এআই ব্যবহারে বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান ড. খলিলুর রহমানের
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবস্থাপনায় অভিন্ন নীতি, কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, এআই যেন মানব অগ্রগতির হাতিয়ার হয়, বৈষম্য, অস্থিতিশীলতা বা ক্ষতির উৎস না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
১০ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এআইয়ের বহুপক্ষীয় শাসনব্যবস্থা নিয়ে রাষ্ট্রদূতদের এক বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে বিশ্বের এক বিলিয়নের বেশি মানুষ কথোপকথনভিত্তিক এআই ব্যবহার করছেন। বিশ্বের প্রতি চারজন কর্মীর একজন কোনো না কোনোভাবে জেনারেটিভ এআইয়ের প্রভাবের আওতায় থাকা পেশায় রয়েছেন। ২০৩০ সালের মধ্যে ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহার দ্বিগুণের বেশি হয়ে বছরে প্রায় ৯৫০ টেরাওয়াট-ঘণ্টায় পৌঁছাতে পারে।’
এআইয়ের দ্রুত বিকাশ ও এর প্রভাব এতটাই গভীর যে বিশ্ব আর দর্শকের ভূমিকায় থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, প্রযুক্তিটির ব্যবহারে দায়িত্বশীল ও জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।
ড. খলিলুর রহমান বলেন
এআই যেন মানবিক মর্যাদা, টেকসই উন্নয়ন, শান্তি ও অভিন্ন সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে, তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, এআই নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিশ্বের সব দেশের আওয়াজ থাকা প্রয়োজন।
এআই ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, উদ্ভাবক ও ব্যবহারকারীদের যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি এআইয়ের সুফলে ন্যায্য প্রবেশাধিকার, প্রযুক্তি ও সক্ষমতায় সুযোগ, নিরাপত্তা, জবাবদিহি ও মানবিক তদারকি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে এআই শাসনব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় না থাকলে বৈশ্বিক বিভাজন বাড়তে পারে। তাই এআই সক্ষমতা, অবকাঠামো, তথ্য ও দক্ষতায় প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।’
ড. খলিলুর রহমান বলেন,‘এআই শাসন নিয়ে অভিন্ন বোঝাপড়া তৈরির কাজ আগামী মে মাসের বৈঠক পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে না। কাজ এখনই শুরু করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এআই বিশ্বকে বদলে দেবে কি না, সেই প্রশ্ন এখন আর নেই। এআই ইতোমধ্যে বিশ্বকে বদলে দিচ্ছে। এখন প্রশ্ন হলো, এই পরিবর্তন কীভাবে ঘটবে, সে বিষয়ে বিশ্বের সবাই কথা বলার সুযোগ পাবে কি না।’