মেমোরি সংকটে অ্যাপল পণ্যের দাম বাড়লেও অপরিবর্তিত আইফোনের দাম

TechWorld Desk

টেকওয়ার্ল্ড ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১৮:৩৬

মেমোরি সংকটে অ্যাপল পণ্যের দাম বাড়লেও অপরিবর্তিত আইফোনের দাম
ছবি : টেকক্রাঞ্চ

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো সম্প্রসারণের কারণে মেমোরি সংকট দেখা দেওয়ায় ম্যাক ও আইপ্যাডের দাম বাড়িয়েছে অ্যাপল। তবে আপাতত আইফোনের দামে কোনো পরিবর্তন আনেনি প্রতিষ্ঠানটি, যদিও চলতি বছরের শেষের দিকে সেটিও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, অ্যাপলের নতুন ম্যাকবুক সিরিজের ‘ম্যাকবুক নিও’-এর দাম ৫৯৯ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৬৯৯ ডলার করা হয়েছে। ম্যাকবুক এয়ারের মূল্য ১,০৯৯ ডলার থেকে বেড়ে ১,২৯৯ ডলার এবং ম্যাকবুক প্রোর দাম ১,৬৯৯ ডলার থেকে ১,৯৯৯ ডলারে উন্নীত হয়েছে। একইভাবে ম্যাক স্টুডিওর দাম ১,৯৯৯ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ২,৪৯৯ ডলার।

আইপ্যাডের ক্ষেত্রেও মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে। আইপ্যাড এয়ারের দাম এখন ৭৪৯ ডলার, যা আগে ছিল ৫৯৯ ডলার। আইপ্যাড প্রোর দাম ৯৯৯ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ১,১৯৯ ডলার। এছাড়া এ১৬ চিপযুক্ত বেস মডেলের আইপ্যাডের দাম ৩৪৯ ডলার থেকে বেড়ে ৪৪৯ ডলার এবং এ১৭ চিপের আইপ্যাড মিনি এখন ৫৯৯ ডলার, যা আগে ছিল ৪৯৯ ডলার।

শুধু কম্পিউটার বা ট্যাবলেট নয়, অ্যাপলের স্মার্ট হোম ডিভাইসগুলোর দামও বেড়েছে। হোমপডের দাম ২৯৯ ডলার থেকে ৩৪৯ ডলার, হোমপড মিনি ৯৯ ডলার থেকে ১২৯ ডলার এবং অ্যাপল টিভি বক্সের দাম ৯৯ ডলার থেকে বেড়ে ১২৯ ডলার হয়েছে। পাশাপাশি ভিশন প্রো হেডসেটের দাম ৩,৪৯৯ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩,৬৯৯ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

অ্যাপল জানিয়েছে, এআই ডেটা সেন্টারের দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে মেমোরি ও স্টোরেজের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যার কারণে উপাদানের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতি আগে কখনো দেখা যায়নি।

অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক সম্প্রতি বলেন, ‘এই মূল্যবৃদ্ধি “অনিবার্য” হয়ে উঠেছে। তিনি আরও জানান, সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য ফিরতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।’

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে স্মার্টফোন ডিআরএমের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ এবং ন্যান্ড ফ্ল্যাশ স্টোরেজের দাম ৯০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য আগের দামে পণ্য বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এআই খাতে বাড়তি বিনিয়োগের কারণে মেমোরি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে, যা ভবিষ্যতেও পণ্যের দাম বাড়ার চাপ তৈরি করবে। একই কারণে অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও শিগগিরই পণ্যের দাম বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।