কিশোরদের জন্য রাতের সোশ্যাল মিডিয়া কারফিউ পরিকল্পনা যুক্তরাজ্যের
যুক্তরাজ্য সরকার ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে ডিফল্ট রাতের কারফিউ চালুর পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবের অংশ হিসেবে এই নতুন পদক্ষেপ যুক্ত করা হয়েছে।
এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্যবহারকারীরা রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন না, যদি না তারা নিজে সেটিংস পরিবর্তন করেন। পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রল করতে উৎসাহিত করে এমন ফিচার, যেমন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু হওয়া, ডিফল্টভাবে বন্ধ থাকবে।
সরকার বলছে, ১৬ বছর পূর্ণ করার পর হঠাৎ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্পূর্ণ প্রবেশাধিকার পাওয়া কিশোরদের ওপর যে প্রভাব পড়তে পারে, তা কমাতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দেরি করে রাত জাগা স্ক্রলিংয়ের নেতিবাচক প্রভাব থেকেও কিছুটা সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।
প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল এক বিবৃতিতে বলেন, এই পদক্ষেপ কিশোরদের প্রয়োজনীয় ঘুম নিশ্চিত করতে, পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে এবং পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে মানসম্মত সময় কাটাতে সহায়তা করবে।
সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে শিশু কিশোরদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে অভিভাবক ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশই নতুন নিয়মকানুনের পথে হাঁটছে।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এমন ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে ঘুম, মনোযোগ ও সামগ্রিক সুস্থতায় উন্নতি ঘটে। বিশেষ করে রাতের কারফিউ পরিবারগুলোর জন্য সহজে বজায় রাখা সম্ভব এবং এটি সবচেয়ে ধারাবাহিক ইতিবাচক ফল দেয়।
সরকার জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত প্রথম ধাপের বিধিমালা চলতি বছরের শেষ নাগাদ পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের বসন্তে এসব পদক্ষেপ কার্যকর হতে পারে। সরকার কার্যকর বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের আশ্বাস দিয়েছে।
তবে অস্ট্রেলিয়ায় শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার অভিজ্ঞতা বলছে, বয়স যাচাইয়ের মতো প্রাথমিক ধাপেই প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলো হোঁচট খাচ্ছে, ফলে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এদিকে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে এক কিশোরের করা মামলায় গুগল ও টিকটক আলাদাভাবে সমঝোতায় পৌঁছেছে, যেখানে অভিযোগ ছিল সোশ্যাল মিডিয়া তার মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করেছে।
সূত্র : রয়টার্স