দেশজুড়ে সেবার পরিধি বাড়িয়েছে পাঠাও পার্সেল
দেশের অন্যতম সুপার অ্যাপ 'পাঠাও' তাদের পার্সেল সেবার পরিধি আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এখন থেকে কাস্টমারদের জরুরি প্রয়োজন, সুবিধা এবং বাজেট অনুযায়ী আরও দ্রুত ও সাশ্রয়ী মূল্যে পার্সেল ডেলিভারি দিতে নতুন কিছু সেবা চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
আগের মতো একটিমাত্র ডেলিভারি নিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, কাস্টমাররা এখন তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো একটি সুবিধা বেছে নিতে পারবেন।
পার্সেল ডেলিভারির জন্য কয়েক ধরনের সেবা চালু করা হয়েছে। ‘ইনস্ট্যান্ট’ সেবায় শহরের ভেতরে জরুরি পার্সেল অর্ডারের ১০ মিনিটের মধ্যে সংগ্রহ করা হবে এবং এক ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হবে।
‘৪-ঘণ্টা’ সেবায় তুলনামূলক কম খরচে শহরের ভেতরে চার ঘণ্টার মধ্যে পার্সেল পৌঁছানো যাবে। আর ‘সেম-ডে’ সেবায় একই দিনের মধ্যে সুবিধাজনক সময়ে ডেলিভারি করা হবে, যেসব পার্সেল খুব বেশি জরুরি নয় সেগুলোর জন্য এটি উপযোগী।
এ ছাড়া ‘অ্যানিহোয়্যার’ সেবার মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে দেশজুড়ে পার্সেল পাঠানো যাবে। গ্রাহকের ঘর বা অফিস থেকে সংগ্রহ করে এক থেকে তিন দিনের মধ্যে দেশের যেকোনো স্থানে পৌঁছে দেওয়া হবে। ‘হাব ড্রপ’ সেবায় গ্রাহক নিজেই নিকটস্থ পাঠাও হাবে পার্সেল জমা দিতে পারবেন, সেখান থেকে একই সময়ে দেশজুড়ে ডেলিভারি করা হবে।
প্রাথমিকভাবে ‘ইনস্ট্যান্ট’, ‘৪-ঘণ্টা’ ও ‘সেম-ডে’ সেবা নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পাওয়া যাবে। তবে ‘অ্যানিহোয়্যার’ ও ‘হাব ড্রপ’ সেবার মাধ্যমে সারা দেশে পার্সেল পাঠানোর সুবিধা থাকবে।
এ বিষয়ে পাঠাও-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম আহমেদ বলেন,‘গ্রাহকদের সব সময় যে সবচেয়ে দ্রুতগতির ডেলিভারিই প্রয়োজন হয়, তেমনটি নয় বরং উপলক্ষ অনুযায়ী সঠিক সময়ে সঠিক ডেলিভারি সুবিধাটি পাওয়া তাদের জন্য জরুরি। সেটি হতে পারে এক ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছানো কোনো জরুরি কাগজপত্র, দিনের যেকোনো সময়ে পাঠালেই চলবে এমন কোনো উপহার, কিংবা দেশের অন্য প্রান্তে পাঠানো কোনো সাধারণ পার্সেল। আমরা এখন কাস্টমারদের সেই স্বাধীনতাই দিচ্ছি। এই নতুন সেবাগুলোর মাধ্যমে পাঠাও পার্সেল একটি একক এক্সপ্রেস সার্ভিস থেকে সম্পূর্ণ লজিস্টিকস প্ল্যাটফর্মে রূপ নিল, যা পুরোপুরি কাস্টমারদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।’
বর্তমানে গ্রাহক ও ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের কেনাকাটা ও পার্সেল পাঠানোর আচরণে পরিবর্তন এসেছে। তারা এখন গতি, খরচ এবং সুবিধার সঠিক ভারসাম্য চান। নতুন এই সেবাগুলোর মাধ্যমে পাঠাও পার্সেল পাঠানোকে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করার পাশাপাশি তাদের লজিস্টিকস ও ডেলিভারি কার্যক্রমের কার্যকারিতা আরও বাড়াতে পারবে বলে আশা করছে।
বিশেষ করে 'হাব ড্রপ' সেবাটি চালুর ফলে খরচ অনেক কমে আসবে। কাস্টমাররা নিজেরাই কাছাকাছি পাঠাও হাবে পার্সেল রেখে আসতে পারবেন, যা দেশজুড়ে পার্সেল পাঠানোকে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে নিয়ে আসবে।
নতুন এই ডেলিভারি সুবিধাগুলো পাঠাও অ্যাপের সর্বশেষ আপডেটে পাওয়া যাচ্ছে। অ্যাপের ‘পার্সেল’ অপশনে ক্লিক করে কাস্টমাররা সহজেই প্রতিটি সেবার সময় এবং খরচ তুলনা করে নিজেদের পছন্দের ডেলিভারি বেছে নিতে পারবেন।
বাংলাদেশের শীর্ষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পাঠাও প্রতিনিয়ত প্রযুক্তি ও লজিস্টিকস অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করছে, যাতে লাখ লাখ মানুষের দৈনন্দিন জীবন সহজ করার পাশাপাশি দেশের ব্যবসা ও তরুণ উদ্যোক্তাদের বিশ্বস্ত ডেলিভারি সেবা দেওয়া সম্ভব হয়।