আইফোন ডুওর সঙ্গে নতুন ওয়াচ ও এয়ারপড উন্মোচন করেছে অ্যাপল
ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও, আইফোন ১৮ প্রো সিরিজ, অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২, অ্যাপল ওয়াচ আল্ট্রা ৪ এবং এয়ারপডস ৫ উন্মোচন করেছে অ্যাপল। গতকাল বুধবার ( ০৯ সেপ্টেম্বর) ‘সারপ্রাইজ অ্যান্ড শাইন’ আয়োজনে নতুন এসব পণ্যের পাশাপাশি নতুনভাবে সাজানো স্বাস্থ্য অ্যাপও উন্মোচন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জন টার্নাসের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল অ্যাপলের প্রথম শরৎকালীন আয়োজন।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের আয়োজনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও। পাশাপাশি আইফোন ১৮ প্রো সিরিজে ক্যামেরায় বড় ধরনের উন্নয়ন আনা হয়েছে এবং অ্যাপল ওয়াচে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
আইফোন ডুও
অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য ফোন আইফোন ডুও খুললে পাওয়া যাবে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির রেটিনা ডিসপ্লে। বাইরের ডিসপ্লের আকার ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চি। অ্যাপলের ভাষ্য অনুযায়ী, আইপ্যাডের বহুমুখিতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ফোনটি তৈরি করা হয়েছে। ভেতরের ডিসপ্লেতে আন্ডার-ডিসপ্লে ক্যামেরা থাকায় পুরো পর্দাজুড়ে দেখার অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে।

ভেতরের ডিসপ্লেতে ভিডিও চালালে ব্যাটারি সর্বোচ্চ ৩১ ঘণ্টা এবং বাইরের ডিসপ্লেতে সর্বোচ্চ ৪৪ ঘণ্টা পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে অ্যাপল। ফোনটিতে ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন মূল ক্যামেরা এবং ৪৮ মেগাপিক্সেলের আলট্রাওয়াইড ক্যামেরা রয়েছে। আলট্রাওয়াইড ক্যামেরায় ২ গুণ অপটিক্যাল জুম সুবিধাও আছে।
ফোনটির কবজা গ্রেড-৫ অ্যালুমিনিয়ামে তৈরি। মসৃণভাবে খোলা ও বন্ধ করার জন্য এতে ১০০টির বেশি বিশেষভাবে তৈরি উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। ২৫৬ গিগাবাইট স্টোরেজের আইফোন ডুওর দাম শুরু ১ হাজার ৯৯৯ মার্কিন ডলার থেকে। প্রি-অর্ডার শুরু হবে ১৬ অক্টোবর এবং বিক্রি শুরু হবে ২৩ অক্টোবর।
আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স
নতুন আইফোন ১৮ প্রো ও ১৮ প্রো ম্যাক্সে আগের মডেলের নকশা রাখা হলেও ক্যামেরায় বড় ধরনের উন্নয়ন আনা হয়েছে। এতে ৪৮ মেগাপিক্সেলের সেন্সরের সঙ্গে ছয়টি পাতলা ব্লেড দিয়ে নিয়ন্ত্রিত পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার রয়েছে। এতে কম আলোয় ছবি তোলার মান ও ছবি ধারণের গতি বাড়বে বলে আশা করছে অ্যাপল।

ক্যামেরা সফটওয়্যারে হোয়াইট ব্যালান্স, শাটার স্পিড, অ্যাপারচার ও হিস্টোগ্রাম নিয়ন্ত্রণের সুবিধা যুক্ত হয়েছে। নতুন ফটোগ্রাফিক স্টাইলসে টেক্সচার ও গ্রেইন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ছবি আরও নিজের মতো করে সাজানো যাবে।
নতুন ক্যামেরায় ডলবি এইচডিআর ভিশনে ৪কে ভিডিও ধারণ করা যাবে। ভিডিও ধারণের পর তাতে সিনেমাটিক প্রভাবও যোগ করা যাবে।
আইফোন ১৮ প্রোর দাম শুরু ১ হাজার ১৯৯ মার্কিন ডলার এবং ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম ১ হাজার ২৯৯ ডলার থেকে। গত বছরের মডেলের তুলনায় প্রো ম্যাক্সের দাম ১০০ ডলার বেশি। প্রি-অর্ডার শুরু হবে শনিবার এবং বিক্রি শুরু হবে ১৮ সেপ্টেম্বর।
অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২ ও আল্ট্রা ৪
অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২ ও আল্ট্রা ৪-এ বড় ধরনের হার্ডওয়্যার পরিবর্তন না থাকলেও সফটওয়্যারে বেশ কিছু নতুন সুবিধা এসেছে। এর মধ্যে ‘সাউন্ড রিকগনিশন’ সুবিধা সাইরেন, অ্যালার্ম, দরজার ঘণ্টি বা শিশুর কান্নার মতো শব্দ শনাক্ত করে সতর্ক করতে পারবে। শ্রবণপ্রতিবন্ধী বা কম শুনতে পান এমন ব্যবহারকারীদের জন্য সুবিধাটি বিশেষভাবে কাজে আসবে।

এ ছাড়া ‘অডিও ইন্টেলিজেন্স’ সুবিধার মাধ্যমে দৈনন্দিন কথোপকথনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে রাখতে সহায়তা করবে ঘড়ি। ‘লাইভ রিওয়াইন্ড’ সুবিধা আগের ১৫ সেকেন্ডের কথোপকথন লিখিত আকারে দেখাবে। আর ‘সিরি রিক্যাপ’ দৈনন্দিন কথোপকথনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে করিয়ে দেবে, যেমন বৈঠকের সিদ্ধান্ত বা অভিভাবক-শিক্ষক সভার আলোচনার মূল বিষয়।
অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২-এর দাম শুরু ৩৯৯ ডলার এবং আল্ট্রা ৪-এর দাম ৪৯৯ ডলার থেকে। প্রি-অর্ডার শুরু হয়েছে এবং দুই মডেলই ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে দোকানে পাওয়া যাবে।
এয়ারপডস ৫
নতুন এয়ারপডস ৫-এ উন্নত অডিও, শক্তিশালী সক্রিয় শব্দ নিয়ন্ত্রণ এবং সিরি ও অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সের বাড়তি সুবিধা যুক্ত হয়েছে। আগের প্রজন্মের তুলনায় পটভূমির শব্দ ৫০ শতাংশ বেশি কমাতে পারবে বলে জানিয়েছে অ্যাপল।

ইয়ারবাডের স্টেমে এবার ভলিউম নিয়ন্ত্রণ যুক্ত হয়েছে, যা এত দিন শুধু বেশি দামের এয়ারপডস প্রো মডেলে ছিল। ট্রান্সপারেন্সি মোডও উন্নত করা হয়েছে, ফলে আশপাশের মানুষের কথা ও পরিবেশের শব্দ আরও স্বাভাবিকভাবে শোনা যাবে।
সক্রিয় শব্দ নিয়ন্ত্রণ চালু রেখে একবার চার্জে এয়ারপডস ৫ সর্বোচ্চ পাঁচ ঘণ্টা চলবে। চার্জিং কেসসহ মোট শোনার সময় ২২ ঘণ্টা পর্যন্ত। এয়ারপডস ৫-এর দাম শুরু ১২৯ ডলার থেকে। ওয়্যারলেস চার্জিং কেসসহ সংস্করণের দাম ১৪৯ ডলার। প্রি-অর্ডার শুরু হয়েছে এবং ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে সরবরাহ শুরু হবে।
নতুন স্বাস্থ্য অ্যাপ
অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য আরও সহজে বুঝতে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে অ্যাপলের স্বাস্থ্য অ্যাপ। এতে ‘ইনসাইটস’ নামে নতুন বিভাগ থাকবে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যতথ্যের সারসংক্ষেপের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরামর্শ ও মূল্যায়ন পাওয়া যাবে।

নতুন ‘রেডিনেস’ স্কোর ও ‘হেলথ এজ’ হিসাবের সুবিধাও যুক্ত হয়েছে। ‘লংজেভিটি’ বিভাগে অ্যাপল ওয়াচ ও আইফোনের তথ্য ব্যবহার করে ঘুম, শারীরিক নড়াচড়া ও হৃদ্স্বাস্থ্যের মতো বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় সামগ্রিক স্বাস্থ্যের মূল্যায়ন করা হবে।
নতুন স্বাস্থ্য অ্যাপটি এ বছরের শেষ দিকে চালু হবে। শুরুতে শুধু মার্কিন ইংরেজি ভাষায় সুবিধাটি পাওয়া যাবে।