চীন সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে যাচ্ছেন মাস্ক, টিম কুকসহ ১৬ শীর্ষ নির্বাহী

TechWorld Desk

টেকওয়ার্ল্ড ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ১৩:১১

চীন সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে যাচ্ছেন মাস্ক, টিম কুকসহ ১৬ শীর্ষ নির্বাহী
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার আলোচনা সামনে রেখে আসছে এক গুরুত্বপূর্ণ সফর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরে তার সঙ্গে থাকছেন বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি ও শিল্প খাতের একাধিক প্রভাবশালী নির্বাহী। এই সফরকে কেন্দ্র করে বড় আকারের বাণিজ্য চুক্তি ও বিনিয়োগ ঘোষণার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই সফরে অংশ নিচ্ছেন ইলন মাস্ক, অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক, জিই অ্যারোস্পেসের প্রধান নির্বাহী ল্যারি কাল্প এবং বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী কেলি অর্টবার্গ।

তাদের সঙ্গে আরও যাচ্ছেন মেটার ডিনা পাওয়েল ম্যাককরমিক, ব্ল্যাকরকের ল্যারি ফিঙ্ক, ব্ল্যাকস্টোনের স্টিফেন শোয়ার্জম্যান, মাইক্রনের সঞ্জয় মেহরোত্রা, মাস্টারকার্ডের মাইকেল মিয়েবাখ, কোয়ালকমের ক্রিস্টিয়ানো আমন এবং ভিসার রায়ান ম্যাকইনার্নি। তবে সিসকোর প্রধান নির্বাহী চ্যাক রবিনসকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও কোম্পানির আয়ের ঘোষণা থাকায় তিনি সফরে থাকতে পারছেন না।

সূত্র বলছে, 

এই সফরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজ করার জন্য নতুন ফোরাম গঠনের বিষয়ে আলোচনা করতে পারে। পাশাপাশি চীনের পক্ষ থেকে বোয়িং বিমান, মার্কিন কৃষিপণ্য ও জ্বালানি খাতে বড় অর্ডার ঘোষণার সম্ভাবনাও রয়েছে।

বিশেষ নজর রয়েছে বোয়িংয়ের সম্ভাব্য একটি বিশাল চুক্তির দিকে। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা এই চুক্তিতে প্রায় ৫০০টি ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ এবং জিই ইঞ্জিনচালিত আরও কয়েক ডজন বড় আকারের উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে চীনের। এটি বাস্তবায়িত হলে ২০১৭ সালের পর চীনের সবচেয়ে বড় বোয়িং অর্ডার হবে, এমনকি ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ উড়োজাহাজ অর্ডার হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

এদিকে এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং এই সফরে থাকছেন না। হোয়াইট হাউসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এবারের সফরে কৃষি ও বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ খাত, বিশেষ করে বোয়িংয়ের সম্ভাব্য অর্ডার, বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে হুয়াং ও ট্রাম্পের মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ। এর আগে চীনে এনভিডিয়ার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিপ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। যদিও এখনো সেগুলোর বাণিজ্যিক বিক্রি শুরু হয়নি বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্য উত্তেজনা কিছুটা কমলেও রেয়ার আর্থ খনিজ সরবরাহ ও শুল্কনীতি নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান। এই সফরে সেই সাময়িক বিরতি আরও বাড়ানোর বিষয়ে সমঝোতার চেষ্টা হতে পারে।

এর আগে সর্বশেষ ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বৈঠক হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ায়। সেখানে দুই দেশ কঠোর শুল্কযুদ্ধ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।

এই সফর শুধু কূটনৈতিক নয়, বরং বৈশ্বিক প্রযুক্তি ও বাণিজ্য সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র : রয়টার্স

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন