ভারতের বাজারে গতি বাড়াতে ওপেনএআইয়ে নতুন নেতৃত্ব
যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নিজেদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে ভারতকে ঘিরে বিনিয়োগ আরও জোরদার করছে ওপেনএআই। এ লক্ষ্যে উবার ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রভজিত সিংকে দেশটির প্রথম ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
শুক্রবার (২৬ জুন) উবার থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া প্রভজিত সিং আগামি সেপ্টেম্বরে ওপেনএআইয়ে যোগ দেবেন এবং এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কিরণ মানির কাছে রিপোর্ট করবেন। ভারতে গ্রাহক বৃদ্ধি, করপোরেট খাতে প্রযুক্তি গ্রহণ, অংশীদারিত্ব, নীতিনির্ধারণী সংযোগ ও দৈনন্দিন কার্যক্রমের সামগ্রিক দায়িত্ব থাকবে তার ওপর।
এই নিয়োগ ওপেনএআইয়ের ভারতে সম্প্রসারণ কৌশলেরই অংশ। গত বছরের আগস্টে নয়াদিল্লিতে প্রথম অফিস চালুর পর চলতি বছরে মুম্বাই ও বেঙ্গালুরুতে নতুন অফিস খোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এর আগে ২০২৪ সালে ট্রুকলার ও মেটার সাবেক নির্বাহী প্রজ্ঞা মিশ্রকে জননীতি ও অংশীদারিত্ব প্রধান হিসেবে আনা হয়; পরে তাকে কৌশল ও বৈশ্বিক কার্যক্রমের দায়িত্বও দেওয়া হয়। পাশাপাশি টুইটার ইন্ডিয়ার সাবেক প্রধান ঋষি জেটলিকে এআই নীতিমালা নিয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য উপদেষ্টা করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উচ্চশিক্ষা, করপোরেট পেমেন্ট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বাণিজ্য ও ওয়েব স্ট্রিমিং খাতে একাধিক অংশীদারিত্ব গড়েছে ওপেনএআই। একই সঙ্গে দেশের ডেটা সেন্টার অবকাঠামো উন্নয়নেও যুক্ত হয়েছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, ভারতে চ্যাটজিপিটির দ্রুত বিস্তারই এই বাজারের গুরুত্বকে স্পষ্ট করছে; রিলায়েন্স ও টাটা গ্রুপ ইতিমধ্যে তাদের অংশীদারদের মধ্যে রয়েছে।
বর্তমানে ভারতে নিয়োগ কার্যক্রমও বাড়িয়েছে ওপেনএআই। এআই ডিপ্লয়মেন্ট ইঞ্জিনিয়ার, ডেভেলপার এক্সপেরিয়েন্স ইঞ্জিনিয়ার, ডেভেলপার মার্কেটিং লিড, পার্টনার ডিরেক্টর ও সল্যুশন ইঞ্জিনিয়ারসহ বিভিন্ন পদে জনবল নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ায় ভারত এখন মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর অন্যতম কৌশলগত ক্ষেত্র। বিপুল ডেভেলপার সম্প্রদায়, এক বিলিয়নের বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং জেনারেটিভ এআইয়ের বাড়তি চাহিদা দেশটিকে এগিয়ে রেখেছে।
প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রপিকও ২০২৫ সালের শেষ দিকে বেঙ্গালুরুতে অফিস চালু করে এবং চলতি বছরে মাইক্রোসফট ইন্ডিয়ার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইরিনা ঘোষকে দেশীয় প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়।