এআই নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত কঠোরতা চায় না প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে চীনের অগ্রগতি এবং মেধাস্বত্ব চুরির অভিযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যখন নীতিগত পদক্ষেপ বিবেচনা করছে, তখন ওপেন-ওয়েট এআই মডেলের ওপর অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ না করার আহ্বান জানিয়েছে একাধিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। হাগিং ফেস, মেটা, মাইক্রোসফট, মিস্ট্রাল এআই এবং এনভিডিয়াসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে।
চিঠিতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্ক করে বলেছে, ওপেন-ওয়েট এআই মডেলের ওপর আগাম বা অতিরিক্ত কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে উদ্ভাবন বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং প্রতিযোগিতা কমে যেতে পারে। যদিও চিঠিতে সরাসরি চীনের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন চীনা ওপেন এআই মডেল নিষিদ্ধ করা বা সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এমনকি ‘মুনশট এআই’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অন্য একটি মডেল থেকে তথ্য নিয়ে ‘কিমি কে৩’ তৈরি করার অভিযোগও উঠেছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ডিস্টিলেশন’-অর্থাৎ একটি মডেলের আউটপুট ব্যবহার করে অন্য মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পদ্ধতি; প্রযুক্তি উন্নয়নে বহুল ব্যবহৃত একটি বৈধ কৌশল। এটিকে প্রযুক্তি চুরির সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়। বরং যদি কোনো বেআইনি কার্যকলাপ ঘটে, তবে তা নির্দিষ্ট আইনগত কাঠামোর মাধ্যমে মোকাবিলা করা উচিত, সার্বিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নয়।
রিপ্লিট-এর প্রধান নির্বাহী আমজাদ মাসাদ বলেন, চীনা ওপেন মডেল নিষিদ্ধ করা মানে কার্যত সব ওপেন মডেলের ওপরই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। তিনি আরও জানান, এআই মডেলগুলো এখন একটি আন্তঃসংযুক্ত ইকোসিস্টেমে কাজ করছে, যেখানে একটি মডেলের উন্নয়ন অন্যটির ওপর প্রভাব ফেলে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ওপেন মডেল সীমিত করা হলে সাইবার নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কারণ, আক্রমণকারীরা উন্নত এআই ব্যবহার করলে প্রতিরোধকারীদেরও সমমানের প্রযুক্তি প্রয়োজন হয়। ওপেন মডেল এই সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে এবং নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত ও সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সম্প্রতি একটি পরীক্ষায় উন্নত এআই মডেল নিজেই একটি নিরাপত্তা দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে একটি কোড সংরক্ষণাগারে প্রবেশ করে। এ ঘটনা এআই নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে এবং দেখিয়েছে, উন্নত প্রযুক্তি কেবল সীমিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করে, ওপেন এআই মডেলের বিস্তার প্রতিযোগিতা বাড়ায়, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে এবং উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করে। তারা নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, গবেষক ও স্টার্টআপদের জন্য কম্পিউটিং সুবিধা বাড়ানো, ডেটাসেট ও টুলস সহজলভ্য করা এবং অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ এড়িয়ে চলার মাধ্যমে এ খাতের বিকাশ নিশ্চিত করতে।
সূত্র : টেকক্রাঞ্চ