ডিপফেক মোকাবিলায় গুগলের নতুন সাফল্য
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভুয়া ছবি শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেয়েছে গুগলের ওয়াটারমার্ক প্রযুক্তি ‘সিনথআইডি’। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর মিচ ম্যাককনেলকে হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় দেখানো একটি ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লেও পরে সেটি ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে।
সপ্তাহের শুরুতে ছবিটি রেডিট ও এক্সে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে ম্যাককনেলকে বিভিন্ন চিকিৎসা যন্ত্রে সংযুক্ত অবস্থায় গুরুতর অসুস্থ হিসেবে দেখানো হয়। তবে বুধবার তথ্য যাচাইকারী ওয়েবসাইট স্নোপস জানায়, ছবিটিতে গুগলের সিনথআইডি ওয়াটারমার্ক রয়েছে। এই ওয়াটারমার্ক এআই দিয়ে তৈরি ছবি শনাক্তের জন্য ব্যবহৃত হয়।
এর ফলে নিশ্চিত হওয়া যায়, ছবিটি আসল নয় বরং এআইনির্ভর ডিপফেক। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডিপফেক শনাক্ত ও প্রতিরোধ প্রযুক্তি হিসেবে সিনথআইডির কার্যকারিতা আবারও সামনে এসেছে।
গত ১৪ জুন জরুরি অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে ম্যাককনেলের শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। তিনি জনসমক্ষে কম দেখা দেওয়ায় গুজব আরও বাড়ে। সেই প্রেক্ষাপটেই ভুয়া ছবিটি ছড়িয়ে পড়ে, যা পরে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়।
২০২৫ সালে গুগলের আইও ডেভেলপার সম্মেলনে সিনথআইডি প্রযুক্তি চালু করা হয়। এটি মূলত একটি অদৃশ্য ডিজিটাল স্বাক্ষর, যা সাধারণভাবে দেখা যায় না, তবে বিশেষ অ্যালগরিদমের মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব। ছবির ভেতরেই এই চিহ্ন যুক্ত থাকায় স্ক্রিনশট নেওয়া বা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করার পরও এটি অক্ষত থাকে।
তবে এই প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। যেসব ইমেজ তৈরির টুল এই উদ্যোগে অংশ নেয়, কেবল সেগুলোর ক্ষেত্রেই সিনথআইডি কার্যকর। ২০২৫ সাল থেকে গুগলের জেমিনি মডেলে এই ওয়াটারমার্ক যুক্ত রয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসে ওপেনএআইও এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে। তবে অ্যানথ্রপিক এখনো এতে অংশ নেয়নি।
ব্যবহারকারীরা চাইলে জেমিনি মডেল বা ওপেনএআইয়ের উন্মুক্ত ইমেজ যাচাই টুলে ছবি আপলোড করে সিনথআইডি ওয়াটারমার্ক আছে কি না পরীক্ষা করতে পারেন।