২০২৬ সালে উইন্ডোজ ১১-এর চেয়ে বেশি স্থিতিশীল উইন্ডোজ ১০
২০২৬ সালে উইন্ডোজ ১১-এর তুলনায় উইন্ডোজ ১০-এ মাসিক আপডেটজনিত সমস্যা কম দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে প্রকাশিত উইন্ডোজের বিভিন্ন আপডেট বিশ্লেষণ করে উইন্ডোজ লেটেস্ট জানিয়েছে, নয় মাসের মধ্যে আট মাসেই উইন্ডোজ ১১-এ অন্তত একটি বড় সমস্যা বা নতুন ত্রুটি দেখা গেছে।
পিসিওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়মিত আপডেটের পর উইন্ডোজ ১১-এ নতুন সমস্যা তৈরি হওয়া প্রায় মাসিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে উইন্ডোজ ১০-এ এ ধরনের সমস্যা তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে।
একের পর এক সমস্যায় উইন্ডোজ ১১
সেপ্টেম্বরের আপডেটের পর উইন্ডোজ ১১-এর কম্পিউটারে ইউএসবি অডিও কাজ না করা এবং ফাইল হিস্ট্রি সুবিধায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। এর আগে আগস্টের আপডেটে প্রিন্টার ও পিডিএফ ব্যবহারে সমস্যা তৈরি হয়।
জুলাইয়ের আপডেটে কিছু ডেল কম্পিউটারে সমস্যা দেখা দেয়। জুনের আপডেটের পর কিছু কম্পিউটার চালু হতে সমস্যা করে এবং কিছু ব্যবহারকারী বিটলকার পুনরুদ্ধার পর্দায় আটকে যান। বছরের শুরু থেকেও বিভিন্ন আপডেটে এ ধরনের সমস্যার খবর পাওয়া গেছে।
উইন্ডোজ লেটেস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসের মধ্যে আট মাসেই উইন্ডোজ ১১-এর অন্তত একটি বড় সমস্যা বা নতুন ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে।
উইন্ডোজ ১০-এ সমস্যা তুলনামূলক কম
উইন্ডোজ ১০-ও এ বছর পুরোপুরি সমস্যামুক্ত ছিল না। জুনের একটি আপডেটে বিটলকার ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। তবে সামগ্রিকভাবে উইন্ডোজ ১০-এ সিস্টেম ক্র্যাশ ও বড় ধরনের ত্রুটি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
এর একটি কারণ হিসেবে নতুন ফিচার আপডেট বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছে পিসিওয়ার্ল্ড। ২০২৫ সালের অক্টোবরে উইন্ডোজ ১০-এর সাধারণ সমর্থন শেষ হওয়ার পর মাইক্রোসফট শুধু নিরাপত্তা আপডেট দিচ্ছে। তবে এসব আপডেট পেতে ব্যবহারকারীদের এক্সটেন্ডেড সিকিউরিটি আপডেটস বা ইএসইউ কর্মসূচিতে যুক্ত হতে হয়।
নতুন ফিচার ও বড় ধরনের পরিবর্তন কম থাকায় উইন্ডোজ ১০-এর আপডেট থেকে নতুন সমস্যা তৈরির ঝুঁকিও তুলনামূলক কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উইন্ডোজ ১১ ব্যবহারকারীদের করণীয়
উইন্ডোজ ১১-এর কোনো আপডেট ইনস্টল করার পর কম্পিউটারে অস্বাভাবিক সমস্যা দেখা দিলে আপডেটটি ফিরিয়ে নেওয়া বা পরবর্তী সমাধানের জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে পিসিওয়ার্ল্ড। মাইক্রোসফটের ‘কনোন ইস্যু রোলব্যাক’ সুবিধার মাধ্যমে কিছু ত্রুটিপূর্ণ নন-সিকিউরিটি পরিবর্তন পুরো আপডেট আনইনস্টল না করেও ফিরিয়ে নেওয়া যায়।
তবে উইন্ডোজ ১০-এর সমর্থন সীমিত হয়ে যাওয়ায় শুধু স্থিতিশীলতার বিষয়টি বিবেচনা করে অপারেটিং সিস্টেম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিরাপত্তা আপডেট ও সমর্থনের বিষয়টিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।