শিশু নিরাপত্তা ইস্যুতে মেটার ওপর বাড়ছে চাপ
শিশু নিরাপত্তা ইস্যুতে আদালতে বড় অঙ্কের জরিমানা গুনেছে মেটা, তবে এই রায়ের প্রভাব এখানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না এবং মামলার পরবর্তী ধাপে কোম্পানির ব্যবসা পরিচালনার ধরনেই বড় পরিবর্তন আনার প্রশ্ন সামনে এসেছে।
বিশেষ করে তরুণ ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর কিছু পদক্ষেপের প্রস্তাব উঠেছে, যা বাস্তবায়ন হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের অভ্যাসেও পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
এ কারণে মামলাটিকে কেবল একটি আর্থিক জরিমানার বিষয় হিসেবে নয়, বরং পুরো খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের আদালত বছরের শুরুতে শিশু নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক মামলায় মেটার বিরুদ্ধে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা আদায় করেন, যা এই ধরনের মামলায় একটি উল্লেখযোগ্য রায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই আইনি লড়াইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখনো বাকি।
আগামী সোমবার (০৫ মে) থেকে সান্তা ফে শহরের একটি আদালতে তিন সপ্তাহব্যাপী পাবলিক নিউসেন্স বা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিচারপর্ব শুরু হচ্ছে, যেখানে মেটা এবং নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে নিজেদের যুক্তি উপস্থাপন করবেন এবং মূলত মেটার বিভিন্ন সেবায় কী ধরনের পরিবর্তন আনা উচিত, তা নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হবে।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো বেশ বিস্তৃত ও কঠোর, যার মধ্যে রয়েছে ব্যবহারকারীদের জন্য বাধ্যতামূলক বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু করা, ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য প্রান্ত থেকে প্রান্তে এনক্রিপশন বন্ধ রাখা এবং তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সময় মাসে সর্বোচ্চ ৯০ ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা।

এ ছাড়া ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখে এমন অনন্ত স্ক্রল ও স্বয়ংক্রিয় ভিডিও চালুর মতো বৈশিষ্ট্য সীমিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং নতুন শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত কনটেন্টের অন্তত ৯৯ শতাংশ শনাক্ত করার বাধ্যবাধকতাও আরোপ করতে বলা হয়েছে।
ওয়াশিংটন ডিসিতে শিশু নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের পক্ষে অবস্থান জানাতে গিয়ে রাউল তোরেজ বলেন, শুরু থেকেই তাদের লক্ষ্য ছিল মেটার ব্যবসা পরিচালনার ধরনে পরিবর্তন আনা এবং তিনি স্বীকার করেন,‘এই কোম্পানির আকার ও মুনাফার তুলনায় ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা যথেষ্ট নয়, কারণ এতে তাদের কাজের ধরন বদলানোর মতো চাপ তৈরি হয় না এবং প্রতিষ্ঠানের ভেতরে কেউ কেউ এটিকে ব্যবসার খরচ হিসেবেই বিবেচনা করতে পারেন।’
আদালত যদি কোনো পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়, তবে তা কেবল নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের জন্য প্রযোজ্য হবে, তবে বাস্তবতা বিবেচনায় মেটা চাইলে একই নীতিমালা অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও প্রয়োগ করতে পারে, যাতে পরিচালনা প্রক্রিয়া সহজ থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলার ফলাফল শুধু একটি কোম্পানির ভবিষ্যৎ নির্ধারণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তি, নিরাপত্তা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাব নিয়ে চলমান বৈশ্বিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।