তাইওয়ানে এপিক্টার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
তাইওয়ানের কাওশিউং শহরে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) শুরু হয়েছে এপিক্টা অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫। এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তথ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন, প্রতিযোগিতা ও সহযোগিতার অন্যতম বৃহৎ আয়োজন হিসেবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি ছিল নানা দেশের প্রতিনিধিদলে সরব। ডিজিটাল ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং এশিয়া–প্যাসিফিক আইসিটি অ্যালায়েন্সের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন চলবে চার দিন।
এ বছরের প্রতিপাদ্য “কাওশিউং টেকস ফ্লাইট, কানেকটিং দ্য ইন্ডো–প্যাসিফিক, স্যালিং টুওয়ার্ডস দ্য ওয়ার্ল্ড”–এ উঠে এসেছে আঞ্চলিক প্রযুক্তি সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা। অনুষ্ঠানে ১২টি অর্থনীতির প্রতিনিধি অংশ নেন। প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে দুই শতাধিক দল এবং দুই শত ছাপ্পান্নটি উদ্ভাবনী প্রকল্প। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, শিক্ষা প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন খাতে প্রকল্প জমা পড়েছে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তাইওয়ানের ডিজিটাল উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হো ই–শিউ বলেন, এপিক্টা আয়োজন প্রযুক্তিতে তাইওয়ানের সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করছে। তাঁর মতে, শিল্প, শিক্ষা ও নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্রকে একত্রিত করে এই আয়োজন একটি শক্তিশালী উদ্ভাবনী পরিবেশ গড়ে তুলবে।
এশিয়া–প্যাসিফিক আইসিটি অ্যালায়েন্সের আন্তর্জাতিক সভাপতি ফুলভিও ইনসেরা বলেন, সদস্য অর্থনীতিগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্মার্ট প্রযুক্তির ক্রমোন্নয়ন এ অঞ্চলে নতুন উদ্ভাবনী প্রবাহ তৈরি করছে। তিনি উল্লেখ করেন, এ বছরের উচ্চ অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে ইন্ডো–প্যাসিফিক এখন প্রযুক্তিগত প্রবৃদ্ধির অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
এপিক্টা অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫–এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এ বছর বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দেশের বিভিন্ন উদ্যোগী প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা দল এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত সংগঠন থেকে বিশটি প্রকল্প এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় মনোনীত হয়েছে। এটি দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বৈচিত্র্য, উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও ধারাবাহিক অগ্রগতির সুস্পষ্ট পরিচায়ক। প্রায় অর্ধ-শতাধিক প্রতিনিধি বাংলাদেশের প্রযুক্তিখাতের বিস্তার, মানবসম্পদের দক্ষতা এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে অংশগ্রহণের উৎসাহকে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরে। দলের নেতৃত্বে আছেন এপিক্টার নির্বাহী কমিটির সদস্য আলমাস কবির, যিনি বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি অঙ্গনের অভিজ্ঞ নেতৃত্ব এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তাঁর নেতৃত্ব প্রতিনিধিদলকে নেটওয়ার্কিং, জ্ঞান বিনিময় এবং নতুন সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টিতে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
এ বছর প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতার পাশাপাশি দলীয় উপস্থাপনা, ব্যবসায়িক পরিচিতি বিনিময় এবং নতুন উদ্যোগ উন্মোচন যুক্ত করায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জন্য তাৎক্ষণিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা বাস্তবায়নের নতুন পথ উন্মুক্ত হয়েছে।