ডেটা সংগ্রহ ও নিরাপত্তা ইস্যুতে সমালোচনার মুখে ‘সুনো’
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সংগীত তৈরির প্ল্যাটফর্ম ‘সুনো’ হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রযুক্তিবিষয়ক মাধ্যম ফোর-জিরো-ফোর মিডিয়া। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরবরাহ শৃঙ্খলভিত্তিক আক্রমণের মাধ্যমে হ্যাকাররা প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ তথ্যভাণ্ডারে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে এমন তথ্য পায়, যা ইঙ্গিত করে সুনো প্রশিক্ষণের জন্য ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে সংগীত সংগ্রহ করেছে।
হ্যাকারদের দাবি, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে একজন কর্মীর প্রবেশসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে তারা সুনোর মূল প্রোগ্রাম কোডে ঢুকে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, ইউটিউব মিউজিক, ডিজার, জিনিয়াস, বিভিন্ন উন্মুক্ত সংগীতভান্ডার এবং পডকাস্ট ফিড থেকে দীর্ঘ সময়ের অডিও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
এর আগে সুনো স্বীকার করেছিল, তারা উন্মুক্ত ইন্টারনেটে থাকা সংগীত ফাইল ব্যবহার করে তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল প্রশিক্ষণ দেয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কপিরাইটযুক্ত কনটেন্টও ন্যায্য ব্যবহারের নীতির আওতায় ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বড় রেকর্ড লেবেলগুলো, যারা ইতোমধ্যে সুনোর বিরুদ্ধে মামলা করেছে, বলছে ইচ্ছাকৃতভাবে ইউটিউবের ডেটা সুরক্ষা ব্যবস্থা পাশ কাটানো ডিজিটাল মিলেনিয়াম কপিরাইট আইন অনুযায়ী অবৈধ এবং এটি ইউটিউবের সেবার শর্ত লঙ্ঘন করে।
একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে সুনোর প্রতিদ্বন্দ্বী উদিওর বিরুদ্ধেও। অন্যদিকে, ইউটিউবের মূল প্রতিষ্ঠান গুগলকেও বিভিন্ন বড় প্রকাশনা সংস্থা কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হ্যাকাররা গ্রাহকদের কিছু সংবেদনশীল তথ্যও পেয়েছে। এর মধ্যে ই-মেইল, ফোন নম্বর এবং স্ট্রাইপে সংরক্ষিত আংশিক ক্রেডিট কার্ড তথ্য রয়েছে।
তবে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি সম্পর্কে গ্রাহকদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি সুনো। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি ছিল সীমিত পরিসরের একটি নিরাপত্তা ঘটনা, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।