রাশিয়ান হ্যাকারদের নজরে আইফোন ব্যবহারকারীরা

Staff Reporter

নিজস্ব প্রতিবেদক

শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ১২:০০

রাশিয়ান হ্যাকারদের নজরে আইফোন ব্যবহারকারীরা
ছবি : ওয়্যার্ড ডটকম

বিশ্বজুড়ে শতকোটি আইফোন ব্যবহারকারী নতুন হ্যাকিং টুলের ঝুঁকিতে পড়েছেন। ডার্কসোর্ড নামে পরিচিত এই টুল ব্যবহার করে রাশিয়ান হ্যাকাররা সহজেই আইওএস ১৮ চালানো যেকোনো আইফোন দখল করতে পারে। শুধু সংক্রামিত ওয়েবসাইটে ভিজিট করলেই ব্যবহারকারীর ফোনের ব্যক্তিগত তথ্য হাতের কাছে চলে আসে।

গুগল এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান আইভেরিফাই ও লুকআউট সম্প্রতি এই হ্যাকিং টুলের সন্ধান দিয়েছেন। তারা দেখেছেন, ডার্কসোর্ড ব্যবহার করলে ফোনে অতি দ্রুত এবং নিরবধি ডেটা চুরি হয়। যদিও সর্বশেষ আইওএস সংস্করণে এটি কার্যকর নয়, তবে আইওএস ১৮ চালানো ফোন এখনও বিশ্বের প্রায় এক চতুর্থাংশ আইফোনে ব্যবহৃত হচ্ছে।

আইভেরিফাই-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী রকি কোল জানান,‘শুধু একটি জনপ্রিয় ওয়েবসাইটে ভিজিট করলেই ব্যবহারকারীর সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হতে পারে। যারা পুরনো ডিভাইস ব্যবহার করছেন, তাদের জন্য এটি মারাত্মক ঝুঁকি।’

ডার্কসোর্ড মূলত রাশিয়ান গোয়েন্দা হ্যাকারদের মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি ইউক্রেনের সংবাদ ও সরকারি ওয়েবসাইটের কোডে সংযুক্ত করে ব্যবহার করা হয়েছে। গুগল জানিয়েছে, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মালয়েশিয়াতেও এই হ্যাকিং টুল ব্যবহার হয়েছে। বিশেষ করে তুর্কি নিরাপত্তা সংস্থা পার্স ডিফেন্সের ক্লায়েন্টদের ফোন লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

গবেষক মাতিয়াস ফ্রাইলিংসডর্ফ বলেন,‘রাশিয়ান হ্যাকাররা ডার্কসোর্ডের সম্পূর্ণ কোড ওয়েবসাইটে রেখে দিয়েছেন। এতে অন্য হ্যাকাররা খুব সহজেই এটি সংগ্রহ করে নিজের সার্ভারে ব্যবহার করতে পারবে। এটি অত্যন্ত সহজ।’

অ্যাপল জানিয়েছে,‘আমাদের নিরাপত্তা দল প্রতিদিন ব্যবহারকারীর ডিভাইস ও তথ্য রক্ষা করতে কাজ করছে।’ তারা সতর্ক করেছেন, সফটওয়্যার সর্বদা আপডেট রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা পদক্ষেপ। আইওএস-এর লকডাউন মোড সক্রিয় থাকলেও ব্যবহারকারী সুরক্ষিত থাকবেন।

লুকআউট জানিয়েছে, ডার্কসোর্ড ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড, ফটো, বার্তা লগ, ব্রাউজার ইতিহাস, ক্যালেন্ডার, নোটস এবং হেলথ অ্যাপের তথ্য চুরি করে। এছাড়াও এটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটের তথ্যও সংগ্রহ করতে পারে।

ডার্কসোর্ড ফাইললেস প্রযুক্তি ব্যবহার করে। অর্থাৎ এটি ফোনে স্থায়ীভাবে স্পাইওয়্যার ইনস্টল করে না, বরং সিস্টেম প্রক্রিয়া ব্যবহার করে তথ্য চুরি করে। তাই রিবুটের পর ফোন পরিষ্কার থাকে, এবং তথ্য চুরি হয় প্রথম কয়েক মিনিটের মধ্যে।

আইওএস ১৮-এর প্রায় সব সংস্করণে ডার্কসোর্ড কার্যকর। নতুন আইওএস ২৬-এ অনেক ফোনে এটি কাজ করে না। ব্যবহারকারীরা সেটিংসে গিয়ে সফটওয়্যার আপডেট করে নিরাপত্তা বাড়াতে পারেন। আইভেরিফাই এবং লুকআউটের সিকিউরিটি অ্যাপও চেক করতে পারে ফোন ডার্কসোর্ড দ্বারা আক্রান্ত কিনা।

কতৃপক্ষ এখনও নিশ্চিত নয় ডার্কসোর্ড কে তৈরি করেছে। তবে গবেষকরা ধারণা করছেন, এটি হ্যাকারদের তৈরি নয়, বরং কোনো ব্রোকার সংস্থা তৈরি করে বিক্রি করেছে। পূর্বের হ্যাকিং টুল কোরুনার মতো ডার্কসোর্ডও বাজারে বিক্রি হয়ে রাশিয়ান হ্যাকারদের হাতে পৌঁছেছে।

আইভেরিফাই-এর কোল মনে করেন,‘ডার্কসোর্ডকে এত সহজে ব্যবহার করা হয়েছে, যা দেখায় যে আইওএস হ্যাকিং টুল এখন বাজারে সহজলভ্য। হ্যাকাররা এ নিয়ে নির্দ্বিধায় ব্যবহার করতে আগ্রহী।’

সূত্র : ওয়্যার্ড ডটকম

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন