ফোনের ক্যামেরা দিয়ে চমৎকার ছবি তোলার ১০ কৌশল
স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, প্রতিদিনের ফটোগ্রাফির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সঙ্গীও বটে। ভ্রমণ, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তের ছবি তুলতে এখন হাতে ভারী ক্যামেরা থাকা প্রয়োজন নেই। কারণ, আধুনিক স্মার্টফোনের ক্যামেরা এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে যে অনেক ক্ষেত্রেই এটি পেশাদার ক্যামেরার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম।
অভিজ্ঞ আলোকচিত্রীদের মতে, কিছু সহজ কৌশল মেনে চললে স্মার্টফোন দিয়েই পাওয়া সম্ভব চমকপ্রদ ছবি। নিচে দেওয়া হলো ১০টি কার্যকর টিপস, যা কাজে লাগালে আপনার ফোনের ছবিও হয়ে উঠতে পারে পেশাদার মানের।
১. ভালো ক্যামেরার ফোন বেছে নিন
আজকের দিনে অন্তত তিন-চার বছর আগের ফ্ল্যাগশিপ ফোনের ক্যামেরাই দৈনন্দিন ফটোগ্রাফির জন্য যথেষ্ট। নতুন ফোন কিনতে চাইলে বাজেট বাঁচাতে আগের বছরের প্রিমিয়াম মডেল কেনা বেশি লাভজনক। যেমন- আইফোন ১৩ এর ডুয়াল ক্যামেরা দিয়েই এখনো তোলা যায় দারুণ ছবি। বাজেট বাড়লে প্রো মডেল বা গুগল পিক্সেল, ওয়ানপ্লাস, স্যামসাং গ্যালাক্সির ফ্ল্যাগশিপ ফোনও নেওয়া যায়।
২. আলো খুঁজে নিন
ফোনের নাইট মোড যত উন্নতই হোক, প্রকৃত আলো ছবিকে সব সময় করে তোলে জীবন্ত ও আকর্ষণীয়। ঘরে জানালা দিয়ে আসা সূর্যের আলো কিংবা শহরের রাতের রঙিন নিয়ন আলো যা-ই হোক, আলোর উৎস খুঁজে নিন। এতে ছবির গুণগত মান অনেকটা বেড়ে যাবে।
৩. এক্সপোজার নিয়ন্ত্রণ করুন
স্মার্টফোন ক্যামেরায় এক্সপোজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ থাকে। এই ফিচার কাজে লাগিয়ে ছবিকে উজ্জ্বল বা অন্ধকার করা যায়। আইফোনে স্ক্রিনে ট্যাপ করলে সূর্যের আইকন দেখা যায়-উপরে টানলে ছবি উজ্জ্বল হবে, নিচে নামালে অন্ধকার হবে। অ্যান্ড্রয়েডে সাধারণত ‘+/–’ চিহ্নে এই সুবিধা থাকে।
৪. গ্রিড চালু করুন
ক্যামেরার গ্রিড লাইন ব্যবহার করলে সহজেই সোজা ও ভারসাম্যপূর্ণ ছবি তোলা যায়। ছবির ফ্রেমিং ঠিক থাকে এবং ‘রুল অব থার্ডস’ মেনে ছবি তুলতেও গ্রিড সাহায্য করে।
৫. ফোনের ফিচার কাজে লাগান
স্মার্টফোনের নানা ফিচার ব্যবহার করে ছবি তোলা সহজ ও পেশাদার মানের হয়। দিন বা রাত যেকোনো সময়ে এইচডিআর, নাইট মোড বা পোর্ট্রেট মোড ব্যবহার করুন। ফোনের আল্ট্রা-ওয়াইড এবং টেলিফটো লেন্সও কাজে লাগান। ছবি ফাইল ফরম্যাটের দিকে খেয়াল রাখুন। সাধারণ জেপিইজি ফাইলের পরিবর্তে এইচইআইএফ বা র-ফরম্যাট বেছে নিলে পরবর্তী এডিটিং সহজ হয়।
৬. স্থির থাকুন
ফোন হালকা হওয়ায় ছবি অনেক সময় কেঁপে যায় বা বাকা হয়। ছবি তোলার সময় দুই হাতে ফোন শক্ত করে ধরুন। চাইলে ভলিউম বাটন দিয়ে ছবি তুলুন। ফোনের গ্রিপ কেস ব্যবহার করলেও সুবিধা পাওয়া যায়।
৭. অ্যাড-অন লেন্স ব্যবহার করুন
বিশেষ ধরনের ছবি তোলার জন্য আলাদা লেন্স ব্যবহার করতে পারেন। মোমেন্ট বা শিফটক্যামের লেন্সগুলো জনপ্রিয়। ম্যাক্রো, আল্ট্রা-ওয়াইড, ফিশ-আই কিংবা টেলিফটোতে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী লেন্স বেছে নিন। ভিডিওর জন্য চাইলে সিনেম্যাটিক অভিজ্ঞতা আনার জন্য অ্যানামরফিক লেন্স ব্যবহার করা যায়।
৮. গিম্বল ব্যবহার করুন
ফোনে শুধু ছবি নয়, ভিডিওও তোলা যায়। তবে মসৃণ ও পেশাদার মানের ভিডিও চাইলে গিম্বল ব্যবহার করুন। ডি-জেআই ওসমো মোবাইল ৭পি বা ইনস্টা৩৬০ ফ্লো ২ প্রো জনপ্রিয়। এগুলো দিয়ে হাঁটাচলা করলেও ভিডিও হবে স্থির ও সিনেম্যাটিক।
৯. ভালো মাইক্রোফোন নিন
ভিডিওর অডিও মানও গুরুত্বপূর্ণ। ফোনের মাইক্রোফোন মূলত কলের জন্য বানানো। তাই ভালো মানের অডিও পেতে আলাদা মাইক্রোফোন ব্যবহার করুন। ডি-জেআই মাইক মিনি ’র মতো ওয়্যারলেস মাইক্রোফোন শব্দ হবে স্বচ্ছ ও পরিষ্কার।
১০. ছবি এডিট করুন
স্মার্টফোনে থাকা এডিটিং টুল ব্যবহার করে ছবিকে আরও সুন্দর করা যায়। রঙ ঠিক করা, আলো নিয়ন্ত্রণ করা বা সাদাকালো করা—সবই সম্ভব। ফোনের বিল্ট-ইন টুল অথবা ভিএসসিও, লাইটরুম, স্ন্যাপসিডের মতো জনপ্রিয় অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।
স্মার্টফোন এখন শুধু কথা বলার যন্ত্র নয়, এটি এক শক্তিশালী ক্যামেরা। সামান্য কৌশল আয়ত্তে আনলেই আপনার তোলা ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবার দৃষ্টি কাড়বে।
সূত্র : পিসি ম্যাগ