এখন থেকে এআই লেখা শনাক্তে অদৃশ্য সংকেত দেবে ওপেনএআই

TechWorld Desk

টেকওয়ার্ল্ড ডেস্ক

বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৬

এখন থেকে এআই লেখা শনাক্তে অদৃশ্য সংকেত দেবে ওপেনএআই

ইউরোপীয় ইউনিয়নে চ্যাটজিপিটি ও কোডেক্স দিয়ে তৈরি লেখায় অদৃশ্য জলছাপ যুক্ত করবে ওপেনএআই। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চালু হতে যাওয়া এই প্রযুক্তির মাধ্যমে এআই দিয়ে তৈরি লেখা শনাক্ত করা যাবে। তবে শুরুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্যবহারকারীদের জন্যই এ সুবিধা চালু হবে।

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এআই আইনের স্বচ্ছতা-সংক্রান্ত নিয়ম মেনে এ উদ্যোগ নিয়েছে ওপেনএআই। আইনের ৫০(২) ধারায় এআই দিয়ে তৈরি বা পরিবর্তিত কনটেন্টে যন্ত্রে পাঠযোগ্য ও শনাক্তযোগ্য চিহ্ন রাখার কথা বলা হয়েছে। এই নিয়ম ২০২৬ সালের ২ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে।

ওপেনএআইয়ের জলছাপ প্রযুক্তির নাম ‘টেক্সটগ্রেইন’। এটি লেখার মধ্যে কোনো গোপন অক্ষর বা অতিরিক্ত শব্দ যোগ করবে না। বরং এআই মডেল কোন শব্দ বেছে নিচ্ছে, সেই ধরনে সামান্য পরিবর্তন এনে একটি পরিসংখ্যানগত সংকেত তৈরি করবে। পরে নির্দিষ্ট শনাক্তকারী ব্যবস্থা ওই সংকেত খুঁজে বের করতে পারবে।

ইউরোপীয় কমিশনের স্বেচ্ছামূলক এআই স্বচ্ছতা আচরণবিধির সংশ্লিষ্ট অংশে ওপেনএআইয়ের সঙ্গে গুগল, অ্যানথ্রপিক, মেটা, মাইক্রোসফট ও মিস্ট্রালও স্বাক্ষর করেছে।

ওপেনএআইয়ের পরীক্ষায় ২০০ শব্দের লেখায় প্রায় ৮০ শতাংশ এবং ৪০০ শব্দের লেখায় প্রায় ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে জলছাপ শনাক্ত করা গেছে। তবে গণিতের মতো বিষয়ে শব্দ বাছাইয়ের সুযোগ কম থাকায় শনাক্তের হার তুলনামূলক কম।

লেখা সম্পাদনা করলে জলছাপ আরও দুর্বল হয়ে যায়। ৪০০ শব্দের লেখায় ১০ শতাংশ শব্দ সমার্থক শব্দ দিয়ে বদলালে শনাক্তের হার প্রায় ৯২ শতাংশ থেকে ৬৬ শতাংশে নেমে আসে। ২৫ শতাংশ শব্দ বদলালে তা প্রায় ১৭ শতাংশে নেমে যায়। এ কারণে শুরুতে অনুমোদিত গবেষক ও বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই জলছাপ শনাক্তের ব্যবস্থা ব্যবহারের সুযোগ দেবে ওপেনএআই।

ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের শনাক্তকারী ব্যবস্থা শুধু কোনো লেখায় জলছাপ আছে কি না, তা জানাবে। এটি ব্যবহারকারীর পরিচয়, দেওয়া নির্দেশনা বা কথোপকথনের তথ্য প্রকাশ করবে না। জলছাপকে এআই দিয়ে লেখা শনাক্তের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবেও দেখা যাবে না।

লেখা খুব ছোট হলে, সম্পাদনা বা অনুবাদ করা হলে কিংবা অন্য কোনো এআই দিয়ে তৈরি হলে জলছাপ শনাক্ত নাও হতে পারে। আবার জলছাপ না থাকলেই লেখাটি মানুষ লিখেছে, এমনটিও নিশ্চিত হওয়া যাবে না। এই প্রযুক্তি কোনো লেখায় মানুষের কতটা সম্পাদনা বা সৃজনশীলতা ছিল, কে লেখাটি তৈরি করেছেন বা এর মালিকানা কার, সেটিও নির্ধারণ করতে পারে না।

ওপেনএআই ভবিষ্যতে ‘টেক্সটগ্রেইন’ প্রযুক্তি উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, ছবি ও অডিওর উৎস শনাক্তে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রযুক্তির সঙ্গে এ ধরনের ব্যবস্থা মিলিয়ে ব্যবহার করলেই এআই কনটেন্টের উৎস শনাক্তে আরও কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হবে।

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন