় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের তদবিরের তীব্রতা তাঁকে বিস্মিত করেছিল। তার অভিযোগ, প্রতিযোগিতা কমাতে কিছু প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তার ভিত্তিহীন যুক্তি ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রকদের দিয়ে ক্ষতিকর বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা করেছে।

এনজির মতে, বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব মালিকানাধীন এআই ব্যবস্থা তৈরিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে। তাই বিনা মূল্যে ব্যবহারযোগ্য এবং ডাউনলোড করে চালানো যায় এমন উন্মুক্ত এআই মডেলের বিস্তার তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এসব মডেলকে সীমিত করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে চায় বলে মনে করেন তিনি।
এআইকে পারমাণবিক অস্ত্রের সঙ্গে তুলনা করারও সমালোচনা করেছেন এনজি। তার মতে, পারমাণবিক অস্ত্র শহর ধ্বংস করতে পারে, আর এআই মূলত বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি। তাই দুটি বিষয়কে একইভাবে বিবেচনা করা দায়িত্বজ্ঞানহীন।
এনজি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে, এমন চরম পরিস্থিতি নিয়ে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়ায় প্রযুক্তিটির বর্তমান সমস্যাগুলো আড়ালে পড়ে যাচ্ছে। বরং এআইয়ের বাস্তব ও তাৎক্ষণিক ক্ষতি মোকাবিলায় নিয়ন্ত্রকদের মনোযোগ দেওয়া উচিত।
তার মতে, জেনারেটিভ এআইয়ের দ্রুত উন্নতি হলেও কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বা এজিআই অর্জনে প্রযুক্তিটি এখনো অনেক দূরে। এজিআই বলতে এমন এআই ব্যবস্থাকে বোঝায়, যা মানুষের মতো প্রায় সব ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ করতে সক্ষম হবে।