স্পাইওয়্যার শনাক্তে অ্যান্ড্রয়েডে নতুন নিরাপত্তা ফিচার আনছে গুগল
ফোনে আড়ালে চলা স্পাইওয়্যার হামলা অনেক সময় ব্যবহারকারীর অজান্তেই দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। এসব আক্রমণের তথ্য বা প্রমাণও অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত মুছে ফেলা হয়, ফলে তদন্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন নিরাপত্তা ফিচার আনছে গুগল। অ্যান্ড্রয়েডে যুক্ত হচ্ছে ‘ইন্ট্রুশন লগিং’ নামের ব্যবস্থা, যা সন্দেহজনক কার্যকলাপের তথ্য সংরক্ষণ করবে এবং আক্রমণ শনাক্তে সহায়তা করবে।
গুগল জানিয়েছে, নতুন ফিচারটি তাদের ‘অ্যাডভান্সড প্রোটেকশন মোড’-এর অংশ হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে। এটি ব্যবহারকারীর ইচ্ছায় চালু করা যায় এমন একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যা ফোনকে হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের স্পাইওয়্যার আক্রমণ এবং ফরেনসিক টুল ব্যবহার করে ডিভাইস থেকে তথ্য বের করার ঝুঁকি মোকাবিলায় এটি তৈরি করা হয়েছে।
কিছু ঘটনায় দেখা গেছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ফরেনসিক টুল ব্যবহার করে ফোন আনলক করার পর সেখানে স্পাইওয়্যার ইনস্টল করা হয়েছে এবং পরে দীর্ঘ সময় নজরদারি চালানো হয়েছে। এমন জটিল আক্রমণ শনাক্ত করতেই নতুন লগিং ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নতুন ব্যবস্থায় প্রতিদিন ডিভাইসের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং তা ব্যবহারকারীর গুগল অ্যাকাউন্টে এনক্রিপ্ট করে সংরক্ষণ করা হবে। ফলে আক্রমণকারীরা সহজে এসব তথ্য মুছে ফেলতে পারবে না।
এই লগ-এ ফোন আনলক হওয়া, অ্যাপ ইনস্টল ও আনইনস্টল, কোন ওয়েবসাইট বা সার্ভারে সংযোগ হয়েছে, এমনকি কোনো ফরেনসিক টুল ফোনে যুক্ত হয়েছে কি না, সেই তথ্যও থাকবে। পাশাপাশি কোনো সন্দেহজনকভাবে লগ মুছে ফেলার চেষ্টা করা হলে সেটিও ধরা পড়বে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই ফিচার উন্নয়নে গুগলের সঙ্গে কাজ করেছে। তারা বলেছে, এটি অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে ফরেনসিক বিশ্লেষণের সক্ষমতায় বড় পরিবর্তন আনবে।
সংস্থাটির মতে, আগে থাকা লগিং ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে তথ্য সংরক্ষণে সক্ষম ছিল না এবং অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যেত। নতুন ব্যবস্থায় সেই সীমাবদ্ধতা অনেকটাই কমবে।
অ্যামনেস্টির সিকিউরিটি ল্যাবের প্রধান কার্ল বলেন, অ্যান্ড্রয়েডের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক স্পাইওয়্যার আক্রমণ আগে সঠিকভাবে শনাক্ত করা যেত না, যা অন্যান্য কিছু অপারেটিং সিস্টেমের তুলনায় দুর্বলতা তৈরি করেছিল।
গুগল জানিয়েছে, অ্যান্ড্রয়েডের নতুন সংস্করণ ব্যবহারকারী কিছু ডিভাইসে ধাপে ধাপে এই ফিচার চালু করা হচ্ছে। শুরুতে এটি শুধু নির্দিষ্ট কিছু পিক্সেল ডিভাইসে পাওয়া যাবে এবং ব্যবহারকারীর গুগল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে।
তবে এই ফিচার ব্যবহারে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এটি চালু করতে অ্যাডভান্সড প্রোটেকশন মোড সক্রিয় করতে হবে এবং সর্বশেষ সফটওয়্যার সংস্করণ প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি কিছু ব্রাউজিং ও সংযোগ–সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত হওয়ায় ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা নিয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
গুগল বলছে, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, গবেষক এবং উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যবহারকারীদের জন্য এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিশেষভাবে কার্যকর হবে। অ্যাপলসহ অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা আগে চালু করেছে।
সূত্র : টেকক্রাঞ্চ