কিশোরদের স্মার্টফোন ব্যবহার নিয়ে গবেষণায় উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য
স্মার্টফোন এখন কিশোরদের জীবনের অপরিহার্য অংশ। তবে পিতামাতাদের জন্য এটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা দেখাচ্ছে, স্মার্টফোন থাকা কিশোরদের মধ্যে উদ্বেগ, স্থূলতা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবের ঝুঁকি অনেক বেশি।
গবেষণার ফলাফল
পেডিয়াট্রিকস জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, স্মার্টফোন থাকা কিশোরদের মধ্যে উদ্বেগের ঝুঁকি ৩১ শতাংশ, স্থূলতার ঝুঁকি ৪০ শতাংশ এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবের ঝুঁকি ৬২ শতাংশ বেশি। ১২ বছর বয়সে ৬ হাজার ৭শ’ ৩৯ জন অংশগ্রহণকারী স্মার্টফোন ব্যবহার করছিল, আর ৩ হাজার ৮শ’ ৪৯ জন করছিল না। ফোন ব্যবহার করা কিশোরদের মধ্যে উদ্বেগ, স্থূলতা এবং ঘুমের সমস্যা বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
নতুন ফোন প্রাপ্তির প্রভাব
যারা ১২ বছর বয়সে ফোন ব্যবহার করছিল না, তাদের মধ্যে ১ হাজার ৫শ’ ৪৬ জন ১৩ বছর বয়সে নতুন ফোন পেয়েছিল। এই সময়ে যারা নতুন ফোন পেয়েছিল, তাদের মধ্যে ক্লিনিক্যাল মানের মানসিক সমস্যা এবং ঘুমের অভাবের ঝুঁকি বেশি। নতুন ফোনপ্রাপ্ত কিশোরদের মধ্যে মানসিক সমস্যা ৫৭ শতাংশ এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ৫০ শতাংশ বেশি।

গবেষণার পদ্ধতি
গবেষণায় ১০ হাজার ৫শ’ ৮৮ জন অংশগ্রহণকারীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। শিশুদের ফোন থাকা এবং প্রথম ফোন পাওয়ার বয়স যাচাই করা হয়েছে। ১২ ও ১৩ বছর বয়সে স্বাস্থ্য বিষয়ক ফলাফল পর্যালোচনা করা হয়েছে। গবেষকরা পরিবারিক আয়, পিতামাতার নজরদারি, যৌবন এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করেছেন।
বয়সের প্রভাব
ছোট বয়সে ফোন পাওয়া কিশোরদের মধ্যে স্থূলতা এবং ঘুমের অভাবের ঝুঁকি বেশি। প্রতি বছর আগে ফোন পাওয়ার মানে স্থূলতার ঝুঁকি ৯ শতাংশ এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ৮ শতাংশ বেড়ে যায়।
গবেষকদের মন্তব্য
গবেষকরা জানিয়েছেন, ফলাফলগুলো বিভিন্ন বিশ্লেষণে সমানভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে স্মার্টফোন থাকা, প্রথম ফোন পাওয়ার বয়স এবং স্বাস্থ্য ফলাফলের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। এই তথ্য কিশোরদের ফোন ব্যবহার এবং নীতিমালা নির্ধারণে পিতামাতা ও নীতি নির্ধারকদের কাজে আসতে পারে।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া