প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের নতুন ঠিকানা হয়ে উঠছে সুইডেন
স্পটিফাই ও ক্লারনার মতো বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্ম সুইডেনে। এবার লেগোরা, লাভেবল, নেকো হেলথ ও আইনরাইডের মতো নতুন প্রজন্মের প্রতিষ্ঠানের উত্থানে দেশটি আবারও ইউরোপের আলোচিত প্রযুক্তি কেন্দ্র হয়ে উঠছে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, আগের প্রজন্মের সহায়তা এবং বিদেশি বিনিয়োগের কারণে সুইডেনের স্টার্টআপ খাত দ্রুত এগোচ্ছে। টেকক্রাঞ্চের এক প্রতিবেদনে দেশটির স্টার্টআপ খাতের এই অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমকে ঘিরেই দেশটির স্টার্টআপ কার্যক্রমের বড় অংশ গড়ে উঠেছে। আইনগত সেবা খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা লেগোরা এবং নতুন ধরনের সফটওয়্যার তৈরির প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা লাভেবল সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় এসেছে। স্বাস্থ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নেকো হেলথ এবং স্বয়ংক্রিয় পণ্য পরিবহন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইনরাইডও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে।
ইউরোপের নতুন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান চেরি ভেঞ্চারসের অংশীদার সোফিয়া বেন্ডজের মতে, সুইডেনে উদ্যোক্তা হওয়া এখন তরুণদের কাছে আকর্ষণীয় পেশা। তিনি আগে স্পটিফাইয়ে কাজ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, আগে তরুণদের কাছে ব্যাংক বা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানে চাকরি বেশি আকর্ষণীয় ছিল। এখন অনেকেই নিজের প্রতিষ্ঠান গড়ে স্বাধীনতা ও আর্থিক সাফল্য অর্জন করতে চাইছেন।
নতুন প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ডিলরুমের হিসাবে, চলতি বছর সুইডেনের স্টার্টআপ খাতে ২৮০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ এসেছে। বছর শেষে তা অন্তত ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। গত বছর বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৩২০ কোটি ডলার। তবে ২০২১ সালের ৮৫০ কোটি ডলারের রেকর্ড এখনো ছাড়াতে পারেনি দেশটি। ওই সময় বিশ্বজুড়ে নতুন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের প্রবণতা তুঙ্গে ছিল। পরে বাজারে মন্দা এলেও এখন আবার বিনিয়োগ বাড়ছে।
সুইডেনের বর্তমান সাফল্যের পেছনে আগের প্রজন্মের উদ্যোক্তাদেরও ভূমিকা রয়েছে। সফল উদ্যোক্তারা নতুনদের অর্থ, পরামর্শ ও অভিজ্ঞতা দিয়ে সহায়তা করছেন। কেউ কেউ আবার নতুন প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলছেন। স্পটিফাইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ড্যানিয়েল একের নেকো হেলথ এমন একটি উদাহরণ।
বেন্ডজের মতে, লাভেবল ও লেগোরার মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করা কর্মীদের মধ্যেও নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ একটি সফল স্টার্টআপের কর্মীরাই পরবর্তী সময়ে উদ্যোক্তা হয়ে নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরি করছেন। এভাবে এক প্রজন্মের সাফল্য পরের প্রজন্মের উদ্যোক্তা তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।
সুইডেনের এই সাফল্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বেড়েছে। অনেক মার্কিন বিনিয়োগকারী এখন স্টকহোমে গিয়ে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং নতুন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিচ্ছেন। বেন্ডজের মতে, সুইডেনে একের পর এক ভালো প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা দেশটির প্রযুক্তি খাতের সক্ষমতারই প্রমাণ।
ফলে স্পটিফাই ও ক্লারনার মতো পুরোনো সফল প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের স্টার্টআপগুলোও সুইডেনকে ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।