এআই দক্ষতা উন্নয়নে ১ কোটি কর্মী প্রশিক্ষণ দেবে যুক্তরাজ্য

Staff Reporter

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৪

এআই দক্ষতা উন্নয়নে ১ কোটি কর্মী প্রশিক্ষণ দেবে যুক্তরাজ্য
ছবি : সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুত বদলে দিচ্ছে কাজের ধরন। এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। সরকার ও শিল্পখাতের যৌথ উদ্যোগে চালু হয়েছে একাধিক অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্স। এসব কোর্সে যুক্তরাজ্যের সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক বিনামূল্যে অংশ নিতে পারবেন।

এই উদ্যোগের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ১ কোটি কর্মীকে এআই ব্যবহারে দক্ষ করা। সরকার বলছে, ১৯৭১ সালে ওপেন ইউনিভার্সিটি চালুর পর এটি দেশটির সবচেয়ে বড় দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি। পরিকল্পনাকারীদের মতে, এআই ব্যবহারে দক্ষতা বাড়লে দৈনন্দিন কাজের চাপ কমবে। পাশাপাশি তৈরি হবে নতুন ধরনের উচ্চদক্ষতার কর্মসংস্থান।

নতুন প্রশিক্ষণ কোর্সগুলো পাওয়া যাবে সরকারের এআই স্কিলস হাব প্ল্যাটফর্মে। প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কোর্সগুলো তৈরি করেছে। ‌‘স্কিলস ইংল্যান্ড’ নির্ধারিত এআই মৌলিক দক্ষতার মান অনুযায়ী এগুলো যাচাই করা হয়েছে। সব কোর্স শেষ করলে অংশগ্রহণকারীরা পাবেন ভার্চুয়াল এআই ফাউন্ডেশন ব্যাজ, যা তাদের অর্জিত দক্ষতার স্বীকৃতি।

কোর্সগুলোর সময় সংক্ষিপ্ত। কিছু কোর্স ২০ মিনিটের কম সময়ে শেষ করা যাবে। আবার কিছু কোর্সে সময় লাগতে পারে কয়েক ঘণ্টা। প্রশিক্ষণে শেখানো হবে চ্যাটবটকে সঠিকভাবে প্রশ্ন করা, দ্রুত নোট লেখা, কনটেন্ট তৈরি, প্রশাসনিক কাজ সহজ করা, ই-মেইল খসড়া তৈরি এবং তথ্য গুছিয়ে রাখার কৌশল। লক্ষ্য হলো কর্মক্ষেত্রে কাজের মান ও গতি বাড়ানো।

সরকার জানায়,গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত ১০ লাখের বেশি কোর্স সম্পন্ন হয়েছে। নতুন অংশীদার যুক্ত হওয়ায় প্রশিক্ষণের পরিধি আরও বাড়ানো হচ্ছে। জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা সংস্থা এনএইচএস এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও এতে অংশ নিচ্ছেন। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের মোট কর্মশক্তির প্রায় এক-তৃতীয়াংশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হবে।

এআইয়ের প্রভাবে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান ও শ্রমবাজারে কী প্রভাব পড়বে, তা বিবেচনায় গঠন করা হয়েছে ‘এআই ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ইউনিট’। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এতে যুক্ত থাকবেন। ইউনিট সরকারকে নীতিগত পরামর্শ দেবে। লক্ষ্য হলো প্রযুক্তির সুফল নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকি কমানো।

যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল বলেছেন, পরিবর্তন থামানো যাবে না। তবে সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব। সরকার চায় সবাই এআই ব্যবহারে আত্মবিশ্বাসী হোক।

সরকারি গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ২১ শতাংশ কর্মী কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ছোট ও মাঝারি ব্যবসায় এই হার আরও কম। এই ব্যবধান দূর করতেই নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ। অ্যামাজন, গুগল, মাইক্রোসফট, আইবিএম, সেলসফোর্স, সিসকোসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সরকারি ও ব্যবসায়িক সংস্থা এতে সহায়তা করছে। সরকারের আশা, এই উদ্যোগ তরুণদের নতুন দক্ষতায় প্রস্তুত করবে এবং যুক্তরাজ্যকে এআই ব্যবহারে নেতৃত্বের পথে এগিয়ে নেবে।

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন