বিশ্বজুড়ে ধীর প্রবৃদ্ধির ‘চ্যাটজিপিটি ইমেজেস ২.০’ জনপ্রিয়তা পেয়েছে ভারতে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ছবি তৈরির নতুন সংস্করণ ‘চ্যাটজিপিটি ইমেজেস ২.০’ চালুর পর বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে এর সবচেয়ে বড় সাফল্য ধরা পড়েছে ভারতে। দেশটিতে এই টুল দ্রুত জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এসেছে।
চ্যাটজিপিটি ইমেজেস ২.০ মূলত এমন একটি উন্নত এআই প্রযুক্তি, যা জটিল নির্দেশ বুঝে উচ্চমানের ছবি তৈরি করতে পারে। এতে বিভিন্ন ভাষায় লেখা সঠিকভাবে উপস্থাপন করার সক্ষমতাও যুক্ত করা হয়েছে।
টেকক্রাঞ্চে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটি ইমেজেস ২.০ চালুর পর থেকেই ভারতে ব্যবহারকারীদের মধ্যে এই টুল নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ব্যবহারকারীরা প্রধানত ব্যক্তিগত ছবি, অবতার এবং কল্পনাভিত্তিক ভিজ্যুয়াল তৈরি করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারের উপযোগী নানা ধরনের ছবিও তৈরি হচ্ছে এতে।
তবে বৈশ্বিক চিত্র কিছুটা ভিন্ন। বিভিন্ন বিশ্লেষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটির অ্যাপ ডাউনলোড সামগ্রিকভাবে কিছুটা বেড়েছে। তবে দৈনিক ব্যবহার এবং সামগ্রিক সম্পৃক্ততার বৃদ্ধি সীমিত। অনেক অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি মাত্র এক থেকে দুই শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
অন্যদিকে কিছু উদীয়মান দেশে ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে অ্যাপ ডাউনলোডে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন দেখা গেছে।
ভারতে এক সপ্তাহে কয়েক মিলিয়ন বার চ্যাটজিপিটি ডাউনলোড হয়েছে। দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বেড়েছে, যদিও সেটি তুলনামূলকভাবে সীমিত হারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতে এই টুলটি মূলত আত্মপ্রকাশের একটি নতুন মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সাধারণ ছবিকে স্টুডিও মানের প্রতিকৃতিতে রূপান্তর, কল্পনাভিত্তিক দৃশ্য তৈরি এবং সামাজিক মাধ্যমে উপযোগী কনটেন্ট তৈরিতে এর ব্যবহার বেশি।
নতুন সংস্করণে উন্নত রেন্ডারিং সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন ভাষার লেখা আরও নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে। এতে হিন্দি ও বাংলা ভাষার মতো লাতিন নয় এমন ভাষার ক্ষেত্রেও উন্নতি দেখা যাচ্ছে।
ব্যবহারকারীরা এখন শুধু ব্যক্তিগত ছবি নয়, বরং সংবাদপত্রের প্রচ্ছদধর্মী ভিজ্যুয়াল, ফ্যাশন মুডবোর্ড এবং কল্পনাভিত্তিক শিল্পধারার ছবিও তৈরি করছেন। পুরোনো ছবি পুনরুদ্ধার এবং সিনেমাটিক কোলাজ তৈরিতেও এর ব্যবহার বাড়ছে।
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ছবি তৈরির বাজারে প্রতিযোগিতা দ্রুত বাড়ছে। বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এই খাতে নতুন নতুন ফিচার যুক্ত করছে। তবে ব্যবহারকারীর গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে এখনো স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি অনেকাংশেই নির্ভর করবে ব্যবহারকারীরা কীভাবে এটিকে দৈনন্দিন সৃজনশীল কাজে যুক্ত করে তার ওপর।