জেমিনি প্রশিক্ষণে কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগ, গুগলের বিরুদ্ধে নতুন মামলা

TechWorld Desk

টেকওয়ার্ল্ড ডেস্ক

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৩

জেমিনি প্রশিক্ষণে কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগ, গুগলের বিরুদ্ধে নতুন মামলা
ছবি : টেকক্রাঞ্চ

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও লেখকদের একটি জোট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্ল্যাটফর্ম জেমিনি প্রশিক্ষণে কপিরাইটযুক্ত বই ব্যবহার করার অভিযোগে গুগলের বিরুদ্ধে ক্লাস অ্যাকশন মামলা করেছে। তাদের দাবি, অনুমতি ছাড়াই এসব কনটেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে, এমনকি কপিরাইট সংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তন বা মুছে ফেলে তা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে।

মামলায় বাদী হিসেবে রয়েছে হ্যাশেট, সেনগেজ, এলসেভিয়ার, লেখক স্কট টুরোএবং এসসিআরআইবিই । অভিযোগে বলা হয়, গুগল ইচ্ছাকৃতভাবে কপিরাইট তথ্য পরিবর্তন করে এমন ধারণা তৈরি করেছে যেন জেমিনি মডেলগুলো বৈধ ডেটা ব্যবহার করেই প্রশিক্ষিত।

এটি একক ঘটনা নয়। এর আগে গুগল, মেটা, ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকসহ বিভিন্ন এআই কোম্পানির বিরুদ্ধে একই ধরনের একাধিক মামলা করেছেন প্রকাশক, লেখক ও কপিরাইটধারীরা। যদিও এসব মামলার বেশিরভাগই এখনও বিচারাধীন।

তবে ক্যালিফোর্নিয়ার দুটি প্রাথমিক রায়ে এআই কোম্পানিগুলোর পক্ষে সিদ্ধান্ত এসেছে। সেখানে বলা হয়, কপিরাইটযুক্ত কনটেন্ট এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহার ‘ফেয়ার ইউজ’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের কপিরাইট আইন ইন্টারনেট-পূর্ব যুগের হওয়ায় নতুন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে কপিরাইট লঙ্ঘনের এক মামলায় ১৫০ কোটি ডলার জরিমানা করা হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের কপিরাইট আইনের ইতিহাসে অন্যতম বড় আর্থিক জরিমানা। এতে প্রায় পাঁচ লাখ লেখক ন্যূনতম তিন হাজার ডলার করে পাওয়ার যোগ্য হন। তবে অনেক লেখক ভবিষ্যতে আরও আইনি পদক্ষেপ নিতে এই সমঝোতা থেকে সরে দাঁড়ান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যালিফোর্নিয়ার রায়গুলো অন্যান্য আদালতের জন্য স্পষ্ট নজির তৈরি না করলেও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ‘ফেয়ার ইউজ’ যুক্তি কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, সে প্রশ্ন এখনো খোলা রয়েছে। গুগলের বিরুদ্ধে নতুন এই মামলাটি নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে দায়ের হয়েছে, ফলে ভিন্ন বিচারকের ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে

গুগলের সঙ্গে প্রকাশকদের সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে দীর্ঘদিনের। গুগল বুকসের মাধ্যমে বই অনুসন্ধানযোগ্য করার জন্য প্রকাশকরা আগে থেকেই সীমিত পরিসরে কপিরাইটযুক্ত বই সরবরাহ করে আসছেন। এই সেবায় পুরো বই দেখা যায় না, বরং ছোট অংশ ও তথ্যসূত্র দেখানো হয়। বাদীদের দাবি, গুগল এই বইগুলোর কপি এবং গুগল প্লে স্টোরে আপলোড করা বই থেকেও জেমিনিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, যদিও এ জন্য কোনো অনুমতি নেয়নি।

মামলায় বলা হয়েছে, “গুগল জানত তাদের অনুমতি নেই, তবুও সীমিত ব্যবহারের জন্য দেওয়া এসব কনটেন্ট অবৈধভাবে কপি করে এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহার করেছে।”

এ ছাড়া, গুগলের একটি অভ্যন্তরীণ নথির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে সতর্ক করা হয়েছিল যে কপিরাইটযুক্ত বই দিয়ে এআই প্রশিক্ষণ দেওয়া ‘গুগলের জন্য বড় সমস্যা’ তৈরি করতে পারে এবং এর ফলে সম্ভাব্য জরিমানার পরিমাণ কয়েক দশমিক বিলিয়ন থেকে শত বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

এ বিষয়ে গুগল তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

'টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন