গোপনীয়তা বিতর্কে এআই ইমেজ ফিচার সরিয়ে নিয়েছে মেটা
চালুর মাত্র কয়েক দিনের মাথায় এআইভিত্তিক একটি ইমেজ ফিচার বন্ধ করে দিয়েছে মেটা। ইনস্টাগ্রামের পাবলিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ছবি তৈরির সুযোগ দেওয়ায় গোপনীয়তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে এই সিদ্ধান্ত নেয় প্রতিষ্ঠানটি।
শুক্রবার (১০ জুলাই) এক বিবৃতিতে মেটা জানায়, ব্যবহারকারীদের জন্য সৃজনশীল একটি টুল তৈরি করা এবং তাদের কনটেন্ট কীভাবে ব্যবহার হবে সে বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ দেওয়াই ছিল এই ফিচারের উদ্দেশ্য। তবে ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট হয়েছে, ফিচারটি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি, তাই এটি আর উপলব্ধ নেই।
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিকানা প্রতিষ্ঠানটি মঙ্গলবার ‘মিউজ ইমেজ’ নামে এই ফিচার চালু করে। এটি ছিল মেটা সুপারইনটেলিজেন্স ল্যাবসের প্রথম ইমেজ জেনারেশন মডেল, যা মেটা এআই চ্যাটবটে যুক্ত ছিল। ব্যবহারকারীরা ছবি ইনপুট হিসেবে দিয়ে নতুন ছবি তৈরি করতে এবং স্কেচের মাধ্যমে তা সম্পাদনা করতে পারতেন। তবে চালুর পরপরই গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়, বিশেষ করে ফিচারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যাওয়ায় সমালোচনা বাড়ে। অনেকেই অভিযোগ করেন, ব্যবহারকারীর স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া তাদের পাবলিক কনটেন্ট ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
এমি পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী হান্না আইনবাইন্ডার, যিনি ‘হ্যাকস’ সিরিজের জন্য পরিচিত, ইনস্টাগ্রামে ফিচারটির সমালোচনা করে জানান, এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু ছিল এবং ব্যবহারকারীদের তা বন্ধ করার আহ্বান জানান।
অভিনেতা ও গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠন স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড-আমেরিকান ফেডারেশন অব টেলিভিশন অ্যান্ড রেডিও আর্টিস্টস-ও সদস্যদের এই ফিচার থেকে অপ্ট-আউট করার আহ্বান জানায়। সংগঠনটির মতে, এ ধরনের ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্পষ্ট ও দৃশ্যমান সম্মতি ছাড়া কিছুই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি জনমতের বড় ধরনের ভুল মূল্যায়ন।
ফিচারটি প্রত্যাহারের পর সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানিয়েছে স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড-আমেরিকান ফেডারেশন অব টেলিভিশন অ্যান্ড রেডিও আর্টিস্টস। সংগঠনটির এক মুখপাত্র বলেন, অনুমতি ছাড়া ডিজিটাল প্রতিরূপ তৈরির ঝুঁকি সুপরিচিত, তাই এমন ফিচার উৎসাহিত করা ঠিক হয়নি এবং এটি বন্ধ করা দায়িত্বশীল পদক্ষেপ।
এই সিদ্ধান্ত প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর বাড়তে থাকা চাপেরই প্রতিফলন, যেখানে ব্যবহারকারীরা চান তাদের পাবলিক কনটেন্ট কীভাবে এআই ব্যবহার করবে সে বিষয়ে স্পষ্ট নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হোক।