জেনএআই ব্যবহারে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ডেটা নিরাপত্তার ঝুঁকি
২০২৬ সালের শুরুতেই বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার মাত্রা বেড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জেনএআই ব্যবহারের সঙ্গে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি আরও বাড়ছে। শিক্ষা, সরকার ও টেলিযোগাযোগ খাত সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তু। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এই পরিস্থিতি নির্দেশ করছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান চেক পয়েন্ট রিসার্চ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রতি প্রতিষ্ঠানে গড়ে সাপ্তাহিক ২ হাজার ৯০টি সাইবার হামলা হয়েছে। ডিসেম্বরের তুলনায় এটি ৩ শতাংশ বেশি। ২০২৫ সালের জানুয়ারির তুলনায় বেড়েছে ১৭ শতাংশ। র্যানসমওয়্যার তৎপরতা ও জেনএআই ব্যবহারের বিস্তারে ডেটা উন্মুক্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায় এই প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি হামলার মুখে রয়েছে শিক্ষা খাত। প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে গড়ে ৪ হাজার ৩৬৪টি হামলা হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি। বিপুল ব্যবহারকারী, পুরোনো অবকাঠামো এবং বেশি ডেটা থাকার কারণে এই খাত হামলাকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
সরকারি খাত দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। সপ্তাহে গড়ে ২ হাজার ৭৫৯টি হামলা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম ও মূল্যবান তথ্য থাকায় এই খাত নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।
তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে টেলিযোগাযোগ খাত। প্রতি সপ্তাহে গড়ে ২ হাজার ৬৪৭টি হামলা হয়েছে। পাঁচজি বিস্তার, সংযোগ নির্ভরতা এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ঝুঁকির কারণে এই খাতে হামলা বাড়ছে।
আঞ্চলিক হিসাবেও বড় পার্থক্য দেখা গেছে। আমেরিকায় প্রতি প্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক গড়ে ৩ হাজার ১১০টি হামলা হয়েছে, যা বছরে ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ৩ হাজার ৮৭টি হামলা হয়েছে, বৃদ্ধি ৭ শতাংশ। আফ্রিকায় ২ হাজার ৮৬৪টি হামলা হলেও সেখানে ৬ শতাংশ কমেছে। ইউরোপে ১৮ শতাংশ এবং উত্তর আমেরিকায় ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
জেনএআই ব্যবহারের বিস্তার নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। প্রতি ৩০টি জেনএআই প্রম্পটের মধ্যে একটি সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করছে। জেনএআই ব্যবহার করা ৯৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে এই ঝুঁকি দেখা গেছে। আরও ১৬ শতাংশ প্রম্পটে সম্ভাব্য সংবেদনশীল তথ্য ছিল। গড়ে একটি প্রতিষ্ঠান ১০ ধরনের জেনএআই সরঞ্জাম ব্যবহার করছে। প্রতি ব্যবহারকারী মাসে গড়ে ৭৬টি প্রম্পট দিচ্ছেন।
র্যানসমওয়্যার হামলাও বেড়েছে। জানুয়ারিতে ৬৭৮টি হামলার তথ্য পাওয়া গেছে। আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। উত্তর আমেরিকায় ৫২ শতাংশ ভুক্তভোগী। ইউরোপে ২৪ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মোট ৪৮ শতাংশ। এরপর যুক্তরাজ্য ৫ শতাংশ, কানাডা ও জার্মানি ৪ শতাংশ করে, ইতালি ও স্পেন ৩ শতাংশ করে।
শিল্পভিত্তিক হিসাবে ব্যবসা সেবা খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। মোট ভুক্তভোগীর ৩৩ শতাংশ। ভোক্তা পণ্য ও সেবা ১৫ শতাংশ এবং শিল্প উৎপাদন ১১ শতাংশ।
র্যানসমওয়্যার গ্রুপ কিলিন সবচেয়ে সক্রিয়, মোট হামলার ১৫ শতাংশে জড়িত। লকবিট ১২ শতাংশ এবং আকিরা ৯ শতাংশ হামলায় জড়িত।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান চেক পয়েন্ট সফটওয়্যার বলেছে, বর্তমান হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরোধভিত্তিক বহুমাত্রিক নিরাপত্তা কৌশল জরুরি। শুধু শনাক্ত করলেই চলবে না। ক্লাউড, নেটওয়ার্ক, ডিভাইস ও ব্যবহারকারী পর্যায়ে সমন্বিত সুরক্ষা প্রয়োজন। আগাম প্রস্তুতি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াই সাইবার ঝুঁকি কমানোর প্রধান উপায়।
সূত্র : চেক পয়েন্ট ডটকম