মাইক্রোসফটের নতুন এআই টুল বিশ্লেষণ করবে আইনি নথি
আইনি নথি পর্যালোচনার জটিল ও সময়সাপেক্ষ কাজকে সহজ করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটি তাদের জনপ্রিয় ওয়ার্ড সফটওয়্যারের ভেতরেই যুক্ত করছে একটি উন্নত এআই সহকারী, যা আইনজীবীদের দৈনন্দিন কাজকে আরও দ্রুত ও নির্ভুল করতে সহায়তা করবে।
নতুন এই প্রযুক্তির নাম দেওয়া হয়েছে ‘লিগ্যাল এজেন্ট’। এটি সরাসরি ওয়ার্ডের ভেতরে ব্যবহার করা যাবে এবং মূলত আইনজীবী ও আইনি দলগুলোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। চুক্তি বিশ্লেষণ, নথি সম্পাদনা, আলোচনার হিস্ট্রি সংরক্ষণ এবং জটিল দলিল পর্যালোচনার মতো কাজ সহজে সম্পন্ন করতে পারবে এই এআই সহকারী।
মাইক্রোসফটের অফিস পণ্য বিভাগের করপোরেট ভাইস প্রেসিডেন্ট সুমিত চৌহান জানান, এটি সাধারণ চ্যাটভিত্তিক এআই মডেলের মতো নয়। বরং বাস্তব আইনি কাজের কাঠামো অনুসরণ করে এটি তৈরি করা হয়েছে। ফলে এটি ধাপে ধাপে কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম এবং চুক্তির প্রতিটি ধারা আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করতে পারে।
এই লিগ্যাল এজেন্ট বিদ্যমান নথি বিশ্লেষণ করতে পারে, এমনকি যেসব নথিতে পরিবর্তন বা সংশোধনের চিহ্ন রয়েছে সেগুলোও পড়তে সক্ষম। পাশাপাশি চুক্তি ও সমঝোতার দলিল থেকে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও দায়বদ্ধতা শনাক্ত করতেও সহায়তা করবে এটি।
প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে মাইক্রোসফটের ‘ফ্রন্টিয়ার’ কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীদের জন্য এই সুবিধা চালু করা হচ্ছে। এটি ওয়ার্ডে আরও উন্নত এআই এজেন্টভিত্তিক ফিচার যুক্ত করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই প্রযুক্তি উন্নয়নের পেছনে রয়েছে মাইক্রোসফটের সাম্প্রতিক নিয়োগ কৌশলও। কয়েক মাস আগে প্রতিষ্ঠানটি ‘রবিন এআই’ নামের একটি স্টার্টআপ থেকে একদল প্রকৌশলী ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞকে যুক্ত করে, যারা আগে চুক্তি বিশ্লেষণ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আইনি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে দীর্ঘ ও জটিল নথি বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে এমন প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।