বাল্ক এসএমএস পাঠানোর আগে যে নিয়মগুলো জানা জরুরি
বাংলাদেশে বাল্ক এসএমএসের মাধ্যমে ধর্মীয় উসকানি, রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য, সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টিকারী ও আপত্তিকর কনটেন্ট পাঠানো নিষিদ্ধ। প্রতারণা, পরিচয় জালিয়াতি, জুয়া, হুমকি ও হয়রানিমূলক বার্তা পাঠানোর ক্ষেত্রেও রয়েছে আইনি বাধা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিনিষেধ।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ১৪ জুলাই ২০২৪ সালের এ২পি এসএমএস অ্যাগ্রিগেটর নির্দেশিকার ২০.৪ ধারায় চার ধরনের কনটেন্ট স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এগুলো হলো- ধর্মীয় উসকানিমূলক, রাষ্ট্রবিরোধী, সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী এবং আপত্তিকর তথ্য বা বক্তব্যযুক্ত বার্তা।
অ্যাপ্লিকেশন-টু-পার্সন (এ২পি) এসএমএসের মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার বা সিস্টেম থেকে একসঙ্গে অনেক গ্রাহকের ফোনে বার্তা পাঠানো হয়। ওটিপি, লেনদেনের তথ্য, সেবার বিজ্ঞপ্তি ও প্রচারণামূলক বার্তা এর উদাহরণ।
নির্দেশিকার ২০.৯ থেকে ২০.১১ ধারা অনুযায়ী, এসএমএস অ্যাগ্রিগেটর ও সংশ্লিষ্ট সেবাদাতাদের বার্তা যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বার্তা গ্রহণযোগ্য মনে হলেও তা অ্যাগ্রিগেটর বা মোবাইল অপারেটরের যাচাইয়ে আটকে যেতে পারে।
যেসব বার্তা পাঠানো থেকে বিরত থাকতে হবে
ধর্মীয় উসকানি ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা: কোনো ধর্ম, সম্প্রদায় বা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ায় কিংবা সংঘাতে উসকানি দেয়, এমন বার্তা পাঠানো যাবে না।
রাষ্ট্রবিরোধী ও অস্থিরতা সৃষ্টিকারী বার্তা: সহিংসতা, নাশকতা বা জনশৃঙ্খলা ভাঙতে উৎসাহ দেয় এমন কনটেন্ট নিষিদ্ধ। যাচাইহীন তথ্য ছড়িয়ে আতঙ্ক তৈরি করাও ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রতারণা ও ভুয়া পুরস্কারের বার্তা: পুরস্কার জেতার মিথ্যা দাবি, ভুয়া লিংকে প্রবেশের অনুরোধ কিংবা পাসওয়ার্ড, কার্ডের তথ্য ও ওটিপি চাওয়ার মতো বার্তা পাঠানো যাবে না।
পরিচয় জালিয়াতি: অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যাংক, সরকারি প্রতিষ্ঠান বা পরিচিত ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে এসএমএস পাঠানো যাবে না। মাস্কিং এসএমএসের ক্ষেত্রে অনুমোদিত সেন্ডার আইডি ব্যবহার করতে হবে।
জুয়া ও নিষিদ্ধ পণ্যের প্রচার: অনলাইন বেটিং, ক্যাসিনো, তামাক, নিকোটিন পণ্য, মাদক ও অবৈধ ব্যবসার প্রচারণা পাঠানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
অশ্লীল ও বয়স অনুপযোগী কনটেন্ট: অশ্লীল বিজ্ঞাপন, পর্নোগ্রাফি বা প্রাপ্তবয়স্কদের সেবার প্রচারণা এবং এসবের লিংক পাঠানো যাবে না।
হুমকি ও হয়রানি: কাউকে ভয় দেখানো, অপমান করা কিংবা বারবার বার্তা পাঠিয়ে বিরক্ত করা যাবে না। পেমেন্টের তাগাদা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ভাষা হতে হবে তথ্যনির্ভর ও সম্মানজনক।
ক্ষতিকর লিংক ও ব্যক্তিগত তথ্য: ম্যালওয়্যার, ভুয়া লগইন পেজ বা সন্দেহজনক লিংক পাঠানো যাবে না। একইভাবে পূর্ণ জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, কার্ড নম্বর, পাসওয়ার্ড, পিন ও ওটিপির মতো সংবেদনশীল তথ্য এসএমএসে চাওয়া উচিত নয়।
যেসব বার্তায় বাড়তি যাচাই প্রয়োজন
সব ধরনের প্রচারণামূলক বার্তা নিষিদ্ধ নয়। তবে আর্থিক প্রস্তাব, ঋণ, বিনিয়োগ, পুরস্কার ও ওষুধসংক্রান্ত প্রচারণার ক্ষেত্রে দাবির সত্যতা এবং প্রযোজ্য অনুমোদন যাচাই করতে হবে। ওষুধের ব্যবহার বা রোগমুক্তির বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে ঔষধ ও কসমেটিকস আইন ২০২৩ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন প্রয়োজন হতে পারে। নির্বাচনী প্রচারণার এসএমএসের ক্ষেত্রেও নির্বাচন কমিশন, বিটিআরসি ও অপারেটরের প্রযোজ্য নিয়ম মানতে হবে।
এ ছাড়া প্রচারণামূলক ও লেনদেনসংক্রান্ত এসএমএসের জন্য আলাদা রুট ব্যবহার এবং বার্তার ধরন সঠিকভাবে নির্ধারণ করা জরুরি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওটিপি, নোটিফিকেশন ও লেনদেনসংক্রান্ত বার্তা ছাড়া এ২পি এসএমএস বাংলায় পাঠানোর নির্দেশনা রয়েছে। বিশেষ ইংরেজি শব্দ, প্রচারমূলক কোড বা ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিটিআরসির পূর্বানুমতি প্রযোজ্য হতে পারে।
এসএমএস পাঠানোর আগে যা যাচাই করবেন
প্রতিষ্ঠানকে এসএমএস পাঠানোর আগে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে:
- প্রতিষ্ঠান, পণ্য ও প্রচারণা আইনসম্মত কি না।
- প্রাপক এ ধরনের বার্তা পাওয়ার সম্মতি দিয়েছেন কি না।
- সেন্ডার আইডি অনুমোদিত কি না।
- প্রচারণামূলক, লেনদেনসংক্রান্ত ও ওটিপি বার্তার জন্য সঠিক রুট ব্যবহার হচ্ছে কি না।
- বার্তার ভাষা সহজবোধ্য ও নির্দেশনা অনুযায়ী কি না।
- মূল্য, ছাড়, সময়সীমা ও প্রচারণার শর্ত সঠিক কি না।
- পাসওয়ার্ড, পিন, ওটিপি বা অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হচ্ছে কি না।
- লিংকটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ও নিরাপদ ডোমেইনের কি না।
- ডিএনডি বা ডু নট ডিস্টার্ব সংক্রান্ত নিয়ম মানা হচ্ছে কি না।
- সন্দেহজনক কনটেন্টের ক্ষেত্রে প্রচারণা শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সেবাদাতার সঙ্গে যাচাই করা হয়েছে কি না।
নিয়ম না মানলে কী হতে পারে
নিয়মবহির্ভূত বার্তা মোবাইল অপারেটর বা কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মে আটকে যেতে পারে। নীতিমালা অনুযায়ী সেন্ডার আইডি, এসএমএস রুট বা সেবাদাতার অ্যাকাউন্ট সীমিত কিংবা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। গুরুতর বা বারবার নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
অনুমতি ছাড়া সংগ্রহ করা নম্বরের তালিকায় প্রচারণামূলক বার্তা পাঠানো অভিযোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই গ্রাহকের সম্মতি, নম্বর সংগ্রহের উৎস এবং বার্তা বন্ধের অনুরোধের তথ্য সংরক্ষণ করা জরুরি।
সূত্র : ডায়ানা হোস্ট ডটকম