বিশ্বব্যাপী মেমোরি চিপ সংকট নিয়ে প্রযুক্তি প্রধানদের সতর্কবার্তা
টেসলা প্রধান ইলন মাস্ক, অ্যাপলের প্রধান টিম কুক, শাওমির প্রেসিডেন্ট লু ওয়েইবিং এবং অন্যান্য প্রযুক্তি সংস্থার প্রধানরা একটি বিশ্বব্যাপী সংকটের সতর্কতা দিয়েছেন। তারা বলছেন, মেমোরি চিপের ঘাটতি শুরু হয়েছে, যা মুনাফা কমাচ্ছে, কোম্পানির পরিকল্পনায় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে এবং ল্যাপটপ, স্মার্টফোন, গাড়ি এবং ডেটা সেন্টারের খরচ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট ভবিষ্যতে আরও মারাত্মক রূপ নেবে।
ব্লুমবার্গ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংকটের মূল কারণ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্র তৈরি করা। আলফাবেট ও ওপেনএআইয়ের মতো সংস্থা এনভিডিয়া এআই অ্যাক্সেলারেটর কিনছে, যা প্রচুর পরিমাণে ডিআরএএম ব্যবহার করে। এর ফলে স্যামসাং ও মাইক্রনের মতো সংস্থার সাথে প্রতিযোগিতা বেড়ে গেছে। এলন মাস্ক জানিয়েছেন, টেসলার দুইটি বিকল্প আছে: চিপ সংকট মেনে নেওয়া বা নিজস্ব উৎপাদন কারখানা তৈরি করা।
মেমোরি চিপের দাম বেড়েছে এবং এক ধরনের ডিআরএএমের দাম এক মাসে ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এই সংকটকে ‘র্যাম-ম্যাজেডন’ নামে উল্লেখ করেছেন। টিম কুক সতর্ক করেছেন যে, আইফোনের মুনাফা কমতে পারে। মাইক্রন সংস্থা বলেছে, এটি অভূতপূর্ব সংকট।
সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে প্রভাব অনুভব করছে। সনি পরবর্তী প্লেস্টেশন কনসোলের প্রকাশ ২০২৮ বা ২০২৯ পর্যন্ত স্থগিত করতে পারে। নিনটেন্ডো সুইচ ২-এর দাম বাড়ানোর কথা ভাবছে। শাওমি ও অপ্পো ২০২৬ সালের শিপমেন্ট কমাতে পারে। সিস্কো কম লাভের কারণে শেয়ার ক্ষতি হয়েছে। কোয়ালকম ও আর্ম হোল্ডিংসও আরও প্রভাবের সতর্কতা দিয়েছে।
এই সংকট করোনার সময়ের চিপ ঘাটতির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, তবে এবার কারণ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। মেটা, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট ও গুগল এআই অবকাঠামোয় বড় বিনিয়োগ করছে, ফলে উচ্চ ব্যান্ডউইথ মেমোরি প্রাধান্য পাচ্ছে। সাধারণ ডিআরএএমের জন্য কম জায়গা রয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞ বার্নস্টেইনের মার্ক লি বলছেন, মেমোরি চিপের দাম ‘অসীম বৃদ্ধির পথে।’ লেনোভোর প্রধান ইয়াং ইউয়ানকিং জানাচ্ছেন, সংকট চলাকালীন পুরো বছর জুড়েই থাকবে। কনট্রাপয়েন্ট রিসার্চের অনুমান, ডিআরএএম ঘাটতি ইলেকট্রনিক্স, টেলিকম ও অটোমোবাইল শিল্পে চলবে এবং ইতিমধ্যেই আতঙ্ক ক্রয়ের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া