ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপোর পর্দা নামল

Staff Reporter

নিজস্ব প্রতিবেদক

শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:১১

ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপোর পর্দা নামল

চার দিনের জমজমাট আয়োজন শেষে ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬-এর পর্দা নামল। সফল আয়োজন শেষে আগামীতে আরও বড় পরিসরে ও আরও আকর্ষণীয় মেলার আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আয়োজকরা।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এবারের মেলায় অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বেচাকেনা ও দর্শনার্থীর উপস্থিতি-দুটো নিয়েই তারা সন্তুষ্ট। ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন অংশগ্রহণকারীরা।

মেলায় প্রায় অর্ধলক্ষাধিক দর্শনার্থী নিবন্ধন করে প্রবেশ করেন। শেষ দিন শনিবার সকাল থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। দুপুরের পর থেকে বিকেল পর্যন্ত মেলা ছিল উপচে পড়া দর্শকে পরিপূর্ণ। সন্ধ্যার পর কোনো স্টল কিংবা প্যাভিলিয়নে ফাঁকা জায়গা চোখে পড়েনি।

মেলায় অংশ নেওয়া একাধিক ব্যবসায়ী জানান, এবারের আয়োজনে বিক্রয় প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে। তারা মনে করছেন, প্রযুক্তিপণ্য নিয়ে এ ধরনের মেলা ক্রেতা ও বিক্রেতা-উভয়ের জন্যই কার্যকর একটি প্ল্যাটফর্ম। আগামী দিনে আরও বড় আয়োজন নিয়ে অংশগ্রহণের আশাবাদও ব্যক্ত করেন তারা।

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) মহাসচিব ও ডিজিটাল ডিভাইস ও ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬ এর আহ্বায়ক মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, আইসিটি বিভাগের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ২০১৬ সাল থেকে নিয়মিতভাবে ডিজিটাল ডিভাইস ও ইনোভেশন এক্সপোর আয়োজন করা হচ্ছে। এই মেলায় আইসিটি বিভাগের আর্থিক সহায়তা থাকে।

তিনি বলেন, মেলার পরিকল্পনার শুরুতেই আইসিটি বিভাগ প্রদর্শনীটি কেমন হবে তা দেখতে চায়। সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী পুরো আয়োজন সাজানোর হয়।

তিনি আরও বলেন,“মেলা নিয়ে আইসিটি বিভাগের সবার মুখে আমরা হাসি দেখেছি-এটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এটাই আমাদের সাফল্য।” মেলা পরিদর্শন করে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহম্মদ তৈয়্যব, আইসিটি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং আইসিটি বিভাগের যুগ্ম সচিব সাইফুল হাসান-সবাই মেলার সার্বিক আয়োজন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানান তিনি।

ডিজিটাল ডিভাইস ও ইনোভেশন এক্সপোর আহ্বায়ক বলেন, মেলা চলাকালে তিনি অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এসব আলোচনায় জানা গেছে, ব্যবসায়ীরা শুধু মেলায় পণ্য বিক্রির মাধ্যমেই সন্তুষ্ট নন; বরং ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রেও তারা উল্লেখযোগ্য সুফল পেয়েছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান এই মেলাকে নিজেদের পণ্য ও ব্র্যান্ড পরিচিতি তুলে ধরার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখছেন।

দর্শনার্থীদের উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, পুরো প্রদর্শনীতে প্রায় তিন লাখ দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে। শুরুতে তিন লাখ দর্শনার্থী মেলায় আসবে-এমন প্রত্যাশা ছিল। যদিও পুরোপুরি সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, তবে সংখ্যাটি প্রত্যাশার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে তিনি মনে করেন।

মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান টেকটাইমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিব আরাফাত বলেন, প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পেয়েছি। ছয় বছর পরে এধরনের মেলা আবার হলো। আয়োজকদের কাছে আবেদন জানাব এধরনের মেলা বছরে দুইবার আয়োজন করা হোক। এতে করে ক্রেতাদের এনগেজমেন্ট বাড়বে।

অনার বাংলাদেশ লিমিটেডের বিজনেস হেড আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সাড়া খুবই ভালো। দামি ফোন ভালো যাচ্ছে। কম দামি ফোন প্রথম দুই দিনেই শেষ হয়ে গেছে।

ডিএক্স গ্রুপের অন্যতম পরিচালক লিটন বিশ্বাস জানান, তার প্রতিষ্ঠান এই মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকার পণ্য বিক্রি করেছে।

তিনি বলেন, আমরা খুবই খুশী। ভবিষ্যতে এরকম মেলা আরও চাই।

লেনোভো ল্যাপটপের চ্যানেল ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার প্রতাপ সাহা বলেন, সাড়া ভালো। অনেক দিন পরে মেলা হওয়ায় দর্শক সমাগম ছিল সন্তোষজনক। বিক্রির পাশাপাশি ব্র্যান্ডিংটা অনেক ভালো হয়েছে। আমরা অনেক কোয়েরি পেয়েছি। অনেকে প্রোডাক্টের ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে।

এসার ল্যাপটপের চ্যানেল কনসালটেন্ট (কমার্শিয়াল বিজনেস) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, এসার ল্যাপটপ নিয়ে আমরা ভালো সাড়া পেয়েছি। আমাদের ব্র্যান্ডিংটা ভালো সাড়া ফেলেছে। ল্যাপটপ বিক্রির অনেক ফরমায়েশ পেয়েছি।তিনি দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ শর্তে ডিজিটাল ডিভাইস কেনার উদ্দেশ্যে ঋণ প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকার এবং ব্যাংকগুলোকে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্প সুদে, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে বিনা সুদে ঋণ ফাইন্যান্সিংয়ের আহ্বান জানান। কৃষিঋণের মতো শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডিজিটাল ডিভাইস ঋণের জন্য একটি পৃথক পলিসি তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিল্ডকন কনসালটেন্সি লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহতাব উদ্দীন আহমদ।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, আইসিটি বিভাগের (অর্গানাইজেশনাল সাপোর্ট উইং) অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দীন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট সুপর্ণা রয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আলিফ রুদাবা, ফিজিশিয়ান ও মিডিয়া পার্সোনালিটি ও বিশ্লেষক আব্দুন নূর তুষার এবং অ্যাক্সেটেক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আদিল হোসেন নোবেল।

মাহতাব উদ্দীন বলেন, শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল ডিভাইসের ঋণদানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিশ্বাসযোগ্যতা। আমরা অনেক ক্ষেত্রেই ঋণ দেই জেনেও যে সেগুলো ফেরত পাওয়া যাবে না, তবু সেখানে প্রশ্ন ওঠে না। কিন্তু শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এলেই বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এ জন্যই আমাদের একটি সুস্পষ্ট পলিসি প্রয়োজন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ এস এম আমানুল্লাহ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কিছু নেতিবাচক দিক তুলে ধরে বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। বছরে প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থী গ্র্যাজুয়েট হলেও মাত্র ১০ শতাংশ শিল্পখাতে যুক্ত হয়। অর্থাৎ ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়ার মধ্যে সংযোগ নেই। ফলে চাকরির বাজারে তারা পিছিয়ে পড়ে এবং বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট তৈরি হয়। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস নেই। ডিভাইস পেলে তারা বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা আয় করতে পারবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আলিফ রুদাবা বলেন, সরকার কোর্স ফাইন্যান্সিং নিয়ে কাজ করলেও শিক্ষার্থীদের জন্য ডিভাইস ফাইন্যান্সিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। কারণ আমাদের নেওয়া প্রকল্পগুলোর মেয়াদ স্বল্পমেয়াদি এবং ঋণ আদায়ের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট সুপর্ণা রয় বলেন, ডিভাইস ফাইন্যান্সিংয়ে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা অনুযায়ী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল আইডেন্টিটি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যাংক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ডেটা শেয়ারিং এবং এমএফএস সংযোগ থাকতে হবে। এতে ট্র্যাকিং সহজ হবে এবং ঋণ পরিশোধও সহজ হবে। পাশাপাশি সাবসিডি মডেলেও কাজ করা যেতে পারে, যা বিশ্বব্যাংক করে থাকে।

আইসিটি বিভাগের (অরগানাইজেশনাল সাপোর্ট উইং) অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দীন বলেন, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন করা গেলে তারা বিদেশে না গিয়েই বৈদেশিক আয় করতে পারবে। ইন্টারনেট এখন প্রায় প্রতিটি উপজেলা ও গ্রামে রয়েছে; প্রশ্ন হলো এর অ্যাক্সেসিবিলিটি কতটা নিশ্চিত। তরুণদের মূলধারায় আনতে হলে ডিভাইস পলিসি ও ফাইন্যান্সিং নিয়ে কাজ করতে হবে, যা মাধ্যমিক স্তর থেকেই শুরু করা যেতে পারে।

অ্যাক্সেটেক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আদিল হোসেন নোবেল বলেন, ডিভাইস ফাইন্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে কর্পোরেট সেক্টরকেও নিরাপদ মনে করা হলেও সেখান থেকেও অনেক সময় আদায় সম্ভব হয় না। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও জটিল। ব্যাংক হয়তো এই স্তরে সরাসরি ফাইন্যান্স করতে আগ্রহী হবে না। তাই নতুন একটি মডেল তৈরি করে এগোতে হবে।

ফিজিশিয়ান ও মিডিয়া পার্সোনালিটি ও বিশ্লেষক আব্দুন নূর তুষার বলেন, সবাই শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল ডিভাইস ঋণ দিতে আগ্রহী, তবে তা অবশ্যই সঠিক পলিসির মাধ্যমে হতে হবে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে চিপ, মেমোরি ও র‍্যামের দাম বাড়ছে, যার প্রভাব দেশীয় হার্ডওয়্যার বাজারেও পড়ছে। পাশাপাশি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলোও হার্ডওয়্যার নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে। তাই প্রথমেই ডিভাইসসংক্রান্ত একটি জাতীয় পলিসি প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, যেসব শিক্ষার্থীকে ডিভাইস ঋণ দেওয়া হবে, তাদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং ডিভাইসের ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করতে মনিটরিং ব্যবস্থা রাখতে হবে। সরকার যে পলিসিই গ্রহণ করুক না কেন, তা হতে হবে দীর্ঘমেয়াদি এবং দেশীয় ডিভাইস উৎপাদন বাড়িয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে যেতে হবে।সাধারণ মানুষের মধ্যে ডিজিটাল সেবার অ্যাক্সেস সহজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার আহ্বান  

দেশে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে টেলিকমের ভূমিকা অপরিসীম। তবে বর্তমান বাস্তবতায় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে সামনে এগোতে হচ্ছে। এই  অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্মার্ট ডিভাইসের পেনিট্রেশন বাড়াতে হবে। এজন্য নিজেদের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি এদিকেও নজর দেয়ার কথা বলেন টেলিকম খাতের বিনিয়োগকারীরা।

শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাপদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬ আয়োজনে ‘ডিজিটাল রাষ্ট্রের সহায়ক শক্তি: অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল রূপান্তরের ভিত্তি হিসেবে টেলকো’ শিরোনামে প্যানেল আলোচনায় এসব কথা বলেন বক্তরা।

প্যানেল আলোচনা সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী।

প্যানেলে আলোচক ছিলেন গ্রামীণফোনের চিফ বিজনেস অফিসার ড. আসিফ নাইমুর রশিদ, রবির সিইও জিয়াদ সাতারা, বাংলালিংকের সিইও ইউহান বুস, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকিশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুনুর রশীদ এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।

এমদাদ উল বারী বলেন, বাংলাদেশে ফিক্সড টেলিকমের পাশাপাশি মোবাইল সেবা শুরু হয় নব্বই দশকে। যারা এটার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তারা জানেন কি ধরনের কঠিন কাজ ছিল সেটা। যা গত ২০/৩০ বছরে একটা রেভুলোশনের মাধ্যমে বর্তমান অবস্থায় এসেছে। এর সবকিছুই হয়েছে একটি বিষয়কে সামনে রেখে সেটা ভয়েস কল।
 
গ্রামীণফোনের চিফ বিজনেস অফিসার ড. আসিফ নাইমুর রশিদ বলেন, আমাদের দেশে এখনো প্রায় ৪০ শতাংশ ফিচার ফোন ব্যবহার করেন। এটা ধীরে ধীরে বদল হচ্ছে। কিন্তু আমাদের জোর দিতে হবে স্মার্টফোন পেনিট্রেশনে। ডিজিটাল অ্যাক্সেস এবং জীবনকে সহজ করেছে।

তিনি বলেন, আমাদের সব শ্রেণির ব্যবহারকারীর জন্য একটা ইকোসিস্টেম তৈরি করতে হবে। যেখানে কৃষক তার মতো কনটেন্ট দেখতে পারবেন যা তার দৈনন্দিন কাজে প্রয়োজন। একইভাবে অন্য যেকোনো পেশার মানুষের জন্য এটা তার মতো করে ইকোসিস্টেম তৈরি করতে হবে। তবেই এটা থেকে প্রকৃত ভ্যালু ক্রিয়েশন করা সম্ভব।  

বাংলালিংকের সিইও ইওহান বুসে বলেন, ফোরজি নেটওয়ার্কের পেছনেই বাংলালিংক গত কয়েক বছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে শুধু ফোরজি সেবা দিতে। বাংলাদেশের পটেনশিয়ালিটি রয়েছে। সে কারণেই বিজনেস এবং সাধারণের মধ্যে ডিজিটালি যুক্ত হওয়ার প্রবণা বেড়েছে। সেখানে বাধাহীন কানেক্টিভিটি পৌঁছে দিচ্ছে টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলো। এটা কিন্তু খুব কঠিন কাজ এবং বড় বিনিয়োগের বিষয়।

তিনি আরও বলেন, উন্নত বাজারগুলোতে কৃষি, শিক্ষা, শিল্প সবখাতের জন্যই আলাদা ইকোসিস্টেম রয়েছে। আমরা বাংলালিংকের মাই বিএল অ্যাপ থেকেও তেমন একটা ইকোসিস্টেম তৈরির চেষ্টা করে যাচ্ছি। যেখানে আমরা সাইবার সিকিউরিটি এনশিওর করে সেবা দিয়ে যাচ্ছি।

রবির সিইও জিহাদ সাতারা বাংলাদেশের ডিজিটাল জার্নিতে টেলিকমের অবদান নিয়ে তিনি বলেন, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে সফটওয়্যার তৈরির বিষয়টি ছিল একেবারেই কঠিন। কিন্তু টেলকো সেগুলোতে বিনিয়োগ করেছে, প্ল্যাটফর্ম করে দিয়েছে। ফলে এখন সে খাতটিতে সক্ষমতা এনেছে টেলকো। অন্য বিষয়টি হলো মোবাইল ফ্যাইনান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস। এখন এটি বাংলাদেশে টেলিকমের কল্যাণে সবার কাছে পৌঁছে গেছে।
 
টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী বলেন, দেশের মানুষ ডেটা কানেক্টিভিটির মধ্যে এসেছে। কিন্তু ডিজিটাল নেশন ইনক্লুশন হলো তারা সেই ডিজিটাল কানেক্টিভিটির মাধ্যমে কোন ধরনের সেবা পাচ্ছে। তারা এটা ব্যবহার করে কী ধরনের শিক্ষা নিচ্ছে। এসব বিবেচনায় নিয়েই মূলত মূল অন্তভূক্তি।

বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকিশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুনুর রশীদ বলেন, বিটিসিএল দেশে টেলিকমের অবকাঠামো তৈরির মূল কারিগর। ডিজিটাল নেশন হলো আমার কাজকর্ম, আমার প্রয়োজনীয়তা যা প্রতিদিন করছি সেগুলোই। কিন্তু সেটার বেশিরভাগই এখন প্রযুক্তি নির্ভর। এই সেবাগুলো দিতেই দেশে বিটিসিএল কাজ করে যাচ্ছে দেশব্যাপী শক্তিশালী টেলিকম অবকাঠামো নির্মাণ করে।

বিসিএস সভাপতি জহিরুল ইসলাম বলেন, আমরা মোবাইল কানেক্টিভিটির কথা বলতে গেলে একেবারে কয়েকটি এলাকা পাহাড় ও চর ছাড়া সব জায়গায় রয়েছে। স্মার্টফোন পেনিট্রেশন রেট এখনো ৫০ শতাংশের নীচে। যদি আমরা সত্যিই ডিজিটাল বলতে যাই তবে এই রেট ৮০ শতাংশের উপরে নিতে হবে। টেলকো কোম্পানিগুলোর এখন উচিত হবে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকায় স্মার্ট ডিভাইস দেয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তাহলে এই পেনিট্রেশন বাড়ানো যেতে পারে।

প্যানেল আলোচনয় অংশগ্রহণকারীরা এ সময় বিভিন্ন দেশের উদাহরণ তুলে ধরে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। এজন্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসিকে আরও দায়িত্ববান ভূমিকা রাখার আহ্বানও জানান।

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন