উন্মোচনের আগে এআই মডেল পরীক্ষা করবে মার্কিন সরকার

TechWorld Desk

টেকওয়ার্ল্ড ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ১৫:০১

উন্মোচনের আগে এআই মডেল পরীক্ষা করবে মার্কিন সরকার
ছবি : সিএনএন

মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট, গুগল ও ইলন মাস্কের এক্সএআই এখন থেকে তাদের উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের আসতে যাওয়া নতুন সংস্করণ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে পরীক্ষার জন্য দেবে। এর মূল লক্ষ্য হলো সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানো এবং সম্ভাব্য হুমকি আগে থেকেই চিহ্নিত করা।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেকনোলজি সম্প্রতি এই অংশীদারত্বের ঘোষণা দেয়। বাণিজ্য বিভাগাধীন সেন্টার ফর এআই স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড ইনোভেশন এসব মডেল বাজারে আসার আগে পরীক্ষা করবে। চালুর পরও নিয়মিত মূল্যায়ন চলবে। ইতোমধ্যে তারা ৪০টির বেশি এআই মডেল পরীক্ষা করেছে।

কেন্দ্রটির পরিচালক ক্রিস ফল বলেন, উন্নত এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা বুঝতে কঠোর ও স্বাধীন মূল্যায়ন জরুরি। বড় প্রযুক্তি কোম্পানির সঙ্গে এই কাজ জনস্বার্থে সক্ষমতা বাড়াবে।

এই উদ্যোগ এসেছে অ্যানথ্রপিকের নতুন এআই মডেল ‘মাইথস’ নিয়ে সাইবার নিরাপত্তা উদ্বেগের পর। কোম্পানিটি জানিয়েছে, মডেলটি এখনো সীমিত কিছু অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের জন্য রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও এর বিষয়ে জানানো হয়েছে।

এর আগে ওপেনএআই জানায়, তারা তাদের উন্নত এআই মডেল সরকারি যাচাই করা সংস্থার জন্য খুলে দেবে। লক্ষ্য সম্ভাব্য এআই-নির্ভর হুমকি মোকাবিলা করা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন,

এই উদ্যোগ সরকারি সংস্থাকে এআই পরীক্ষা আরও গভীরভাবে করার সুযোগ দেবে। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জেসিকা জি বলেন, সরকারি সংস্থার তুলনায় বড় প্রযুক্তি কোম্পানির কাছে বেশি জনবল ও কম্পিউটিং শক্তি থাকে। ফলে এই অংশীদারত্ব পরীক্ষা সহজ করবে।

হোয়াইট হাউস এখন নতুন এআই মডেলের জন্য একটি সরকারি পর্যালোচনা কাঠামো নিয়ে কাজ করছে। এটি হলে ট্রাম্প প্রশাসনের তুলনামূলক শিথিল নীতির বড় পরিবর্তন হবে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, কোনো নীতিগত ঘোষণা সরাসরি প্রেসিডেন্টের কাছ থেকেই আসবে।

মাইক্রোসফট বলেছে, তারা আগেও নিজেদের মডেল পরীক্ষা করেছে। তবে সরকারের এই কেন্দ্র অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা দক্ষতা দেবে। গুগল মন্তব্য করেনি। এক্সএআইও কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

সব মিলিয়ে বলা যায়, এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে এর নিরাপত্তা যাচাইও বাড়ছে।