তথ্য গোপনীয়তা মামলায় মার্কিন আদালতে গুগলের জয়

Staff Reporter

নিজস্ব প্রতিবেদক

রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫১

তথ্য গোপনীয়তা মামলায় মার্কিন আদালতে গুগলের জয়
ছবি : রয়টার্স

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিয়ে চলমান এক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় বড় স্বস্তি পেয়েছে গুগল। কয়েক বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত জরিমানা আরোপের যে দাবি উঠেছিল, তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন আদালত। এতে করে প্রযুক্তি জায়ান্টটির বিরুদ্ধে চাপ অনেকটাই কমেছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল গোপনীয়তা নিয়ে চলমান বৈশ্বিক বিতর্কেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

শুক্রবার সান ফ্রান্সিসকোর ফেডারেল আদালতে এই রায় দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান জেলা বিচারক রিচার্ড সিবার্গ। ভোক্তাদের পক্ষ থেকে গুগলের বিরুদ্ধে প্রায় ২ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার আদায়ের আবেদন করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, ব্যবহারকারীর ডেটা সংগ্রহের মাধ্যমে গুগল অন্যায্যভাবে লাভবান হয়েছে। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। একই সঙ্গে বিজ্ঞাপনসংক্রান্ত কিছু ডেটা সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধের দাবিও খারিজ করে দেন বিচারক।

এই মামলার পটভূমি তৈরি হয় গুগলের ডেটা ট্র্যাকিং পদ্ধতি ঘিরে। অভিযোগ অনুযায়ী, বহু ব্যবহারকারী গোপনীয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেটিং বন্ধ করে দেওয়ার পরও গুগল তাদের অ্যাপ ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করে গেছে। এ ঘটনায় লাখো ব্যবহারকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। এর জেরে একটি মামলা দায়ের হয়।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে সেই মামলার রায়ে জুরি গুগলকে দায়ী ঘোষণা করে। তবে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রায় ৪শ’ ৪০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ভোক্তারা যেখানে প্রায় ৩১ বিলিয়ন ডলার দাবি করেছিলেন, সেখানে এই অঙ্ক ছিল অনেক কম। একই সঙ্গে জুরি তখনই মত দেয়, গুগলের অর্জিত মুনাফা বাজেয়াপ্ত করার মতো যথেষ্ট কারণ নেই।

এরপর ভোক্তারা আদালতের কাছে নতুন করে আবেদন জানান। তারা বলেন, রায়ের পরও গুগল তাদের গোপনীয়তা নীতি বা ডেটা সংগ্রহের পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আনেনি। তাই ভবিষ্যতে ব্যবহারকারীরা আবারও ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। এই যুক্তিতে তারা স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এবং বিপুল অঙ্কের অর্থ ফেরতের দাবি তোলেন।

বিচারক রিচার্ড সিবার্গ বলেন, ভবিষ্যতে অপূরণীয় ক্ষতির স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি বাদীপক্ষ। ফলে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। তিনি আরও বলেন, গুগলের মুনাফা নিয়ে যে হিসাব আদালতে দেওয়া হয়েছে, তা পর্যাপ্ত তথ্য ও প্রমাণে সমর্থিত নয়।

গুগলের পক্ষ থেকে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়, যদি ব্যবহারকারীর হিসাবসংক্রান্ত ডেটা সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে তাদের বিশ্লেষণ সেবা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই সেবার ওপর বিশ্বের লাখো অ্যাপ নির্মাতা নির্ভর করেন।

এদিকে গুগল যে শ্রেণির আওতায় প্রায় ৯৮ মিলিয়ন ব্যবহারকারী ও একশ চুয়াত্তর মিলিয়ন ডিভাইসকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তা বাতিলের আবেদনও নাকচ করেছেন বিচারক। তবে গুগল জানিয়েছে, তারা গত বছরের জুরি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতা, ব্যবহারকারীর অধিকার এবং গোপনীয়তার সীমারেখা নিয়ে এই রায় তরুণ প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের মধ্যেও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

সূত্র : রয়টার্স

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন