প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন নিয়ে বিশ্বব্যাংক সামিটে বাংলাদেশি দুই তরুণ

TechWorld Desk

টেকওয়ার্ল্ড ডেস্ক

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ১৩:০৫

প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন নিয়ে বিশ্বব্যাংক সামিটে বাংলাদেশি দুই তরুণ
তিশা খান্দোকার ও মো. তৌফিক এলাহী -ছবি : সংগৃহীত

ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সদর দপ্তরে শুরু হওয়া ১৩তম ইয়ুথ সামিট ২০২৬-এ অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশের দুই তরুণ উদ্ভাবক তিশা খান্দোকার ও মো. তৌফিক এলাহী। দুই দিনের এই আন্তর্জাতিক আয়োজনটি তরুণদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনা করছে।

‘ফিউচারওয়ার্কস: ডিজিটাল যুগে কর্মসংস্থান নকশা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই সামিটে বিশ্বের নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা ও তরুণ উদ্ভাবকেরা অংশ নিচ্ছেন। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং পরিবর্তিত শ্রমবাজারে নতুন সুযোগ সৃষ্টি।

উদ্বোধনী অধিবেশনে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট আজয় বাঙ্গা মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘তরুণদের জন্য টেকসই চাকরি সৃষ্টি এখন বৈশ্বিক উন্নয়ন নীতির অন্যতম অগ্রাধিকার।’

আইএফসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাখতার দিয়প উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে বেসরকারি বিনিয়োগের ভূমিকার ওপর জোর দেন। তার মতে, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ একসঙ্গে কাজ করলে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে যেতে পারে।

সামিটের গুরুত্বপূর্ণ একটি সেশন ছিল “বিয়ন্ড দ্য পিচ ডেক: ফান্ডিং টেবিলের দুই দিক”, যেখানে তরুণ উদ্যোক্তারা কীভাবে অর্থায়ন সংগ্রহ করেন এবং বিনিয়োগকারীরা কোন বিষয়গুলো বিবেচনা করেন তা নিয়ে আলোচনা হয়।

এই সেশনে টাইগার নিউ এনার্জির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী নিকোল মাও অংশ নিয়ে বাংলাদেশের উদ্ভাবন খাতের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন শুধু একটি উদীয়মান বাজার নয়, বরং প্রযুক্তি গ্রহণ ও স্কেলযোগ্য উদ্ভাবনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।’

সামিটের দ্বিতীয় দিনে ইনোভেশন ল্যাবে দুই বাংলাদেশি প্রতিনিধি নিজেদের প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান উপস্থাপন করবেন।

তিশা খান্দোকার উপস্থাপন করবেন ‘এগ্রিক্রেডিট’ নামে একটি এআইভিত্তিক সমাধান, যা তরুণ উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ করতে সহায়তা করবে। অন্যদিকে মো. তৌফিক এলাহী উপস্থাপন করবেন “স্কিলস টু জবস: টিভেট ট্রানজিশনস” শিরোনামের একটি এআইনির্ভর রোডম্যাপ, যার লক্ষ্য শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নকে সরাসরি কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করা।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে উদীয়মান অর্থনীতিতে প্রায় ১২০ কোটি তরুণ কর্মক্ষম বয়সে প্রবেশ করবে। তবে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনকে সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০১৩ সালে শুরু হওয়া বিশ্বব্যাংক ইয়ুথ সামিট ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় বার্ষিক প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি, যেখানে তরুণ নেতৃত্বে বৈশ্বিক উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পথ খোঁজা হয়।

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন