যুক্তরাষ্ট্রের ২৬ অঙ্গরাজ্যের আকাশে উড়বে ‘এয়ার ট্যাক্সি’
শহরের যানজট এড়িয়ে দ্রুত যাতায়াতের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ প্রযুক্তি। সেই প্রযুক্তিকে বাস্তবে আনতে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হচ্ছে বড় পরিসরের পরীক্ষা। আগামী গ্রীষ্ম থেকেই দেশটির ২৬ অঙ্গরাজ্যের আকাশে পরীক্ষামূলকভাবে উড়বে বৈদ্যুতিক এয়ার ট্যাক্সি। ব্যক্তিগত ভ্রমণ, আঞ্চলিক পরিবহন ও জরুরি সেবায় নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে এই উদ্যোগ।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফএএ আটটি পাইলট কর্মসূচি অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে আর্চার এভিয়েশন, বেটা টেকনোলজিস, জোবি এভিয়েশন ও উইস্কসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আগামী গ্রীষ্ম থেকেই বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজের বিস্তৃত পরীক্ষা চালাতে পারবে।
তিন বছর মেয়াদি এই কর্মসূচি ২৬ অঙ্গরাজ্যে পরিচালিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি বলেন, ব্যক্তিগত ভ্রমণ, আঞ্চলিক যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও জরুরি চিকিৎসা সেবায় ব্যবহারের জন্য নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
এই কর্মসূচির নাম অ্যাডভান্সড এয়ার মোবিলিটি অ্যান্ড ইলেকট্রিক ভার্টিক্যাল টেকঅব অ্যান্ড ল্যান্ডিং ইন্টিগ্রেশন পাইলট প্রোগ্রাম। গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এটি ঘোষণা করা হয়, যাতে ভবিষ্যতের এই উড়োজাহাজ প্রযুক্তির উন্নয়ন দ্রুত এগিয়ে নেওয়া যায়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক প্রতিষ্ঠান উড্ডয়ন ও অবতরণ সক্ষম বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ তৈরি করছে। এই ধরনের উড়োজাহাজকে সংক্ষেপে ইভিটিওএল বলা হয়। এগুলো ব্যবহার করে শহরের ভেতরে এয়ার ট্যাক্সি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নতুন উড়োজাহাজ বাণিজ্যিকভাবে চালু করতে সাধারণত দীর্ঘ সময় ও বিপুল অর্থ বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়। কারণ প্রতিটি নতুন উড়োজাহাজকে এফএএ-এর কঠোর অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

নতুন পাইলট কর্মসূচির ফলে পূর্ণ অনুমোদন পাওয়ার আগেই এসব উড়োজাহাজ পরীক্ষার সুযোগ পাবে প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে প্রযুক্তি উন্নয়ন দ্রুত হবে এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক সম্ভাবনাও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
বেটা টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কাইল ক্লার্ক বলেন, এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ফলে তাদের প্রতিষ্ঠান পরিকল্পনার চেয়ে প্রায় এক বছর আগেই উড়োজাহাজ পরিচালনা শুরু করতে পারবে। ঘোষণার পর সোমবার কোম্পানিটির শেয়ারমূল্য প্রায় ১২ শতাংশ বেড়ে যায়। একই সময় আর্চার এভিয়েশন ও জোবি এভিয়েশনের শেয়ারদরও বৃদ্ধি পায়।
আর্চার এভিয়েশন জানায়, এই কর্মসূচি অনেকটা স্বয়ংচালিত ট্যাক্সি পরীক্ষার মতোই একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এর মাধ্যমে নিরাপদভাবে বৈদ্যুতিক এয়ার ট্যাক্সি চালু করার কৌশল তৈরি করা সম্ভব হবে। প্রতিষ্ঠানটি চার যাত্রী বহনে সক্ষম ‘মিডনাইট’ নামের একটি পাইলটচালিত ইভিটিওএল উড়োজাহাজ তৈরি করছে। ২০২৮ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক গেমস উপলক্ষে সেখানে এয়ার ট্যাক্সি চালুর প্রস্তুতিও নিচ্ছে তারা।
এফএএ-এর উপপ্রশাসক ক্রিস রোশেলো বলেন, এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে জাতীয় আকাশপথ ব্যবস্থায় নতুন ধরনের উড়োজাহাজ কীভাবে নিরাপদভাবে যুক্ত করা যায় সে বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে। তিনি জানান, সংস্থাটি এই কর্মসূচির জন্য মোট ৩০টি প্রস্তাব পেয়েছিল।
পাইলট কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির বন্দর কর্তৃপক্ষ আর্চার, বেটা, ইলেক্ট্রা ও জোবি এভিয়েশনের সঙ্গে অংশীদারত্ব করেছে। তারা ম্যানহাটনের একটি হেলিপোর্টকে কেন্দ্র করে একাধিক পরিচালনাগত ধারণা পরীক্ষা করবে।
ফ্লোরিডা, লুইজিয়ানা ও নর্থ ক্যারোলাইনার পরিবহন বিভাগও পৃথক প্রকল্প পরিচালনা করছে। অন্যদিকে আলবুকার্কি শহর রিলায়েবল রোবোটিক্সের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় উড়োজাহাজ পরিচালনা পরীক্ষা করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে শহরের আকাশেই গড়ে উঠতে পারে দ্রুত ও পরিবেশবান্ধব নতুন পরিবহন ব্যবস্থা।
সূত্র : টেকক্রাঞ্চ