গুগলের ‘ন্যানো বানানা ২’ দিয়ে ছবি তৈরি হবে দ্রুত ও সহজ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি এখন এত উন্নত যে, যেকেউ সহজে ছবি ও ভিডিও তৈরি করতে পারছেন। শুধু সঠিক প্রম্পট দিলে মনের মতো ছবি বানানো সম্ভব। গুগল এই কাজকে আরও দ্রুত ও সহজ করতে তাদের নতুন মডেল ‘ন্যানো বানানা ২’ চালু করেছে।
এই মডেলটির প্রকৃত নাম জেমিনি ৩.১ ফ্ল্যাশ ইমেজ। আগের সংস্করণের তুলনায় এটি আরও বাস্তবসম্মত ছবি তৈরি করতে সক্ষম। গুগলের জেমিনি অ্যাপে ফাস্ট, থিংকিং ও প্রো মোডের সব জায়গায় এখন এটি ডিফল্ট ইমেজ জেনারেশন মডেল হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
ন্যানো বানানা মডেলটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ২০২৫ সালের আগস্টে। এরপর জেমিনি অ্যাপ ব্যবহার করে কোটি কোটি ছবি তৈরি করেছেন ব্যবহারকারীরা, বিশেষ করে ভারতে এর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। পরে সেই বছরের নভেম্বরে গুগল এনেছে ‘ন্যানো বানানা প্রো’, যা উচ্চমানের ছবি তৈরি করার সুযোগ দিয়েছিল।
নতুন ‘ন্যানো বানানা ২’ আগের প্রো মডেলের কিছু বৈশিষ্ট্য রেখে আরও দ্রুত ছবি তৈরি করতে সক্ষম। ৫১২ পিক্সেল থেকে ৪কে রেজ্যুলেশন পর্যন্ত বিভিন্ন অনুপাতের ছবি তৈরি করা যাবে। স্টোরিটেলিং বা গল্পভিত্তিক কনটেন্টে এটি একসঙ্গে সর্বোচ্চ পাঁচটি চরিত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে। একটি ওয়ার্কফ্লোতে সর্বোচ্চ ১৪টি অবজেক্ট সঠিকভাবে ধরা সম্ভব।
এছাড়া উন্নত আলো, সমৃদ্ধ টেক্সচার ও তীক্ষ্ণ ডিটেইলসহ মিডিয়া কন্টেন্ট তৈরি করা যাবে। ব্যবহারকারীরা চাইলে নিখুঁত নির্দেশনা দিয়ে নিখুঁত ছবি বানাতে পারবেন।
ন্যানো বানানা ২ এখন জেমিনি অ্যাপের সব অ্যাপে ডিফল্ট মডেল। গুগলের ভিডিও এডিটিং টুল ফ্লোতেও এটি ব্যবহৃত হবে। গুগল সার্চেও, গুগল লেন্স ও এআই মোডের মাধ্যমে, ১৪১টি দেশে ডেস্কটপ ও মোবাইলে এটি ডিফল্ট মডেল হিসেবে কাজ করবে।
উচ্চতর সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান ব্যবহারকারীরা চাইলে ন্যানো বানানা প্রোও ব্যবহার করতে পারবেন। ডেভেলপাররা জেমিনি এপিআই, জেমিনি সিএলআই এবং ভার্টেক্স এপিআইয়ের মাধ্যমে প্রিভিউ সংস্করণ ব্যবহার করতে পারবেন। এআই স্টুডিও এবং অ্যান্টিগ্র্যাভিটি টুলেও মডেলটি কাজ করবে।
গুগল জানিয়েছে, নতুন মডেল দিয়ে তৈরি সব ছবিতে থাকবে সিন্থআইডি ওয়াটারমার্ক। এটি এআই-নির্মিত ছবি শনাক্ত করার জন্য। ছবিগুলো সি২পিএ কনটেন্ট ক্রেডেনশিয়ালস মানদণ্ডের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। নভেম্বর থেকে এ বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে ২ কোটি বার ছবির শনাক্তকরণ হয়েছে।
সূত্র : টেকক্রাঞ্চ