এআই-সম্পাদিত সংবাদে নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে জার্মানি
এআই-নির্ভর সংবাদ ও তথ্য প্রদর্শনে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছে জার্মানি। দেশটির মিডিয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, গুগলের এআই ওভারভিউস এবং পারপ্লেক্সিটির মতো চ্যাটবট-ভিত্তিক সার্ভিস এখন থেকে জার্মানির বিদ্যমান মিডিয়া আইনের আওতায় পড়বে।
জার্মানির ১৪টি অঙ্গরাজ্যের মিডিয়া কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে গঠিত কমিশন ফর লাইসেন্সিং অ্যান্ড সুপারভিশন বলেছে, এআই দিয়ে তৈরি সংবাদ সারাংশ বা চ্যাটবটের উত্তরকে কেবল তৃতীয় পক্ষের কনটেন্ট প্রদর্শন হিসেবে দেখা যাবে না। বরং এগুলোকে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি কোম্পানির নিজস্ব কনটেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এই অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক এক আদালতের রায়। মিউনিখের একটি আদালত গুগলের বিরুদ্ধে রায় দিয়ে জানায়, এআই ওভারভিউস ফিচারের মাধ্যমে তৈরি ভুল তথ্যের জন্য কোম্পানিকে সরাসরি দায়ী করা যেতে পারে। আদালতের মতে, এআই-তৈরি সারাংশ কেবল লিংক প্রদর্শন নয়, বরং এটি নিজেই একটি কনটেন্ট।
কমিশন ফর লাইসেন্সিং অ্যান্ড সুপারভিশনের চেয়ারম্যান থরস্টেন শ্মিগে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এআই সার্চ ইঞ্জিন এবং চ্যাটবটগুলো কনটেন্ট প্রোভাইডার হিসেবে কাজ করছে। তাই এদের ওপর জার্মান মিডিয়া আইন প্রয়োগ করা হবে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট সাধারণত প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীদের তৈরি অবৈধ কনটেন্টের দায় থেকে কিছুটা সুরক্ষা দেয়। তবে জার্মান নিয়ন্ত্রকের মতে, এআই-তৈরি কনটেন্টের ক্ষেত্রে এই দায়মুক্তি প্রযোজ্য হবে না, কারণ এখানে কনটেন্ট তৈরি করছে প্ল্যাটফর্ম নিজেই।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা আরও জানায়, গুগলের এআই ওভারভিউস সার্চ ফলাফলে এমনভাবে প্রদর্শিত হয় যে প্রচলিত লিংকের তালিকা কম দৃশ্যমান হয়ে পড়ে। এতে তৃতীয় পক্ষের সংবাদমাধ্যমগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে।
এছাড়া পারপ্লেক্সিটির মতো চ্যাটবটও যখন ব্যবহারকারীদের জন্য তথ্য বাছাই করে উপস্থাপন করে, তখন তা সংবাদ কনটেন্টের দৃশ্যমানতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে প্রভাবিত করে। ফলে এসব সেবা ‘মিডিয়া ইন্টারমিডিয়ারি’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং মিডিয়া বহুত্ববাদ রক্ষার নিয়মের আওতায় আসতে পারে।
তবে গুগল এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। কোম্পানির এক মুখপাত্র বলেন,‘মানুষ কীভাবে তথ্য খোঁজে এবং তথ্য পরিবেশ কীভাবে বদলাচ্ছে, এই সিদ্ধান্ত তা সঠিকভাবে বিবেচনা করেনি।’
এদিকে পারপ্লেক্সিটি এই বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও জানিয়েছে, তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের গোপনীয়তা নীতিমালা মেনে চলে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সনদ অর্জন করেছে।
জার্মানির এই পদক্ষেপ এআই-তৈরি কনটেন্টের দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইউরোপে নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র : রয়টার্স