কর্মীদের কাজের তথ্য দিয়েই এআই প্রশিক্ষণের উদ্যোগ মেটার

Tech World Desk

টেক ওয়ার্ল্ড ডেস্ক

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৪৩

কর্মীদের কাজের তথ্য দিয়েই এআই প্রশিক্ষণের উদ্যোগ মেটার
ছবি : ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটি এখন কর্মীদের কম্পিউটার ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করে সেই তথ্য ব্যবহার করে এআই মডেল প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা নিয়েছে। এতে কর্মীদের প্রতিটি ক্লিক, টাইপিংসহ কাজের ডিজিটাল আচরণও এআই প্রশিক্ষণের ডেটা হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা জানিয়েছে, তাদের কম্পিউটার ও অভ্যন্তরীণ অ্যাপগুলোর মধ্যে একটি নতুন টুল চালু করা হবে। এই টুল কর্মীদের কাজের ধরন, ব্যবহার পদ্ধতি ও ডিজিটাল কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে। সংগৃহীত তথ্য পরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র বলেন, বাস্তব পরিস্থিতিতে মানুষ কীভাবে কম্পিউটার ব্যবহার করে, সেই উদাহরণ থেকেই কার্যকর এআই এজেন্ট তৈরি করা সম্ভব। তার দাবি, এই তথ্য শুধু এআই উন্নয়নের উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা হবে এবং সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকবে।

তবে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী বলেন, চাকরি কাটছাঁটের আশঙ্কার মধ্যে এমন পর্যবেক্ষণ কর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করছে। এটি অনেকের কাছে অস্বাভাবিক ও চাপসৃষ্টিকারী মনে হচ্ছে। আরেকজন সাবেক কর্মী মন্তব্য করেন, এটি কর্মীদের ওপর এআইকে আরও গভীরভাবে চাপিয়ে দেওয়ার নতুন কৌশল।

এর আগে মেটা চলতি বছরে প্রায় দুই হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে চাকরি কমানোর আশঙ্কাও রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি নতুন নিয়োগও সীমিত করেছে। আগে যেখানে শত শত চাকরির বিজ্ঞপ্তি ছিল, এখন তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

নতুন এই পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার নাম দেওয়া হয়েছে `মডেল ক্যাপাবিলিটি ইনিশিয়েটিভ'। সংক্ষেপে এমসিআই। যদিও আগে থেকেই কর্মীদের কাজের কিছু তথ্য সংরক্ষণ করা হতো, তবে এবার সরাসরি এআই প্রশিক্ষণের জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হবে, যা নতুন পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ জানিয়েছেন, এআই খাতে বড় আকারে বিনিয়োগ চলছে। ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১৪০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

এর আগে ২০২৫ সালে মেটা ডেটা লেবেলিং প্রতিষ্ঠান স্কেল এআইয়ের বড় অংশ অধিগ্রহণ করে, যার জন্য প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়। একই সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা মেটায় যোগ দেন।

সম্প্রতি মেটার নতুন এআই গবেষণা ল্যাব থেকে `মিউজ স্পার্ক' নামের একটি মডেল প্রকাশ করা হয়েছে। সংগৃহীত কর্মী তথ্য ব্যবহার করে ভবিষ্যতে আরও উন্নত এআই মডেল তৈরির লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

জাকারবার্গ আগেই বলেছিলেন, ২০২৬ সাল হবে সেই বছর, যখন এআই কর্মপদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনবে। তার মতে, যে কাজ আগে বড় দল করত, এখন তা একজন দক্ষ ব্যক্তিই করতে পারবে।

সূত্র : বিবিসি

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন