এনইআইআর বাস্তবায়নে ফোনভিত্তিক অপরাধ ও আর্থিক প্রতারণা কমবে : তৈয়্যব
এনইআইআর ব্যবস্থা পুরোপুরি বাস্তবায়নের ফলে সিম ও অনিবন্ধিত মোবাইল ফোনভিত্তিক অপরাধ, আর্থিক প্রতারণা এবং জালিয়াতি কমবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
রবিবার (০৪ জানুয়ারি) টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের ভবন পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, দেশে বৈধভাবে মোবাইল ফোন আমদানির ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শুল্ক কমানো হয়েছে। একক খাত হিসেবে মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানিতে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় শুল্কছাড়। এমন একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্তের দিনেই একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য।
তিনি আরও বলেন, ১ জানুয়ারি ২০২৬ এর আগে দেশে প্রবেশ করা সব মোবাইল ফোন বৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে। ফোনগুলো সচল থাকুক বা অবিক্রিত থাকুক, সেগুলো এনইআইআর ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। ইতোমধ্যে সাতটি প্রতিষ্ঠান তাদের অবিক্রিত হ্যান্ডসেটের আইএমইআই তথ্য জমা দিয়েছে। তবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এখনো তালিকা দেয়নি। সরকার আশা করছে, বিভ্রান্তি বা প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে সবাই এনইআইআর বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে।
বিটিআরসি জানিয়েছে, ১ জানুয়ারি থেকে সব কার্যকারিতাসহ এনইআইআর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তবে চালুর পর মোবাইল হ্যান্ডসেটের খুচরা ব্যবসায়ীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। বিষয়টি সমাধানে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি অব বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক করেছে বিটিআরসি।
বিটিআরসি জানায়, ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মোবাইল ফোন আমদানির শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। আগে যেখানে শুল্কহার প্রায় ৬১ শতাংশ ছিল, তা কমিয়ে বর্তমানে প্রায় ৪৩ শতাংশে নামানো হয়েছে।
আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করার দাবির বিষয়ে কমিশন জানায়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদনের ধাপ শিথিল করা হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভেন্ডর এনলিস্টমেন্ট সনদ দেওয়া হবে। পাশাপাশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে অনুমোদিত ডিলারের নথির ভিত্তিতেও হ্যান্ডসেট আমদানির সুযোগ রাখা হচ্ছে। বিক্রয়–পরবর্তী সেবা নিশ্চিত করতে ন্যূনতম দলিল সংরক্ষণ করতে হবে।
গুদামে থাকা বা অবিক্রিত হ্যান্ডসেট নেটওয়ার্কে যুক্ত রাখার দাবির জবাবে বিটিআরসি জানায়, নামমাত্র শুল্কের বিনিময়ে কোনো অতিরিক্ত কাগজপত্র ছাড়াই এসব হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নেটওয়ার্কে যুক্ত করা যাবে। এমনকি যেসব হ্যান্ডসেটের আমদানি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, সেগুলোকেও সাময়িকভাবে নেটওয়ার্ক সুবিধা দেওয়া হবে।
পুরোনো মোবাইল ফোন আমদানির বিষয়ে কমিশন জানায়, এটি তাদের এখতিয়ারভুক্ত নয়। এ ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি প্রয়োজন। বর্তমানে পুরোনো পণ্য আমদানির তালিকায় মোবাইল ফোন অন্তর্ভুক্ত নয়। এ ছাড়া পুরোনো হ্যান্ডসেটের মান যাচাই কঠিন হওয়ায় গ্রাহক প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এনইআইআর চালুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর ব্যাখ্যায় বিটিআরসি জানায়, অনেক ক্ষেত্রে ক্লোন, ব্যবহৃত বা রিফারবিশড হ্যান্ডসেট ব্যবহারের কারণে আইএমইআই সংক্রান্ত সমস্যা দেখা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের আইএমইআই নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে না দেওয়াই এনইআইআর ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।
একই জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে বেশি সংখ্যক সিম বা হ্যান্ডসেট দেখানোর বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছে কমিশন। তারা জানায়, এনইআইআর ব্যবস্থায় গ্রাহকের আগের সব তথ্য সংরক্ষিত থাকায় এমনটি দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে শুধু সচল হ্যান্ডসেটের তথ্য প্রদর্শনের জন্য মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
সিটিজেন পোর্টালে নিবন্ধনের সময় ওটিপি পেতে বিলম্ব হওয়ার কারণ হিসেবে বিটিআরসি জানায়, অল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক অনুরোধ আসায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এনইআইআর সংক্রান্ত যে কোনো সমস্যা বা তথ্য জানার জন্য গ্রাহকদের নিজ নিজ মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার কিংবা বিটিআরসির হটলাইন ১০০ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ সময় আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আব্দুন নাসের খান, বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.)সহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।