বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬

ইনোভেশন ফেয়ারে পরিবেশবান্ধব নানা প্রযুক্তির প্রদর্শনী

TechWorld Desk

টেকওয়ার্ল্ড ডেস্ক

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৫৭

ইনোভেশন ফেয়ারে পরিবেশবান্ধব নানা প্রযুক্তির প্রদর্শনী
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে চলছে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার। ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ মেলায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ৭৩টি বিশ্ববিদ্যালয়, উদ্ভাবক ও গবেষকেরা বিভিন্ন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন প্রদর্শন করছেন। মেলায় সৌরবিদ্যুতে চলা যাত্রীবাহী গাড়ি ‘সান কার’ ও কৃষিকাজে ব্যবহারের উপযোগী ‘সোলার সেচ’ পাম্প দর্শনার্থীদের আগ্রহ তৈরি করেছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মেলায় প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতের উদ্ভাবনী উদ্যোগ তুলে ধরা হচ্ছে।

সৌরবিদ্যুতে চলবে যাত্রীবাহী গাড়ি

যাত্রীবাহী অটোরিকশার বিকল্প হিসেবে চার চাকার ‘সান কার’ তৈরি করেছে ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ। চালকসহ তিনজন যাত্রী বহনে সক্ষম গাড়িটি চলার সময় সূর্যের আলো ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ করতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান ইমরান চৌধুরী বলেন, সূর্যের আলোতে চলার পাশাপাশি আলো না থাকলেও গাড়িটি প্রায় পাঁচ ঘণ্টা চলতে পারবে। প্যাডেলচালিত ও বিদ্যুৎচালিত রিকশার বিকল্প হিসেবে গাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। চার চাকার হওয়ায় এটি তুলনামূলকভাবে কম দুর্ঘটনাপ্রবণ বলেও জানান তিনি।

ইমরান চৌধুরীর ভাষ্য, গাড়িটি তৈরিতে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

সৌরবিদ্যুতে সেচ পাম্প

ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) শিক্ষার্থীরা মেলায় বৈদ্যুতিক মোটরবাইক ও গাড়ির পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতে চলা ‘সোলার সেচ’ পাম্প প্রদর্শন করছেন। কৃষিজমিতে সেচ দেওয়ার কাজে ব্যবহারের জন্য পাম্পটি তৈরি করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির খণ্ডকালীন প্রভাষক ইমতিয়াজ আবেদীন বলেন, পাম্পটির মাধ্যমে প্রতি ২০ সেকেন্ডে ৫০০ লিটার পানি উত্তোলন করা যায়।

অন্যান্য উদ্ভাবন

মেলায় সামরিক প্রযুক্তির একটি প্রোটোটাইপও প্রদর্শন করছে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)। ‘চৌকস প্রহরী’ নামের এ প্রোটোটাইপে ক্যামেরা রয়েছে এবং এটি দূর থেকে পরিচালনা করা যায় বলে জানিয়েছেন এমআইএসটির সাইবার নিরাপত্তা গবেষক জাওয়াদুর রহমান।

দুর্গম সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও নিরাপত্তার কাজে এ ধরনের প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে তিনি কথা বলেন। তাঁর ভাষ্য, ‘চৌকস প্রহরী’ স্বয়ংক্রিয়ভাবে অথবা মানুষের সহায়তায় পরিচালনা করা সম্ভব।

পরিবেশবান্ধব পণ্য নিয়েও রয়েছে উদ্ভাবন। ‘শূন্য’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান আখের ফেলে দেওয়া অংশ বা ছোবড়া ব্যবহার করে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লেট ও গ্লাস তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা আকিল আহমেদ বলেন, এসব পণ্যের দাম প্লাস্টিকের তৈরি প্লেট ও গ্লাসের কাছাকাছি হলেও এগুলো পরিবেশবান্ধব।

মেলায় শুধু উদ্ভাবন প্রদর্শন নয়, বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা, সংলাপ, অধিবেশন ও গোলটেবিল বৈঠকেরও আয়োজন করা হচ্ছে। এসব আয়োজনে গবেষণা, প্রযুক্তির ব্যবহার, বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা তৈরি এবং উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিকভাবে সফল করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে।

মেলার দ্বিতীয় দিন (আজ) স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে।

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন