বিশ্বের শীর্ষ ১০ প্রভাবশালী প্রযুক্তি ব্যক্তিত্ব
বিশ্ব প্রযুক্তি এখন এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউডভিত্তিক কম্পিউটিং, ডিজিটাল অর্থনীতি ও ডেটা প্রযুক্তির বিস্তারে নতুন এক শক্তি কাঠামো তৈরি হয়েছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে আছেন কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি, যারা শুধু প্রযুক্তি তৈরি করছেন না, বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও কাজের ভবিষ্যৎও নির্ধারণ করছেন।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক তালিকায় বিশ্বের শীর্ষ ১০ প্রভাবশালী প্রযুক্তি ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরা হয়েছে। প্রভাব, উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি পরিবর্তনে ভূমিকার ভিত্তিতে এই তালিকা সাজানো হয়েছে। চলুন, বিশ্বের শীর্ষ ১০ প্রভাবশালী প্রযুক্তি ব্যক্তিত্বের তালিকায় কারা রয়েছেন জেনে নিই-
১. জেনসেন হুয়াং

তালিকার শীর্ষে আছেন এনভিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা, প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং। তিনি গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিটভিত্তিক কম্পিউটিংকে আধুনিক এআই যুগের মূল ভিত্তিতে পরিণত করেছেন। গেমিং চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়াকে তিনি বৈশ্বিক এআই অবকাঠামোর কেন্দ্রীয় শক্তিতে রূপ দিয়েছেন। ডেটা সেন্টার, সুপারকম্পিউটিং ও এআই প্রশিক্ষণে তার উদ্ভাবন বিশ্ব প্রযুক্তির গতিপথ বদলে দিয়েছে।
২. অ্যালি মিলার

অ্যালি মিলার হলেন ওপেন মেশিন এর প্রধান নির্বাহী ও এআই উপদেষ্টা। এআই ব্যবসা ও কৌশলগত ব্যবহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসে তিনি বহু বিলিয়ন ডলারের মেশিন লার্নিং ব্যবসা গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখেন। আইবিএমে তিনি প্রথম মাল্টিমোডাল এআই টিম প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তিনি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এআই কৌশল নির্ধারণে কাজ করছেন।
৩. স্যাম অল্টম্যান

স্যাম অল্টম্যান জেনারেটিভ এআই বিপ্লবের সবচেয়ে পরিচিত মুখ। তিনি ওপেনএআই্- এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তার নেতৃত্বে ওপেনএআই এমন প্রযুক্তি তৈরি করেছে, যা লেখালেখি, কোডিং এবং বিশ্লেষণের ধরন বদলে দিয়েছে। তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে মানুষ নয়, বরং এআই ব্যবহারকারীরাই এগিয়ে থাকবে।
৪. ইলন মাস্ক

বৈদ্যুতিক গাড়ি, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় এক প্রভাবশালী নাম হলো ইলন মাস্ক। ইলন মাস্ক টেসলা, স্পেসএক্স, এক্স, এক্সএআই-এর প্রধান নির্বাহী ও উদ্যোক্তা। টেসলা ও স্পেসএক্সের মাধ্যমে তিনি পরিবহন ও মহাকাশ গবেষণাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
৫. ড. এফি পাইলারিনু

ড. এফি পাইলারিনু একজন ফিনটেক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। তিনি ইফি পাইলারিনু অ্যাডভাইজরির প্রতিষ্ঠাতা। আর্থিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করার জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ব্যাংকিং খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ব্লকচেইনের ব্যবহার নিয়ে তিনি নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তার গবেষণা ও বিশ্লেষণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায় রূপান্তরে সহায়তা করছে।
৬. কারা সুইশার

কারা সুইশার প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সাংবাদিক ও পডকাস্টার। তিনি নিউ ইয়র্ক ম্যাগাজিন ও ভক্স মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত। সিলিকন ভ্যালির বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তার বিশ্লেষণ ও সরাসরি প্রশ্ন তাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি ও নৈতিকতা নিয়ে জনমত গঠনে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
৭. ভাসু জাক্কাল

ভাসু জাক্কাল মাইক্রোসফট সিকিউরিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি সাইবার নিরাপত্তা খাতে প্রতিষ্ঠানের কৌশল ও কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সহজ ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। বর্তমান সাইবার হুমকির যুগে তার কাজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করছে।
৮. ড. মার্সেল ভলমার

ড. মার্সেল ভলমার এমভি প্রোকিউর প্রধান নির্বাহী ও একজন বিজনেস অ্যাঞ্জেল। তিনি ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন ও সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনায় কাজ করছেন। ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করতে সফটওয়্যার ও অটোমেশন প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে তাঁর গবেষণা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ভবিষ্যতের ডেটা-নির্ভর প্রতিষ্ঠানের ধারণা গড়ে তুলতে তিনি কাজ করছেন।
৯. সুসান এটলিঙ্গার

সুসান এটলিঙ্গার একজন প্রযুক্তি গবেষক ও কৌশলগত উপদেষ্টা। তিনি বিগ ডেটা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ব্যবহারের বিষয়ে কাজ করেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য তিনি তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কৌশল তৈরি করে দেন। প্রযুক্তির সামাজিক প্রভাব বোঝার ক্ষেত্রে তাঁর গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
১০. মারকেস ব্রাউনলি

মারকেস ব্রাউনলি একজন জনপ্রিয় প্রযুক্তি রিভিউয়ার ও কনটেন্ট নির্মাতা। এমকেবিএইচডি নামে তার ইউটিউব চ্যানেল বিশ্বজুড়ে পরিচিত। স্মার্টফোন, গ্যাজেট ও নতুন প্রযুক্তি নিয়ে তিনি সহজ ভাষায় বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। জটিল প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য করে তোলাই তার সাফল্যের মূল কারণ।
এই তালিকা দেখায়, প্রযুক্তি এখন শুধু ইঞ্জিনিয়ারিং বা উদ্ভাবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নেতৃত্ব, বিশ্লেষণ, নীতি, যোগাযোগ এবং জনমতের সমন্বয়ে গড়ে উঠছে নতুন বৈশ্বিক প্রযুক্তি শক্তি কাঠামো।
সূত্র : টেকনোলজি ম্যাগাজিন