এআই ও সাইবার নিরাপত্তায় বিনিয়োগ বাড়াতে চায় অ্যামচেম

TechWorld Desk

টেকওয়ার্ল্ড ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ১৭:০০

এআই ও সাইবার নিরাপত্তায় বিনিয়োগ বাড়াতে চায় অ্যামচেম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামালের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা

বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, ক্লাউড প্রযুক্তি ও ডিজিটাল উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)। এসব খাতে বিনিয়োগের পাশাপাশি ডিজিটাল গভর্ন্যান্সের কার্যকর বাস্তবায়ন, নিয়ন্ত্রক কাঠামোর স্পষ্টতা এবং সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।

অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি ও মাস্টারকার্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামালের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার (১১ আগস্ট ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশের পাশাপাশি ডিজিটাল অর্থনীতি, এআই, সাইবার নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়।

অ্যামচেম জানায়, ১৯৯৬ সাল থেকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে কাজ করছে তারা। সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে দেশের কর রাজস্বে ২০ শতাংশের বেশি অবদান রাখে। এসব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। আগামী পাঁচ বছরে আরও ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আনতে সহায়ক ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সংগঠনটি। এ জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরিতে সরকারের অংশীদারত্ব চেয়েছে অ্যামচেম।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের সংস্কার প্যাকেজের আওতায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে অ্যামচেম। নির্ধারিত সময়ে অনুমোদন ও লাইসেন্স দেওয়া, সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন, কমপ্লায়েন্সের চাপ কমানো, মূলধন ও মুনাফা প্রত্যাবাসন এবং কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগের প্রশংসা করেছে তারা। অগ্রাধিকার খাতে দীর্ঘমেয়াদি নীতির স্পষ্টতা ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।

ডিজিটাল গভর্ন্যান্সে পিডিপিএ ও এনডিজিএ প্রণয়নকে স্বাগত জানিয়েছে অ্যামচেম। এগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের পাশাপাশি এআই গ্রহণের প্রস্তুতি, সাইবার নিরাপত্তায় সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো স্পষ্ট করার ওপর জোর দিয়েছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোকে কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছে অ্যামচেম। এর আওতায় প্রযুক্তি, এআই ও ডিজিটাল উদ্ভাবন, ক্লাউড প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তাসহ স্বাস্থ্যসেবা, জীবনবিজ্ঞান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত উৎপাদনব্যবস্থা এবং আর্থিক খাতের আধুনিকায়নে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলেছে সংগঠনটি।

ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য একটি ডিজিটাল ইকোনমি অ্যাডভাইজরি ফোরাম বা টাস্কফোর্স এবং একটি পাবলিক-প্রাইভেট কম্পিটিটিভনেস কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে অ্যামচেম। এসব প্ল্যাটফর্মে সরকার, ব্যবসায়ী সমাজ, বিদেশি বিনিয়োগকারী ও অ্যামচেমের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। ব্যবসার প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা, সংস্কার বাস্তবায়ন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে এগুলো কাজ করবে।

প্রধানমন্ত্রী অ্যামচেমের সম্পৃক্ততাকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক রূপান্তরের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং দেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। সংস্কারের কার্যকর বাস্তবায়ন, নীতির স্পষ্টতা ও ধারাবাহিকতা, দক্ষ প্রশাসন এবং ব্যবসায়ী সমাজের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সহযোগিতা গভীর করতে অ্যামচেমের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন প্রধানমন্ত্রী।

সাক্ষাৎকালে অ্যামচেম বাংলাদেশ ও বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের যৌথ আয়োজনে ৩০তম ইউএস ট্রেড শোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান অতিথি হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়।

বৈঠকে সরকারের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন উপস্থিত ছিলেন।

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন