এআই সেলস অটোমেশনে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশি প্ল্যাটফর্ম ‘পাওয়ারইনএআই’
ডিজিটাল ব্যবসায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা এখন বিক্রির মূল চাবিকাঠি। সম্ভাব্য ক্রেতার একটি বার্তার উত্তর যদি সময়মতো দেওয়া যায়, তাহলে বিক্রির সম্ভাবনা অনেকগুণ বেড়ে যায়। এই বাস্তবতা ধরেই বাংলাদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘পাওয়ারইনএআই’ এআইভিত্তিক সেলস অটোমেশন নিয়ে এসেছে, যা দেশ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসার ধারা বদলে দিচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অনলাইন ব্যবসায় কোনো সম্ভাব্য গ্রাহকের বার্তার উত্তর যদি এক ঘণ্টার মধ্যে দেওয়া হয়, তাহলে বিক্রি বা ফলপ্রসূ আলোচনার সম্ভাবনা প্রায় সাত গুণ বৃদ্ধি পায়। আবার যদি পাঁচ মিনিটের মধ্যে উত্তর দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে লিডের সঙ্গে যোগাযোগ এবং কনভার্সনের সম্ভাবনা প্রায় একশ গুণ পর্যন্ত বাড়ে। বাস্তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান এখনো ম্যানুয়াল বা আংশিক অটোমেশনভিত্তিক সেলস প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল। ফলে অফিস সময়ের বাইরে বা ব্যস্ত সময়ে গ্রাহকের বার্তার উত্তর দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশের মতো দ্রুত সম্প্রসারিত বাজারে একদিকে স্থানীয় গ্রাহক, অন্যদিকে বৈশ্বিক ক্লায়েন্টের চাহিদা সামলানোর সময়ের এই বিলম্বকে সরাসরি ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণ বানায়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পাওয়ারইনএআই তাদের উন্নত এআই সেলস ইঞ্জিন নিয়ে এসেছে।
এটি কেবল সফটওয়্যার নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ এআইচালিত সেলস এজেন্ট, যা লিড সংগ্রহ, গ্রাহকের সঙ্গে প্রাথমিক কথোপকথন, আগ্রহ বোঝা, ফলোআপ এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং পর্যন্ত পুরো সেলস প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনা করতে পারে।
পাওয়ারইনএআইয়ের এআই এজেন্ট বিশেষভাবে কার্যকর সেই সব প্রতিষ্ঠানের জন্য, যাদের নিয়মিত গ্রাহকের অনুসন্ধান আসে কিন্তু পর্যাপ্ত জনবল বা সময়ের অভাবে প্রতিটি লিডে সমান গুরুত্ব দেওয়া সম্ভব হয় না। ছোট ও মাঝারি ব্যবসা, রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান, ই-কমার্স, ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে শুরু করে বড় কর্পোরেট সেলস টিমসহ সব ক্ষেত্রেই এটি কার্যকর।
এই এআই সিস্টেমের বিশেষত্ব হলো এটি নির্ধারিত স্ক্রিপ্ট অনুসরণ করে না। এটি গ্রাহকের কথোপকথন, প্রশ্নের ধরন, আগ্রহের বিষয় এবং প্রতিক্রিয়ার গতি বিশ্লেষণ করে ধীরে ধীরে প্রয়োজন ও পছন্দ বুঝে নেয়। তারপর সঠিক তথ্য প্রদান করে এবং প্রয়োজনে কথোপকথন মানব সেলস টিমের কাছে হস্তান্তর করে। ফলে গ্রাহকের অভিজ্ঞতাটি স্বাভাবিক ও পারসোনালাইজড মনে হয়।
বাংলাদেশ এবং বৈশ্বিক বাস্তবতা মাথায় রেখে এটি ডিজাইন করা হয়েছে। স্থানীয় ভাষা, গ্রাহকের আচরণ, বাজেট এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরণ অনুযায়ী এটি আন্তর্জাতিক জেনেরিক এআই টুল বা ফ্রি এজেন্টের তুলনায় বেশি কার্যকর সমাধান দিতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাজ্যের মতো বাজারেও প্রতিষ্ঠানটি সফলভাবে সেবা দিচ্ছে।
পাওয়ারইনএআই-এর সিইও আবদুল ওয়াহেদ তমাল বলেন,‘পাওয়ারইনএআইকে আপনি এমন একটি সার্বক্ষণিক সেলস ডেভেলপমেন্ট টিম হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন, যাদের কোনো ক্লান্তি নেই, যারা কখনো ঘুমায় না এবং প্রতিটি সম্ভাব্য লিড বা কাস্টমারকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রেসপন্স করতে সক্ষম।
বিক্রয় ব্যবস্থাপনা সহজ করতে স্বয়ংক্রিয় ডেটা সংগ্রহ ও যাচাইকরণ, তাৎক্ষণিক আউটরিচ, একাধিক চ্যানেলে গ্রাহক সম্পৃক্ততা, এআইচালিত ভয়েস কলিং এবং বুদ্ধিমান লিড স্কোরিং পাঁচটি শক্তিশালী বৈশিষ্ট্যের ওপর জোর দেয়। এর ফলে সেলস টিম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রস্তুত লিডের ওপর মনোযোগ দিতে পারে।
ইচ্ছুক প্রতিষ্ঠানগুলো ‘পাওয়ারইনএআই ডটকম’ ওয়েবসাইট থেকে ফ্রি ডেমো বুক করতে পারবে। ডেমোতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো ওয়ার্কফ্লো দেখানো হয়-কীভাবে লিড সংগ্রহ হয়, একাধিক চ্যানেলে দ্রুত সাড়া দেওয়া হয়, গ্রাহকের আগ্রহ যাচাই করা হয় এবং প্রয়োজন হলে মানব সেলস টিমের কাছে হ্যান্ডঅফ করা হয়। এছাড়া কাস্টমাইজড সমাধান এবং বিভিন্ন প্রাইসিং অপশনও ওয়েবসাইটে রয়েছে।
এবিসিসিআই, ওয়াকটেক ও এভিএস প্লাসের হেড অব অপারেশনস মোহাম্মদ জামান (দীপু) বলেন,‘একসঙ্গে একাধিক কোম্পানি পরিচালনা করা সত্যিই কঠিন। পাওয়ারইনএআই আমাদের সেলস ও অটোমেশন প্রক্রিয়াকে এমনভাবে সহজ করেছে যে এখন অনেক কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সম্পন্ন হয়। এতে আমাদের টিম মূল কাজের উপর আরও বেশি ফোকাস করতে পারছে।’
দ্রুততা ও নির্ভুলতার ওপর নির্ভরশীল ডিজিটাল বাণিজ্যে পাওয়ারইনএআই শুধু ব্যবসার দক্ষতা বাড়াচ্ছে না, বরং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রযুক্তি সক্ষমতার শক্ত অবস্থানও তৈরি করছে।